আব্দুন নূর তুষার : সরকারের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষার্থী কেন বেশি মূল্য দিয়ে শিক্ষা নেবে আর কর দেবে মূল্য সংযোজন কর হলো উৎপাদনের বা বিপননের বিভিন্ন ধাপে বিভিন্ন পণ্যের হাতবদলের সাথে সাথে যে মূল্য বাড়ে তার ওপরে কর। কোনো কোনো দেশে একে সেলস ট্যাক্সও বলে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দেওয়া শিক্ষা খরচের ওপরে সরকার মূল্য সংযোজন কর আরোপ করেছে। ১. শিক্ষা সুযোগ নয় বরং সাংবিধানিক অধিকার। সমান খরচে দেশে সবার জন্য শিক্ষার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। ২. রাষ্ট্র এতে ব্যর্থ হয়ে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালেয়ের অনুমোদন দিয়েছে যা বিভিন্ন সময়ে পেয়েছে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গ। ৩. শিক্ষা কি পণ্য? শিক্ষার মাধ্যমে কোথায় মূল্য সংযোজিত হয়? শিক্ষা কি মানুষের মূল্য বাড়ায়? নাকি শিক্ষা নিজের মূল্য বাড়ায়? এই কর তাহলে কার মূল্য সংযোজনের ওপরে ধরা হচ্ছে? ৪. যদি শিক্ষা পণ্য হয়ে থাকে তবে সকল শিক্ষাই পণ্য। তাহলে সরকারি পণ্য কর নেই, কেবল বেসরকারি পণ্যে কর, এটি মূল্য সংযোজন করের নীতিবিরুদ্ধ। ৫. একই ধরনের শিক্ষার মূল্য কি নির্ধারিত? যদি তাই হয় তবে বেসরকারি প্রাইমারি স্কুলে বা কিন্ডার গার্টেনে যদি কর দিতে হয়, সরকারিটাতে দিতে হবে না কেন? মানুষ তো বাধ্য হয়ে বেসরকারি সেবা কেনে। কারণ সরকার যথেষ্ট পরিমাণে শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি প্রতিষ্ঠানে আসন দিতে পারে না। সরকারের ব্যর্থতার জন্য শিক্ষার্থী কেন বেশি মূল্য দিয়ে শিক্ষা নেবে আর কর দেবে? ৬. এটা ভাবার কোনো কারণ নেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে বা অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে শুধু বড়লোকের সন্তানেরা পড়ে। প্রচুর মানুষ ধারদেনা করে ছেলেমেয়েদের সেখানে ভর্তি করে, কারণ সরকারি প্রতিষ্ঠান তাদের জায়গা দিতে পারে না। ৭. কোনটি বেশি প্রয়োজন? ব্রিজ, কালভার্ট, ফ্লাইওভার, নাকি শিক্ষা? একটি ব্রিজের ওপর দিয়ে গাধা পার করা বেশি জরুরি, নাকি শিক্ষিত মানুষ? রাষ্ট্র যদি চায় ২০৪১ সালে প্রকৃত শিক্ষিত মানুষেরা দেশের নেতৃত্ব দিক তবে চাই শিক্ষার বিস্তার। চাই সহজতম উপায়ে সূলভ শিক্ষা। শিক্ষাকে ব্যবসা এবং বিশ্ববিদ্যালয়কে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান মনে করা অশিক্ষার পরিচায়ক। সকল ধরনের শিক্ষার ওপরে অবিলম্বে কর প্রত্যাহার করা হোক।

লেখক : মিডিয়া ব্যক্তিত্ব