ঢাকা: ঈদের অগ্রিম টিকিট পেতে দুপুরের তপ্ত রোদ ও হঠাৎ বৃষ্টি উপেক্ষা করেই দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে প্রতীক্ষা করতে দেখা যায় টিকিট প্রত্যাশীদের। কতক্ষণে ধরা দেবে ‘সোনার হরিণ’ বাসের টিকিট তা জানেন না তারা। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ৬ টাকা থেকে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বাস কাউন্টারগুলো।   রাজধানীর গাবতলী বাস টার্মিনাল, মাজার রোড, কল্যাণপুর এবং শ্যামলীতে পাওয়া যাচ্ছে বিভিন্ন রুটের বাসের টিকিট। ১৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২৪ সেপ্টেম্বরের অগ্রিম টিকিট বিক্রি হচ্ছে কাউন্টারগুলোতে। প্রতিটি কাউন্টারে রয়েছে নারীদের জন্য পৃথক লাইন।
দেশের প্রায় প্রতিটি রুটে বাস চলাচলকারী হানিফ এন্টারপ্রাইজের কাউন্টারেই ভিড় সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। হানিফ পরিবহনের গাবতলী বালুর মাঠ কাউন্টার থেকে বিক্রি হচ্ছে রাজশাহী, দিনাজপুর, নাটোর, রংপুর, সিরাজগঞ্জ, কক্সবাজার, জয়দেবপুরসহ বিভিন্ন রুটের টিকিট।
শুক্রবার ভোরের আলো ফুটে ওঠার আগে থেকেই কাউন্টারের সামনে হাজার খানেক মানুষের ভিড় দেখা যায়। বেলা গড়িয়ে দুপুর গড়ালেও সেই একই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তবে যারা রাত জেগে বসেছিলেন তাদের বেশির ভাগই টিকিট পেয়ে ফিরে গেছেন। যারা পাননি, যারা নতুন করে এসেছেন তাদের দেখা যায় তীব্র রোদে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে। রোদ শেষে হঠাৎ নামা বৃষ্টিও টিকিট প্রত্যাশীদের সরাতে পারেনি কাউন্টার থেকে।
কাউন্টারের সামনে টিকিট প্রত্যাশী যাত্রী কামরুল ইসলামের সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। তিনি বলেন, রাজশাহীর টিকিটের জন্য সকাল ৭টার আগে এসেছি, এখনও লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, টিকিট পাবো কি না জানি না। শুনছি ২২ ও ২৩ তারিখের টিকিট বিক্রি শেষ। তারপরেও অপেক্ষা করছি যদি অন্যদিনের টিকিট নিতে পারি।
মাজার রোডের সোহরাব পেট্রোল পাম্পের পাশে টিআর ট্রাভেলসের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। বেলা ৩টার দিকে গিয়েও দেখা যায় টিকিট প্রত্যাশী যাত্রীদের ভিড়। তবে এখানে সকালের চাইতে ভিড় অনেকটাই কম।
কাউন্টারে খোঁজ নিয়ে জানা যায় টিকিট প্রায় শেষ। এই পরিবহনের বাসের সংখ্যা অন্য পরিবহনের চেয়ে অনেক কম। তাই অল্প সময়ের মধ্যেই তাদের টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে বলে জানান কাউন্টার মাস্টার মিন্টু।
তিনি বলেন, যারাই টিকিট নিতে আসে সবাই ২২, ২৩ তারিখের টিকিট চায়। তাই এই দুদিনের টিকিট সকালেই শেষ হয়ে গেছে। এখন অন্য দিনের টিকিট বিক্রি চলছে। যাত্রীদের যে চাপ দেখছি তাতে আগামীকালই আমাদের সব টিকিট শেষ হয়ে যাবে।
কল্যাণপুরে ডিপজল পরিবহনের কাউন্টারের সামনে দেখা যায় কয়েক শ’ টিকিট প্রত্যাশী যাত্রী কড়া রোদের মধ্যে লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। রোদ থেকে বাঁচতে কেউ কেউ মাথায় উপর পেপার ধরে রেখেছেন।
হানিফ এন্টারপ্রাইজের জেনারেল ম্যানের (জিএম) মো. মোশাররেফ হুসাইন বাংলানিউজকে বলেন, ২২ ও ২৩ বাদে আমাদের টিকিট আছে। অন্যসব দিনের টিকিট এখনও ৫০ শতাংশ অবিক্রিত, আশা করি শনিবার ও রোববারের মধ্যেই সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাবে।