বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে সাত শতাংশ ভ্যাট (মূসক) প্রত্যাহার করা হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শাহেদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতে যে ভ্যাট আরোপের প্রস্তাব করেছিলেন অর্থমন্ত্রী, তা প্রত্যাহার করা হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, শিক্ষার প্রতি আগ্রহী দেশের সকল স্তরের মানুষ নির্দিষ্ট সামর্থ্যের মধ্যেও ছেলে-মেয়েদের শিক্ষার জন্য প্রচুর অর্থ ব্যয় করছেন। বর্তমানে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের টিউশন ফিতে মূসক আরোপিত থাকলেও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিতে মূসক আরোপিত নেই। ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের পাশাপাশি এ খাতগুলোকেও মূসকের আওতায় আনা প্রয়োজন।
তবে করভার সহনীয় পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এক্ষেত্রে সংকুচিত মূল্যভিত্তিতে বাজেটে ১০ শতাংশ মূসক নির্ধারণের প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী। বাজেট পাসের সময়  প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এ মূসকের হার নির্ধারণ করা হয় সাড়ে ৭ শতাংশ। বাজেট পাস হয়েছে গত জুন মাসে। প্রায় তিন মাস পর এ মূসক নিয়ে কতিপয় ছাত্র-ছাত্রী আন্দোলনে নেমেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, যারা বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনেক খরচ করে শিক্ষা গ্রহণ করছেন, তারা এজন্য অতিরিক্ত সাড়ে ৭ শতাংশ ভ্যাট দিতে চান না। এ জন্য তারা ক্লাস ছেড়ে দিয়েছেন, বিভিন্ন জায়গায় সমাবেশ করে জনজীবন বিঘ্নিত করছেন এবং উন্নয়নের যাত্রাপথে বাধার সুযোগ করে দিচ্ছেন।
শিক্ষাঙ্গনে কোনো প্রতিবন্ধকতা ও জনজীবনে অসুবিধা সৃষ্টি হয় এমন কোনো কর্মসূচি সরকার কখনোই চায় না। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে বিবেচনা করে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের ওপর যে সাড়ে ৭ শতাংশ মূসক আরোপ করা হয়েছিল তা প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার ।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ব্যক্তি মালিকানা খাতের প্রতিষ্ঠানে শিক্ষা ব্যয়বহুল। শিক্ষাখাত প্রধানমন্ত্রীর কাছে সবচেয়ে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাত। প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাস যে, জাতিকে শিক্ষা দিলেই দেশের উন্নয়নের পথে অগ্রযাত্রা দ্রুতগতি লাভ করে। শিক্ষার উন্নয়নের জন্য সরকার প্রায় ৩৩ কোটি পাঠ্যপুস্তক বিনামূল্যে প্রদান করে। প্রচুর ছাত্র-ছাত্রীকে বৃত্তি প্রদান করে, খাদ্য সহায়তা দেয় এবং শিক্ষক সৃষ্টিতে ব্যাপক অবদান রাখে।
সরকার আশা করে যে, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষকরা আন্দোলন বন্ধ করে শিক্ষাঙ্গনে ফিরে যাবেন এবং দেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টির সুযোগ দেবেন না।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল এবং ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি’র ওপর সাড়ে ৭ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপ করে গত ৪ জুলাই জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) আদেশ জারি করে। এর পর থেকে ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
‘নো ভ্যাট অন এডুকেশন’ স্লোগানে গত বুধবার (০৯ সেপ্টেম্বর) থেকে রাজধানীর বিভিন্ন সড়ক অবরোধ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন শুরু করেন প্রায় সব বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। মাঝে দু’দিন বিরতি দিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ও সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ফের রাজপথ অবরোধ করে দাবির পক্ষে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন শিক্ষার্থীরা। এর ফলে গোটা রাজধানীতে কার্যত অচলাবস্থার সৃষ্টি হলে চরম দুর্ভোগে পড়েন নগরবাসী।
ঢাকার বাইরেও বিভিন্ন স্থানে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা ভ্যাট প্রত্যাহারের দাবিতে বিক্ষোভ-সমাবেশসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করে আসছিলেন।
ভ্যাট প্রত্যাহারের সরকারি ঘোষণার পর পরই অবরোধ তুলে নেন আন্দোলনরত বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।