॥ গোলাম মাওলা রনি ॥

সদ্য বহিষ্কৃত ও মন্ত্রিত্ব হারানো আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি আমার ত্রিমাত্রিক দুর্বলতা রয়েছে। প্রথমত, তিনিই আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে একমাত্র জীবিত ব্যক্তি, যিনি কিনা জীবনের রাজনৈতিক বোধবুদ্ধির প্রথম দিন থেকে আজ অবধি দলটির সাথে রয়েছেন। তার প্রতি আমার দ্বিতীয় দুর্বলতার কারণ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের নির্মম ঘটনার পর সপরিবারে দলের জন্য তার অসীম ত্যাগ স্বীকার। দুঃখ-দুর্যোগ ও কষ্ট ভোগ এবং সুদীর্ঘ কালের প্রবাসজীবনের যাতনা সহ্য করা। আর তৃতীয় দুর্বলতা হলো ১/১১-এর সময়ে দলের শীর্ষ সব নেতা যখন দ্বিধাগ্রস্ত, ঠিক তখন তিনি প্রচ- সাহস নিয়ে নেত্রীর পাশে দাঁড়িয়েছিলেন। ১/১১-এর অনেক ঘটনার আমি নির্মম সাক্ষী এবং সেই সময়ের সদর ও অন্দরের অনেক ঘটনা আমি জানি। অনেক নেতা কারারুদ্ধ অবস্থায় ক্ষমতাসীনদের ইচ্ছার কাছে নতি স্বীকার করে যাচ্ছেতাই বলে যাচ্ছিলেন। বেশির ভাগ নেতা পালিয়ে ভারতে চলে গিয়েছিলেন। যারা প্রকাশ্যে আওয়ামী লীগ করতেন, তাদের প্রায় সবাই ছিলেন হয় সংস্কারবাদী, নয়তো ক্ষমতাসীনদের গুপ্তচর। সেই অবস্থায় শেখ হাসিনার নাম উচ্চারণ করার কোনো শীর্ষ নেতাকে আমি আওয়ামী লীগের কোনো কার্যালয়ে ঢুকতে দেখিনি। পরিস্থিতি এমন হয়ে গেল যে, দলীয় সভানেত্রীর সুধা সদনের বাসভবনের সামনে দিয়ে হাঁটাচলাকে অনেকে অসম্মানজনক বলে আত্মজ্ঞান করতে লাগল।
আওয়ামী লীগের সেই বিপদের দিনে হঠাৎ দেখলাম লতিফ সিদ্দিকীকে সুধা সদনের সামনে দাঁড়িয়ে সগর্বে সিনা টান টান করে দলের পক্ষে এবং দলীয় সভানেত্রীর পক্ষে কথা বলতে। নেত্রী তখনো গ্রেফতার হননি। দৃশ্যপটে মরহুম রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমান, সৈয়দ আশরাফ কিংবা ড. হাছান মাহমুদরা আসেননি। আমার মতো সাধারণ কর্মীরা তখনো দলের জন্য পকেটে হাত দেয়া শুরু করেননি। চার দিকে অস্বস্তিকর গুমোট ভাব। অনেকে সকাল-বিকেল আল্লাহর দরবারে তাওবা করেন এবং ইহজগতে আর কোনো দিন রাজনীতি করবেন না, এমন প্রতিজ্ঞা করে তৎকালীন মুসিবত থেকে পানাহ চাইতে থাকেন। বড় বড় তথাকথিত নেতা টেলিভিশনের সামনে এসে হাউমাউ করে কাঁদতে থাকেন এবং গোপনে ছেলেবয়সী ক্ষমতাধর মেজর-ক্যাপ্টেনদের হাত-পা ধরে সাহায্য আর আশ্রয় প্রার্থনা করতে থাকেন। দলের এই করুণ অবস্থায় একদল নেতা দিল্লি-লন্ডন-ওয়াশিংটন দৌড়াতে থাকেন পরবর্তী মন্ত্রী-প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য। ঠিক এমনতরো কঠিন সময়ে যিনি দলের জন্য বুক উঁচিয়ে এগিয়ে আসতে পারেন, তার জন্য আমি কেনো দুর্বলতা অনুভব করব না।
