স্টাফ রিপোর্টার ॥
কসবায় শিশু ধর্ষন ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ২ যুবককে আটক করেছে। ধর্ষিতা বর্তমানে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় ধর্ষিতার পিতা বাদী হয়ে কসবা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছে। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃত প্রদীপ সাহা ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে।  মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় কসবা পুরাতন বাজারস্থ সিএনজি ষ্ট্যান্ডের পূর্ব পার্শ্বে পৌর এলাকার কালিকাপুর গ্রামের মো.শরীফ মিয়া (৩৫) এর চায়ের দোকানে কন্যা (১১) কে বসিয়ে পার্শ্ববর্তী মোসলেমগঞ্জ বাজার থেকে লাকড়ি ক্রয় করতে যায়। এ সময় এক যুবক বাইসাইকেল চালিয়ে দোকানে এসে তাকে বলে তোমার পিতা সড়ক দূর্ঘটনায় আহত হয়ে কসবা হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, তুমি তাড়া তাড়ি আমার সাথে চল। এ কথা শুনে শিশু কন্যা অজ্ঞাত যুবকটির সাথে সাইকেলে চড়ে রওয়ানা হলে যুবকটি হাসপাতালের সন্নিকটে পৌর ্এলাকার পানাইয়ারপাড় গ্রামের পশ্চিমপাশে কবরস্থান সংলগ্ন কাঠ বাগানে নিয়ে তাকে জোর পূর্বক সারা রাত ধর্ষণ করে। পরদিন সোমবার সকালে ধর্ষিতা অসুস্থ্য অবস্থায় পানাইয়ারপাড়-কৃষ্ণপুর রাস্তায় এসে কাঁদতে থাকলে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে পরিবারের লোকজনের কাছে পৌছে দেয়। এদিকে ওই রাতে শিশু কন্যাকে খোজে না পেয়ে পিতা শরীফ মিয়া পৌর এলাকায় মাইকিং করে নিখোঁজ সংবাদ প্রচার করে। ধর্ষিতাকে গত সোমবার সকালে কসবা হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। জানা যায়, শিশুটির সারা শরীরে আঘাতের চিহৃ রয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে শিশুটিকে ভীষণভাবে নির্যাতন করা হয়েছে।
এ বিষয়ে ধর্ষিতার পিতা মো. শরীফ মিয়া বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে কসবা থানায় মামলা দায়ের করেছে। পুলিশ সোমবার রাতে ঘটনার সাথে জড়িত সন্দেহে কসবা পুরাতন বাজারের ইমন চন্দ্র সাহার মুদি দোকানের ২ কর্মচারীকে আটক করেছে। আটককৃতরা হচ্ছে: নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় বোয়ালিয়া বাজার গ্রামের অনিল সাহার পুত্র প্রদীপ সাহা (৩২) ও কসবা পৌর সদরের কর্মকার পাড়া গ্রামের সজিব কুমার সাহার পুত্র সঞ্জয় সাহা (২৫)। অফিসার ইনচার্জ কসবা থানা মো. মহিউদ্দিন ১৫ সেপ্টেম্বর মঙ্গলবার বিকেলে সাংবাদিকদের জানান, আটককৃত প্রদীপ সাহা শিশু ধর্ষণের ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। এ ব্যাপারে ১ জনকে আসামী করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।