আমাদের কথা ডেস্ক :

অবশেষে দীর্ঘ ১০ বছর অপেক্ষার পর সাবেক অর্থমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগ নেতা শাহ্ এ এম এস কিবরিয়াসহ চাঞ্চল্যকর ৫ হত্যা মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। গতকাল সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে মামলার অভিযোগ পত্র গ্রহণের মাধ্যমে এ বিচার কার্যক্রম শুরু করা হয়। সাক্ষ্য গ্রহণ তারিখ নির্ধারণ করা হয় আগামী ২১ সেপ্টেম্বর। গতকাল রবিবার ১৩ সেপ্টেম্বর দুপুর ১টা ৫৫ মিনিটে ৩২ আসামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ (চার্জ) গঠন শেষে এ দিন ধার্য করেন সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক মকবুল আহসান। ৩২ আসামীর মধ্যে বর্তমানে কারাগারে আছেন ১৪ জন। ৮ জন জামিনে এবং হারিস চৌধুরীসহ ১০ আসামী এখনো পলাতক। চার্জ গঠনকালে সকালে সিলেট কারাগার থেকে ১৪ আসামীকে দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে হাজির  করা হয়। তারা হলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সাময়িক বরখাস্তকৃত মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাময়িক বরখাস্তকৃত ও হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক মেয়র জি কে গউছ, সৈয়দ আবু নাইম আহমেদ নিপু, রিপন, মাজেদ ভাট ওরফে ইউসুফ ভাট, শরীফ শাহেদুল আলম বিপুল, বদরুল আলম মিজান, মিজানুর রহমান মিজান ওরফে মিটু, মুফতি মঈন উদ্দিন ওরফে আবু জান্দাল, মাওলানা শেখ ফরিদ, মাওলানা আব্দুস সালাম ও মহিবুল্লাহ অভি। আর মামলায় জামিনে আছেন ৮ আসামি। চার্জগঠনের সময় আদালতে তারা উপস্থিত ছিলেন। জামিনে থাকা আসামীরা হলো, হবিগঞ্জ জেলা বিএনপি’র সাবেক নেতা এ কে এম আব্দুল কাইয়ুম, মোঃ জমির আলী, জয়নাল আবেদীন, সাহেদ আলী, আয়াত আলী, সেলিম মিয়া, জয়নাল ওরফে মুমিন ও জালাল উদ্দিন। এছাড়া পলাতক রয়েছেন, বিএনপি চেয়ারপার্সনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আব্দুল হাই, হাফেজ মাওলানা ইয়াহ হিয়া, মোঃ কাজল মিয়া, আব্দুল জলিল, মোঃ আলী, বজলুল ওরফে বজলুর, আলহাজ মাওলানা তাজ উদ্দিন ও মুহিবুর রহমান। গতকাল রবিবার ছিলো এ হত্যা মামলার চার্জ গঠন শুনানির জন্য নির্ধারিত দশম দিন। এর আগে ৯টি ধার্য দিনেও শুনানি শুরু করা যায়নি। পর পর ৯টি ধার্য তারিখের কোনোটিতে আরিফুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হয়নি। যে কারণে বার বার পিছিয়ে পড়েছিল চাঞ্চল্যকর ওই হত্যা মামলার চার্জ গঠন। মামলার শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ছিলেন, সিলেট জেলা আদালতের পিপি (পাবলিক প্রসিকিউটর) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ, হবিগঞ্জের জেলা দায়রা জজ আদালতের পিপি এম আকবর হোসেইন জিতু, দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের পিপি কিশোর কুমার কর প্রমুখ। এছাড়া আসামীপক্ষে শুনানিতে অংশ নেন এডঃ মোঃ লালা, এডঃ নুরুল হক, এডঃ আশিক আহমদ, এডঃ নোমান মাহমুদ, এডঃ আঃ গাফফার, এডঃ এমদুল্ল্যাহ শহিদুল ইসলাম শাহিনসহ প্রায় অর্ধশত আইনজীবী। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সিলেট জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ বলেন, চাঞ্চল্যকর কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচার ১৩৫ কার্যদিবসের মধ্যে সম্পন্নের সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, চার্জ গঠনের মাধ্যমে অবশেষে চাঞ্চল্যকর এ হত্যা মামলার বিচারের প্রক্রিয়া আরো একধাপ এগিয়ে গেলো। মামলাটির সর্বমোট সাক্ষী ১৭১ জন। তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, মুফতি হান্নানসহ সকলেই কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বলেও দাবি করেন তিনি। চার্জগঠনের পর আরিফুল হক চৌধুরীর সুচিকিৎসা নিশ্চিতের জন্য ঢাকায় অথবা দেশের বাইরের কোনো হাসপাতালে প্রেরণের আবেদন করেন তার আইনজীবী মোহাম্মদ লালা। অবশ্য আবেদনটি বিবেচনায় রেখে আদালতের বিচারক ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আরিফের অসুস্থতার বিষয়ে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দিয়েছেন। তার চিকিৎসা নিশ্চিত করতেই আদালতের বিচারক সম্মতি দেবেন বলে সাংবাদিকদের কাছে আশাবাদ ব্যক্ত করেন মোহাম্মদ লালা।
সকালে আরিফুল হক চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হলে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সেখানে জড়ো হয়ে স্লোগান দিতে থাকেন।
উল্লেখ্য, ২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জের বৈদ্যেরবাজারে স্থানীয় আওয়ামীলীগ আয়োজিত ঈদ পরবর্তি জনসভা শেষে ফেরার মূহুর্তে গ্রেনেড হামলায় আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়াসহ পাঁচজন নিহত হন। গ্রেনেড হামলার এ ঘটনায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। এ মামলায় গত বছরের ২১ ডিসেম্বর ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে আদালতে সম্পূরক চার্জশিট দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডি সিলেট জোনের তৎকালিক সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। মামলায় আসামি হওয়ায় এ বছরের ৭ জানুয়ারি সিলেট সিটি মেয়র পদ থেকে আরিফুল হক চৌধুরী ও হবিগঞ্জ পৌর সভার মেয়র জি কে গউছকে তাদের মেয়র পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। গত ১১ জুন মামলাটি বিচারের জন্য হবিগঞ্জের আদালত থেকে সিলেটের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়।