জনাব লতিফ সিদ্দিকীকে কেন মন্ত্রিপরিষদ থেকে বাদ দেয়া হলো, কেন তাকে প্রথমে প্রেসিডিয়াম থেকে এবং পরে দলের প্রাথমিক সদস্যপদ থেকে বাদ দেয়া হলো এবং শেষমেশ অত্যন্ত অসম্মানজনকভাবে সংসদ সদস্যপদ থেকে বহিষ্কার করা হলো, তা আমার কাছে পরিষ্কার নয়। খুব সাদামাটাভাবে দেশবাসী জানেন- যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে একটি ঘরোয়া বৈঠকে তিনি তাবলিগ জামাত, হজ ও ইসলাম সম্পর্কে কটূক্তি করেছেন। তার সেই বক্তব্যে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা প্রচ- আহত হয়েছেন এবং ধর্মভিত্তিক দলগুলো এ ঘটনাকে ইস্যু করে নানামুখী তৎপরতা চালানোর চেষ্টা করছিল। কাজেই সার্বিক দিক বিবেচনায় দল ও সরকারের বৃহত্তর স্বার্থে লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হয়েছে। সারা দেশের লোকজন কিংবা আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী-সমর্থকেরা বিষয়টিকে কিভাবে নিয়েছেন তা আমি জানি না। তবে আমার মতে, জনাব লতিফ সিদ্দিকীর প্রতি সঠিক আচরণ করা হয়নি। অনেকে আপত্তি তুলে বলতে পারেন, আপনার কি কোনো কাজ নেই? এত রথী-মহারথী থাকতে আপনি কেন লোকটি সম্পর্কে আগবাড়িয়ে কথা বলতে গিয়ে ক্ষমতাবানদের অসন্তুষ্টি ঘটাচ্ছেন? এ ব্যাপারে আমার বক্তব্য হলো- লতিফ সিদ্দিকীকে বহিষ্কার, অপমান এবং হেয় করার মাধ্যমে একজন বয়োজ্যেষ্ঠ রাজনীতিবিদের যত না ক্ষতি হয়েছে, তার চেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে আওয়ামী লীগের। কোনো একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ যদি তাদের বিপদের বন্ধু, সুদীর্ঘকালের সহকর্মী এবং দলীয় শীর্ষপদধারী নেতাকে বিপদের সময় আশ্রয় দিতে না পারেন, তবে অনাগত দিনে দলের বিপদে কেউ এগিয়ে আসবে না। দ্বিতীয়ত, লতিফ সিদ্দিকীর যে বক্তব্যকে উপলক্ষ করে এত তুলকালাম কা- ঘটল, সেই বক্তব্য সম্পর্কে খুব বেশি ওয়াকিবহাল লোকের সংখ্যা দেশে বিরল। যারা উত্তেজিত ও বিক্ষুব্ধ হয়েছিলেন, তারা দুটো কারণে সেদিন রাজপথে নেমেছিলেন- প্রথমত, সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও অসন্তোষ তারা লতিফ সিদ্দিকীর ওপর ঝেড়েছিলেন একটি ইস্যুকে উপলক্ষ করে। দ্বিতীয়ত, তারা বিবেকের পরিবর্তে আবেগকে প্রাধান্য দিয়েছিলেন। অন্য দিকে সরকারি দলের মধ্যে দুটো কারণে এমন রূঢ় সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল- প্রথমত, ১/১১-এর সময় লতিফ সিদ্দিকী দ্বারা অপমানিত অংশের দ্বারা ঘটনার অগ্নিতে ঘৃত সংযোগ এবং দ্বিতীয়ত, মাথাব্যথা উপশমের জন্য মাথা কেটে ফেলার নীতিকে প্রাধান্য দেয়া।
