ফিজিতে শুরু, বাংলাদেশে কবে!

15 September, 2015 : 7:46 am ৬১

আমাদের কথা ডেস্ক :

যেখানে সেখানে ময়লা ফেলা এতোই বেড়েছে ফিজিতে যে সরকার একে জাতীয় লজ্জা বলে উল্লেখ করে ভিন্ন ও অভিনব উদ্যোগ নিতে বাধ্য হয়েছে। ফিজিতে আবর্জনা সমস্যা মোকাবেলায় রাস্তাঘাটে যারা যত্রতত্র আবর্জনা ফেলছেন তাদেরকে লজ্জা দিয়ে এই কাজ থেকে তাদেরকে বিরত রাখতে তাদের ছবি পত্রিকায় ছাপানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা সহ বিভিন্ন স্থানে এ উদ্যোগ নেয়া এখন জরুরি কারণ সিটি কর্পোরেশন থেকে শুরু করে অনেক সংস্থাই এ কাজটি করে উঠতে পারছে না। লোকবল ও সমন্বয়ের অভাব বলা হলেও কোনো শহর বা দেশের নাগরিকরা যদি রাস্তায় ময়লা ফেলতে শুরু করে তাহলে একাধিক সংস্থা দিয়েও কোনো কাজ হবে না।
যারা রাস্তায় অহরহ ময়লা ফেলছে, নদর্মা ভরে যাচ্ছে ময়লায় এবং দোকানদারদের সামনেই চিপস বা সিগারেটের প্যাকেট থেকে শুরু করে কলার খোসা ছুড়ে ফেলছেন তাদের এখন সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করার সময় এসেছে। কারণ দেয়ালে আরবী লেখা দিয়েও ফুটপাতে প্রস্রাব করা বন্ধ করা সম্ভব হয়নি। ভিজিলেন্স ক্যামেরার সহায়তায় ছবি তুলে ও ম্যাজিস্ট্রেট বা মোবাইল কোর্ট বসিয়ে জরিমানা করে এই বাজে অভ্যাস ঠেকাতে না পারলে পুরো রাস্তা ডাস্টবিন হয়ে যাচ্ছে এবং বাতাসে ক্ষতিকর জীবাণু ভাসতে থাকায় তা জনস্বাস্থ্যের জন্যে মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মেয়র থেকে শুরু করে নগর কর্মকর্তা, রাজনীতিবিদ ও সংসদ সদস্য, জনপ্রতিনিধি ছাড়াও বিভিন্ন পেশাজীবীর লোকজন যারা এসি গাড়িতে চলাফেরা করেন বিষয়টি হয়ত তাদের নজর এড়িয়ে যায় কিন্তু সাধারণ মানুষ হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে এ বিড়ম্বনা। এবং এ অবস্থা চলতে থাকায় শিশুরা তাতে অভ্যস্ত হয়ে ওঠায় আগামী প্রজন্মকে আরো নোংরা করে তুলছে।
ফিজি কর্তৃপক্ষ বলছে, আবর্জনার এই সমস্যা দেশটিতে ক্রমশই মারাত্মক রূপ নেওয়ায় এই উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রী ফ্রাঙ্ক বাইনিমারামা নিজেই এই সমস্যাটিকে ‘জাতীয় লজ্জা’ বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেছেন, “বিশ্বের লোকজনকে আমরা বলতে পারবো না যে আপনারা ফিজিতে আনন্দ করতে আসুন। বরং পরিস্থিতি এমন হয়েছে যে আমাদের বলতে হবে, আবর্জনা দেখতে আপনারা ফিজিতে আসুন।”
ফিজি ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের এক প্রতিবেদনে এই খবরটি প্রকাশ করা হয়েছে বলে বলছে বিবিসি মনিটরিং।
এই উদ্যোগে অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে।
এখানে সেখানে যারা ময়লা ফেলছেন তাদের ছবি তুলে অথবা ভিডিও করে সরকারের বিশেষ একটি ইউনিটের কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছেন তারা।
তারপর এই ছবি ধরে তাদের বিচার করা হবে।
ছবি তোলার জন্যে স্থানীয় লোকজনকে উৎসাহী করতে তাদেরকে পুরস্কার দেওয়ার কথাও ঘোষণা করেছে কর্তৃপক্ষ।
