এনায়েত তাহসীন

ইসলামী ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও বিশুদ্ধ বিশ্বাসের লালন ও বিকাশে স্বতন্ত্র মাদ্রাসা শিক্ষার প্রয়াস কারও অজানা নয়। এ সম্পর্কে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিসি ড. এমাজউদ্দীন আহমদ স্যারের মন্তব্যটি স্মরণ রাখা যায়; ‘মাদ্রাসা শিক্ষার একটা গৌরবজনক অধ্যায় রয়েছে। উপমহাদেশে যখন মুসলিম শাসন প্রতিষ্ঠিত হয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো তখন মক্তব-মাদ্রাসা নামে পরিচিত ছিল। ১৮৩৫ সালে লর্ড মেকলে কমিশনের পর আমরা জানতে পেরেছি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় শব্দগুলো। মাদ্রাসা লেখাপড়ার মান উন্নত ছিল। কোরআন হাদিসের পাশাপাশি ইতিহাস, দর্শন, বিজ্ঞানের বিভিন্ন দিক পড়ানো হতো। মাদ্রাসা থেকে বেরিয়েছেন এ উপমাদেশের বহু জ্ঞানীগুণী ব্যক্তি। তারা রাজনীতির ক্ষেত্রে, সমাজসেবার ক্ষেত্রে, ইতিহাস রচনার ক্ষেত্রে অথবা কবি-সাহিত্যিক হিসেবে স্বনামধন্য। তাদের নাম বলে শেষ করা যাবে না। দেওবন্দ মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা হওয়ার পর কওমি মাদ্রাসার প্রচলন হয়। এ মাদ্রাসা ছাত্রদের অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী করে গড়ে তোলার ঐতিহ্য রয়েছে। পরাধীন ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম অথবা বিভিন্ন পর্যায়ে জনস্বার্থে রক্ষার আন্দোলনে কওমি মাদ্রাসার বড় ভূমিকা ছিল। দেশের একটি বিশাল শিক্ষার্থীর অংশ এখনও কওমি মাদ্রাসা থেকে আলো পায়। আমি আজকের লেখাটির প্রতি মনোযোগী হওয়ার কারণ হল; কওমি শিক্ষার্থীরা কীভাবে আধুনিক সমাজের আবিষ্কার ও অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে দাওয়াত ও তাবলিগ, ইসলামী সমাজ, সভ্যতা, সংস্কৃতি বিকাশ এবং জাতীয় অগ্রগতিতে ভূমিকা রাখতে পারে তা নিয়ে কিঞ্চিত আলোকপাত করা। আমি নিতান্ত ভালোবাসা ও আন্তরিকতা থেকেই বলছি। আমিও এ ধারায় পড়েছি বলে একে আমি হৃদয়ের ভেতরে অনুভব করি। একবিংশ শতাব্দীর বিশ্বায়নের যুগে দাঁড়িয়ে সমকালীন বাস্তবতাকে কোনোভাবেই এড়িয়ে যাওয়ার অবকাশ নেই। এ শতকের চ্যালেঞ্জ বহুমাত্রিক। মাদ্রাসা শিক্ষার বাইরে ও রয়েছে আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের এক ব্যাপক দিগন্ত। যুগ চাহিদা ও সমকালীন বাস্তবতাকে এড়িয়ে কোনো জাতি সম্মুখে অগ্রসর হতে পারে না। আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞানের নানাদিক যেমন- ভূগোল, মহাকাশবিজ্ঞান, গণিতশাস্ত্র, সমাজবিজ্ঞান, রাজনীতিবিজ্ঞান, আইন, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, জ্যোর্তিবিজ্ঞান, রসায়ন ও পদার্থবিজ্ঞান, মৃত্তিকাবিজ্ঞান, পরিবেশবিজ্ঞান, মানববিদ্যা, গবেষণা ও তাত্ত্বিকজ্ঞান, পরিসংখ্যান, বিশ্বসাহিত্য, তথ্য ও প্রযুক্তি ইত্যাদি বিষয়ে জ্ঞানার্জনের জন্য কওমি শিক্ষার্থীরাও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পারেন। তারা ও উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে সমাজ ও রাষ্ট্রের মূল কাঠামোর সঙ্গে নিজেকে সম্পৃক্ত করতে পারেন। মানবসেবা ও দীনি খিদমত করে বিশ্বদরবারে নিজেদের যোগ্যতার স্বাক্ষর রাখতে পারেন এবং কওমি মাদ্রাসার ওপর আনীত নানারকম অপবাদের দিতে পারেন সমোচিত জবাব। তবে এ ক্ষেত্রে কারও কারও ধারণা অতি সংকীর্ণ। তারা মনে করেন, আলেম সমাজের জন্য কলেজ-বিশ্বদ্যিালয়ে পড়া অমর্যাদাকর। তখন আমি কলেজে পড়তাম। আগে