আওয়ামী লীগের নীতিনির্ধারণী মহল যদি একটু সময় নিয়ে বিষয়টি বিবেচনা করতেন, তবে তারা খুব সহজেই পরিস্থিতি সামলে দিতে পারতেন। কেউ কেউ অবশ্য এ কথা বলারও চেষ্টা করছেন, লতিফ সিদ্দিকীর অনেক দোষ ছিল। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা ও দলীয় শৃক্সখলা ভঙ্গের পাহাড়সম অভিযোগ ছিল। কাজেই এই অছিলায় তাকে শায়েস্তা করার একটা সুযোগ দলীয় হাইকমান্ড নিয়েছে। এ ব্যাপার আমার বক্তব্য হলো- জনাব সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ রয়েছে, সেগুলোকে সামনে এনে তার বিরুদ্ধে যদি আরো কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হতো সে ক্ষেত্রে দলের ভাবমূর্তি বাড়ত। দলের ভেতরকার অন্য অভিযুক্তরা ভয় পেত এবং দেশে ন্যায়বিচারের ক্ষেত্রে একটি মাইলফলক স্থাপিত হতো। কিন্তু সেই কাজ না করে নিজ দলের কুচক্রীদের কবলে পড়ে দল যখন তার আজন্ম লালিত-পালিত গাছটিকে কেটে ফেলল, তখন সেই দলের ক্ষুদ্র একটি পত্রপল্লব হিসেবে আমি আর্তচিৎকার না করে পারলাম না।
আওয়ামী লীগে হাল আমলে পোলাও খাওয়া মজনুদের দাপটে সাধারণ নেতাকর্মীরা টুঁ-শব্দটি উচ্চারণ করতে ভয় পায়। এই মজনুর দলেরা বঙ্গবন্ধু, জননেত্রী এবং তার পুত্র-কন্যাকে মর্যাদার কোন আসনে বসাবেন এবং কোথায় বসালে ঘিয়ের রূপ-রস-গন্ধ ভালো হবে এবং উত্তম পোলাও পাওয়া যাবে, সেই চিন্তায় সকাল-সন্ধ্যায় যজ্ঞ করতে বসেন। এই মজনুরা বলছেন, লতিফ সিদ্দিকী সজীব ওয়াজেদ জয় সম্পর্কে আপত্তিকর কথা বলেছেন। তাই তাকে শাস্তি দেয়া ছাড়া ভিন্ন কোনো বিকল্প ছিল না। মজনুরা রসগোল্লার রসের মধ্যে ডুবতে ডুবতে কিংবা ভাসতে ভাসতে একবারও ভাবেননি যে, নেত্রী এবং তার পরিবারের প্রতি লতিফ সিদ্দিকীর শ্রদ্ধা-ভালোবাসা ও মমত্ববোধ ইতিহাস দ্বারা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। কাজেই জয়ের বিষয়ে তার বক্তব্য দলের কাছ অগ্রহণযোগ্য মনে হলে সে ক্ষেত্রে তাকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেয়া উচিত ছিল।
ইদানীং আওয়ামী লীগে মেধাবীদের আকাল দেখা দিয়েছে। দলের পক্ষে কলম ধরবেন, এমন লোকের সংখ্যা দিনকে দিন কমে যাচ্ছে। যাও দু-চারজন আছেন, তাদের মধ্যে কেউ কেউ অপমানিত কিংবা লাঞ্ছিত হয়ে দূরে সরে রয়েছেন। বাকিরা দালালির কারণে এমন ভাবমূর্তি হারিয়েছেন যে, তাদের লেখা দেশবাসী তো দূরের কথা- কট্টরপন্থী আওয়ামী লীগের লোকজনও পড়ে না। সরকারের মেধাহীন নীতিনির্ধারকেরা সরকার নিয়ন্ত্রিত টেলিভিশনগুলোতে দলীয় পা-াদের দ্বারা আত্মপ্রচার ও প্রপাগান্ডা চালিয়ে হররোজ খুশিতে বগল বাজাতে বাজাতে একবারও ভাবছেন না যে, ১০০ টেলিভিশনে ১২ বছর ধরে প্রচার করে যদি একজন লোককে সরকারের পক্ষে আনা হয় এবং পরবর্তীকালে যদি লোকটিকে আহমদ ছফার মতো শক্তিশালী লেখকের একটি লেখা মাত্র ১২ মিনিট সময় নিয়ে পড়তে বলা হয় এবং লেখাটি যদি সরকারবিরোধী হয়, তবে ১০০ টেলিভিশনের ১২ বছরের শ্রম মুহূর্তের মধ্যে মাটি হয়ে যাবে।