যিনি ময়লা ফেলেছেন তার কাছ থেকে আদায় করা জরিমানার কিছু অংশের জন্যে আবেদন করতে পারবেন ওই ফটোগ্রাফার, জানিয়েছেন পরিবেশ মন্ত্রী পারভীন কুমার।
এবং তারপর দোষী ওই ব্যক্তির নাম পাঠানো হবে জাতীয় সংবাদ মাধ্যমগুলো।
খবরে বলা হচ্ছে, যেখানে সেখানে ময়লা ফেলার ঘটনা এমন এক পর্যায়ে গিয়ে পৌঁছেছে যে দেশটির লোকজন সমুদ্র সৈকতের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় সব এলাকাতেও ময়লা ফেলতে দ্বিধা করছে না।
ভারতের পশ্চিমবাংলার কলকাতার একটি জাতীয় দৈনিক একবার রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রস্্রাব করার ছবি ধারাবাহিকভাবে ছাপানোর উদ্যোগ নেয়ার পর তা থেকে অনেকে বিরত থাকে। এরপর জলকামান ব্যবহার করা হয়। কিন্তু জনবহুল ঢাকা শহরে যদি পর্যাপ্ত পাবলিক টয়লেট স্থাপনে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি উদ্যোগের পথ খুলে দেয়া না হয় তাহলে ছবি তুলে বা আইন প্রয়োগে কতটা উদ্যোগ সফল হবে তা পরিস্কার নয়।
তবে একথাও ঠিক উদ্যোগ নেয়ার পাশাপাশি যে সব নাগরিকরা বুঝেশুনে রাস্তায় ময়লা আবর্জনা ফেলছেন তাদের ছবি ব্যবহার করে ফিজির মত উদ্যোগ বাংলাদেশে নেয়া জরুরি। যদি এ উদ্যোগ সফল হয় তাহলে যারা নদী ও খাল ভরাট করছে তাদেরও ছবি তুলে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিয়ে কোনো স্বেচ্ছাসেবি সংগঠনের পাশাপাশি সিটি কর্পোরেশন ও পুলিশের সহায়তা প্রয়োজন। কারণ ময়লা ফেললে এর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার মত যথেষ্ট আইন থাকলেও তা কার্যকর করার কোনো উদ্যোগ না থাকায় এধরনের সমস্যা ভয়াবহ আকারে ছড়িয়ে যাচ্ছে।
দুটি উদাহরণ দেয়া যেতে পারে। ৩২ নম্বর বা শুক্রাবাদ বাস স্টপেজে নামলেই ওভারব্রিজের নিচেই একটি ময়লার বাক্স যা সবসময় উপচে পড়ছে, দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। অথচ জাতীয় শোক দিবসে দেখা গেছে বাক্সটি সরিয়ে ব্লিচিং পাউডার ছিটিয়ে দেয়া হয়েছে। ১৬ আগস্ট থেকে বাক্সটি যথাস্থানে ফিরে এসেছে। এব্যাপারে সিটি কর্পোরেশন বলছে, স্থানের ব্যবস্থা হলে তা সরিয়ে নেয়া হবে। কালো পলিথিনের প্যাকেট সরবরাহের কথাও শোনা গিয়েছিল। যাতে আবর্জনা ভরে ফেলার উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল।
দ্বিতীয় উদাহরণটি হচ্ছে দারুস সালাম রোড বা টেকনিক্যালের মোড়ে হাউজিং রিসার্চ বা বারডেম সংলগ্ন দেয়াল ও ফুটপাত লাগোয়া স্থানে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ মূত্র ত্যাগ করছে। তা গড়িয়ে পড়ছে রাস্তায়। দিন কয়েক সেখানে ফুটপাতে কয়েকটি ভ্রাম্যমান টয়লেট দেখা গিয়েছিল। এখন তা দেখা যাচ্ছে না।
নগর ব্যবস্থাপনা বা আবর্জনামুক্ত পরিবেশ যে একা সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে সম্ভব নয় তা পরিস্কার। ফিজি যে উদ্যোগ নিয়েছে তা ঢাকায় দ্বিতীয় উদ্যোগ হিসেবে নিয়ে জনআন্দোলন গড়ে তোলার সময় এখনই।

[gs-fb-comments]