কওমি মাদ্রাসা থেকে ‘দাওয়ায়ে হাদিস’ সমাপনী পরীক্ষার মাধ্যমে এ ধারার ইতি টানি। চলতে পথে আমার এক কওমি সহপাঠীর সঙ্গে দেখা। কলেজে পড়ি শুনে প্রিয় বন্ধুটি আমাকে একটি ফারসি কবিতার পক্সিক্ত শুনাল, ‘আবে জমজম খোরদা বুদাম/আবে শোরা কায় কুনাম যার অর্থ- হে বন্ধু, এতদিন তুমি জমজম পানি পান করে এখন কিনা নোংরা পানি গিলছ প্রিয় বন্ধুর মুখে এ পক্সিক্তটি শুনে আমি খানিকটা বিস্মিত হই। তার মর্মতলে লুকিয়ে থাকা সঙ্কুচিত ধারণা ও ভ্রান্তবোধ আমাকে ভাবিয়ে তোলে। ইসলামতো কোনো খণ্ডিত জীবনাচারের ধর্ম নয়। এটি একটি পরিপূর্ণ জীবন ব্যবস্থার নাম। ইসলাম কখনও কূপমণ্ডুকতার চর্চাকে সমর্থন করে না। সুতরাং আলেম সমাজের জন্য আধুনিক জ্ঞান-বিজ্ঞান অস্পৃশ্য এমন ধারণা অবশ্যই অকল্যাণকর। কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়েও আত্মাকে পরিশুদ্ধ রাখা যায় এবং ইসলামী ঐতিহ্যের লালন করা যায়। প্রসঙ্গত এক সময় মুসলমানরা কোরআন, হাদিস, ফিক্হ ও দর্শন শাস্ত্রচর্চার পাশাপাশি ভূগোল, জ্যোর্তিবিদ্যা, পদার্থ, চিকিৎসাবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত, প্রভৃতি বিষয়ে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে সক্ষম হন। তদানীন্তনকালে মুসলমানরা বিজ্ঞান ও চিকিৎসা শাস্ত্রে এত বেশি উন্নতি করেন যে, ইবনে সিনা লিখিত ‘কানুন আল মাস’উদী (আরপবহধ’ং ঈধহহড় ড়ভ গবফরপরহব) ইউরোপের বিভিন্ন মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠ্যগ্রন্থ হিসেবে অন্তর্ভুক্তি লাভ করে। ধর্মীয় ইলমের চর্চা ও আধুনিক জ্ঞান গবেষণায় অবদান রেখে বিশ্বময় খ্যাতি লাভ করেন আল ফারাবি, আল গাযালি, ইবন তাইমিয়া, আল বেরুনি, আল-কিন্দি ও ওমর খৈয়ামের মতো পাণ্ডিত্যরা। আধুনিক বিশ্বব্যবস্থার জীবন প্রবাহের গতিধারা উপলব্ধি করে সুস্থ চিন্তার অধিকারী নৈতিক ও আত্মিক অনুভূতি সম্পন্ন কওমি শিক্ষার্থীরাও যদি বিজ্ঞান প্রযুক্তির সঙ্গে সম্পৃত্ত হয়; তবে ইসলাম ও দেশের উন্নতিতে উত্তোরত্তর শ্রী বৃদ্ধি পাবে এবং সমাজ ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে ইসলামী আবহ সৃজিত হবে। লেখক : শিক্ষার্থী, বিএ (অনার্স), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়"/>
Fatal error: Uncaught Error: Call to undefined function get_youtube_thumb() in /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/functions.php:41 Stack trace: #0 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/class-wp-hook.php(287): og_meta_tags('') #1 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/class-wp-hook.php(311): WP_Hook->apply_filters(NULL, Array) #2 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/plugin.php(478): WP_Hook->do_action(Array) #3 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/general-template.php(3009): do_action('wp_head') #4 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/header.php(7): wp_head() #5 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/template.php(730): require_once('/home/designgh/...') #6 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/template.php(676): load_template('/home/designgh/...', true, Array) #7 /home/designgh/domains/a in /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/functions.php on line 41