একটি লেখা কিভাবে জাতীয় রাজনীতিকে ওলটপালট করে দিতে পারে তার প্রকৃষ্ট উদাহরণ দিয়ে গেছেন ভারতের পরলোকগত রাজনীতিবিদ মাওলানা আবুল কালাম আজাদ তার ওহফরধ ডরহং ঋৎববফড়স নামক বইয়ের মাধ্যমে। কথাগুলো আমি বললাম লতিফ সিদ্দিকীর উচ্চতার অন্য একটি দিক আলোকপাতের জন্য। তিনি কেবল একজন রাজনীতিবিদ নন- তিনি একজন প-িত, সুবক্তা ও উঁচুমানের একজন সুলেখক। তার এই গুণগুলো যদি আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে ব্যবহৃত হয় এবং তিনি যদি মাওলানা আজাদের মতো কোনো পা-ুলিপি ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করেন, তবে আওয়ামী লীগের জন্য যে দায় সৃষ্টি হবে, তা মেটানো কোনো পোলাও খাওয়া মজনুর পক্ষে সম্ভব হবে না।
নিউ ইয়র্কের ঘরোয়া বৈঠকটিতে জনাব লতিফ সিদ্দিকী সে বক্তব্য দিয়েছিলেন, তার চৌম্বক ও উত্তেজক অংশটুকুই মিডিয়ায় এসেছে। আমি পুরো বক্তব্য আনেকবার শুনেছি এবং এই বিষয়ে দৃঢ়তা নিয়েই বলছি- তার বক্তব্যে এমন কিছুই পাইনি যাতে মনে হতে পারে তিনি ধর্মদ্রোহী হয়ে কুরআন-হাদিসের অবমাননা করেছেন। তার প্রথম বক্তব্য ছিল তাবলিগ জামাত নিয়ে। তিনি হজ বিষয়ে বলতে গিয়ে বলেছেন, হজের কমার্শিয়াল ফিজিবিলিটি আল্লাহর রাসূল সা: ধর্তব্যের মধ্যে এনেছিলেন। বছর বছর হজ-ওমরা পালন করে লাখো কোটি টাকা খরচের প্রসঙ্গে তিনি হয়তো বলতে চেয়েছিলেন, জীবনে হজ তো একবারই ফরজ, অথচ মানুষ তার চার পাশের হাজারো গুরুত্বপূর্ণ ফরজ কর্ম বাদ দিয়ে নফলের পেছনে দৌড়ায়। অর্থাৎ একবার হজ পালনকারীর জন্য পরবর্তীকালে হজ নফল ইবাদতে পরিণত হয় এবং তারা সেই নফলের জন্য অনেকগুলো ফরজ নষ্ট করে ফেলেন।
লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্যের পর তাবলিগ সমর্থকেরা এমনভাবে বিক্ষুব্ধ হলেন, যাতে করে মনে হতে পারে তাবলিগ জামাতের সব কাজ ইসলামের একটি ফরজ ইবাদত। অথচ শুরু থেকে আজ অবধি দেশ-বিদেশের হক্কানি আলেমসমাজ তাবলিগকে নিয়ে অনেক সমালোচনা করেছেন। তাদের মতে, তাবলিগিরা তাদের জমায়েত এবং মসজিদে রাতযাপনের মাধ্যমে ইসলামের মৌলিক ইবাদত রীতিতে নতুন কিছু ঢুকিয়ে দিচ্ছেন। ইসলামি স্কলারবৃন্দ একমত হয়েছেন যে, কেবল হজ, ওমরা, রাসূল সা:-এর কবর জিয়ারত, দেশের দশের এবং ধর্মের জন্য জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য পরিবার-পরিজন ছেড়ে দূর দেশে গমন করা জায়েজ। এর বাইরে সব ইবাদত ও বন্দিগি পরিবারের সাথে থেকে পরিবারের হক আদায় করে পালন করার জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে। মসজিদে নামাজ পড়ার বিষয়ে নিকটস্থ মসজিদে গমনের ব্যাপারে উপদেশ দেয়া হয়েছে। জ্ঞানার্জনের জন্য বিদেশ যাওয়ার অনুমতি আছে- তবে সে ক্ষেত্রে ব্যক্তিকে দেশীয় সব জ্ঞান অর্জন করতে হবে।
আমার জন্মের পর থেকেই তাবলিগবিরোধী আলেম-ওলামাদের বাহারি ওয়াজ শুনে আসছি। সে ক্ষেত্রে লতিফ সিদ্দিকীর বক্তব্য কী এমন মহাভারত অশুদ্ধ করে ফেলল, তা আমার মাথায় ঢুকছে না।
