আমাদের কথা ডেস্ক :

পথে ঘাটে ঘরে বাইরে অনেক নারীই প্রতিনিয়ত শ্লীতাহানী ও ধর্ষণের শিকার। শ্লীতাহানী ও ধর্ষণের জন্য দায়ী নারীর পোশাক! বিষয়টি বিতর্কের। কেউ দায়ী করছেন নারীর পোশাক কেউ পুরুষের বিকৃত মানসিকতাকে। যুক্তির বিবেচনায় কোনোটিই ফেলে দেওয়ার মত নয়। পোশাকের কারণে যেমন পথে ঘাটে নারীরা শ্লীতাহানীর শিকার তেমনি বিকৃত মানসিকতার কারণে আমাদের সমাজে শিশুরাও প্রতিনিয়ত ধর্ষণের শিকার। বেপর্দা ও পুরুষের বিকৃত মানসিকতা দুটিকেই দায়ী করলে বিষয়টি ফেলে দেওয়ার মত নয়। কোরআনে দুটিকেই গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। নারীকে যেমন পর্দার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে পুরুষকেও তাদের চক্ষু নত করার জন্য বলা হয়েছে। দুটিই যখন সমাজ থেকে উঠে যাবে সে সমাজে নারীরা ধর্ষিতা ও পুরুষরা ধর্ষক হওয়ার বিষয়টি অস্বাভাবিক কোনো বিষয় নয়।
পর্দা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান। কুরআন মাজীদের কয়েকটি সূরায় পর্দা-সংক্রান্ত বিধান দেওয়া হয়েছে। পর্দা বিষয়ে আল্লাহতাআলা সকল শ্রেণির ঈমানদার নারী-পুরুষকে সম্বোধন করেছেন। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে আদেশ করেছেন তিনি যেন তাঁর স্ত্রীদের, কন্যাদের এবং মুমিনদের নারীদেরকে চাদর দ্বারা নিজেদেরকে আবৃত রাখার আদেশ দেন। কিছু আয়াতে উম্মুল মুমিনীনদেরও সম্বোধন করেছেন, কোনো কোনো আয়াতে সাহাবায়ে কেরামকেও। মোটকথা, কুরআন অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে মুসলিম নারী ও পুরুষের জন্য পর্দার বিধান দান করেছে। এটি শরীয়তের একটি ফরয বিধান। এ বিধানের প্রতি সমর্পিত থাকা ঈমানেরও দাবি।
অনেকে মনে করেন, পর্দা-বিধান শুধু নারীর জন্য। ধারণাটি ভুল। পুরুষের জন্যও পর্দা অপরিহার্য। তবে উভয়ের পর্দার ক্ষেত্রে পার্থক্য রয়েছে। প্রত্যেককে তার প্রয়োজন অনুযায়ী পর্দা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আল্লাহতায়ালা পবিত্র কোরআনে নারী-পুরুষ উভয়ের প্রতিই পর্দা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘(হে নবী!) আপনি ঈমানদার পুরুষদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে। এতে তাদের জন্য উত্তম পবিত্রতা রয়েছে। নিশ্চয়ই তারা যা করে আল্লাহ এ ব্যাপারে অবগত। আর ঈমানদার নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত রাখে এবং যৌনাঙ্গের হেফাজত করে।’ (সূরা নূর : ৩০)।
পর্দার এই সুফল আল্লাহতাআলা ঘোষণা করে বলেন, এই বিধান তোমাদের ও তাদের অন্তরের জন্য অধিকতর পবিত্রতার কারণ। (সূরা আহযাব (৩৩) : ৫৩)
নারীর পর্দা সংক্রান্ত বিষয়ে কোরআনে বলা হয়েছে, হে নবী! আপনি আপনার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের চাদরের কিয়দাংশ নিজেদের উপর টেনে দেয়। এতে তাদের চেনা সহজ হবে। ফলে তাদের উত্যক্ত করা হবে না। আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। (সূরা আহযাব : ৫৯) এ আয়াতটি সরাসরি নারীর পর্দার বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়। সেই সঙ্গে পর্দার ফলাফল হিসাবে তাদের উত্যক্ত করা হবে না বলেও বলা হয়েছে।
অন্য এক আয়াতে বলা হয়, (হে নবী!) মুমিন নারীদের বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে সংযত রাখে ও তাদের লজ্জাস্থানের হিফাযত করে। তারা যেন সাধারণত যা প্রকাশ থাকে তা ছাড়া নিজেদের আবরণ প্রদর্শন না করে। (সূরা নূর : ৩১)।
সেই সঙ্গে পুরুষদের আকৃষ্ট করার উদ্দেশ্যে নারীদের সাজ সজ্জা থেকেও বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়। এ বিষয়ে কোরআনে বলা হয়, তারা যেন তাদের গোপন আবরণ প্রকাশের উদ্দেশ্যে সজোরে পদক্ষেপ না করে। হে মুমিনগণ! তোমরা সকলে আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন কর, যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার। (সূরা নূর : ৩১)
পরপুরুষকে আকৃষ্ট করে এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা ঈমানদার নারীর কর্তব্য। কারণ পরপুরুষকে নুপুরের আওয়াজ শোনানোর উদ্দেশ্যে সজোরে পদবিক্ষেপ করা যেহেতু নিষিদ্ধ তাই এ ধরণের সকল কাজ, ভঙ্গি ও আচরণ নিষিদ্ধ হওয়া সহজেই অনুমেয়।
কোরআনের আয়াতের পর্যালোচনায় বুঝে আসে পর্দা নারী পুরুষ সকলের জন্যই। নারীর যেমন পর্দা প্রয়োজন পুরুষেরও চোখের পর্দা প্রয়োজন। কোনো একটি কমে গেলেই ধর্ষণ ও শ্লীতহানী ঠেকানো সম্ভব নয়। কাপড়ের পর্দার সঙ্গে সঙ্গে পুরুষের চোখ ও মনের পর্দারও বড় প্রয়োজন।