এবার হজ ও ওমরা নিয়ে বাড়াবাড়ি প্রসঙ্গে আমি দু-একটা প্রশ্ন রাখছি। যারা হারাম টাকার পাহাড় গড়েছেন, শেয়ার কেলেঙ্কারি, ব্যাংক লুট, ঘুষ-দুর্নীতি, চুরি, ডাকাতি, রাহাজানি, চোরাকারবার, সুদ গ্রহণ ইত্যাদি কর্ম করার পাশাপাশি প্রতি মাসে মক্কা-মদিনা দৌড়ান; তাদের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে? অন্য দিকে জেনা, ব্যভিচার, অন্যের হক নষ্ট, জুলুম, অত্যাচার, মিথ্যাচার, অনাসৃষ্টি, আল্লাহ এবং রাসূল সা:-এর সাথে নাফরমানি, শিরক, বেদায়াত ইত্যাদি কুকর্ম একজন অন্যজনের সাথে পাল্লা দিয়ে করছে এবং মদ-জুয়ার আসরে বসে সেসব কর্ম নিয়ে প্রতিনিয়ত বাহাস করতে করতে মক্কা-মদিনা দৌড়াদৌড়িকারীদের ব্যাপারে আলেম-ওলামাগণের ফতোয়া কী?
কোরবানি সম্পর্কে আমি যা জানি তা হলো এটি মুসলমানদের ফরজ ইবাদত হজের একটি অবশ্যপালনীয় আহকাম। এর বাইরে সামর্থ্যবান মুসলিম নরনারীর জন্য কোরবানি দেয়া এবং ঈদুল আজহার নামাজ হলো ওয়াজিব। কোরবানির বিধান এবং পবিত্র হজের প্রতিটি আহকাম মূলত মুসলমান জাতির পিতা হজরত ইবরাহিম আ:-এর সুন্নত হিসেবে উম্মতে মুহাম্মদীর জন্য পালনীয় করা হয়েছে। এখন আমার প্রশ্ন- হারাম উপার্জনের অর্থ দ্বারা বাজারের সবচেয়ে বড় গরু, উট বা ছাগল এনে জবাই করলেই কি কোরবানি হয়ে যাবে? অথবা রিয়ার উদ্দেশ্যে কিংবা সমাজে নিজের প্রভাব-প্রতিপত্তি জাহির করার জন্য অথবা নেহায়েত আনন্দ-ফুর্তি, গোশত খাওয়া বা সামাজিক মুখ রক্ষার জন্য বাজার থেকে পশু কিনে এনে কোরবানি করলে তা ইসলাম কিভাবে অনুমোদন করবে?
আমি আরো প্রশ্ন রাখছি- মুসলমান হিসেবে কেবল পাঁচটি ফরজ ইবাদত নিখুঁতভাবে করলেই কি জান্নাত পাওয়া যাবে? মুমিন ও মুত্তাকিগণের চিন্তা, কর্ম, চেতনা, দায়িত্ব, কর্তব্য, আচরণ, পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের কর্মকা-, সমাজ, সংসার, পরিবার, রাষ্ট্র, আল্লাহর সব সৃষ্টির প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্যের ব্যাপারে সে হাজার হাজার ফরজ রয়েছে; সেগুলো পালন না করে কেউ কি আল্লাহ ও রাসূল সা:-এর সান্নিধ্য ও সন্তুষ্টি আশা করতে পারে?
লতিফ সিদ্দিকীর বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী এবং তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণকারী আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের ব্যাপারে আমার একটি প্রশ্ন- আপনারা কি কাজটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য করেছেন, নাকি নিজের ব্যক্তিগত ক্ষোভ, লাভক্ষতি কিংবা বিদ্বেষের কারণে করেছেন? বিষয়টি ভাবুন- খুব ভালো করে ভাবুন- দুনিয়াতে এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার দরকার নেই; তবে আখেরাতে হয়তো সেই কঠিন দিনে আল্লাহর দরবারে আপনারা প্রশ্নটির মুখোমুখি হলেও হতে পারেন।