আমাদের কথা ডেস্ক :

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া প্রায় আট বছর পর পুরো পরিবার নিয়ে এখন লন্ডনে অবস্থান করছেন।  বাংলাদেশ থেকে বেগম খালেদা জিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই মেয়ে যান লন্ডনে। আর তারেক রহমান তার পরিবার নিয়ে আগে থেকেই আছেন সেখানে। তবে সবার মাঝে নেই ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকো। পুরো পরিবারের এক সাথে  মিলনের পরিকল্পনা করেন খালেদা জিয়া নিজেই। লন্ডন সফরে পরিবারের সব সদস্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করা ছাড়াও পারিবারিক বেশ কয়েকটি বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিবেন খালেদা জিয়া।
২০০৮ সালে খালেদা জিয়া পুরো পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েন। ওই সময়ের সরকার দুই ছেলেকে গ্রেপ্তার করে। পরে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়া হয় তাদের। তখন ছেলেদের সঙ্গে খালেদা জিয়া ছেলের বউ ও নাতনিদেরও বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর থেকে আলাদা আলাদা করে তারেক ও কোকোর পরিবারের সঙ্গে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেখা হলেও এবারই প্রথম সবাই এক সঙ্গে মিলিত হলেন এবং লন্ডনেই পুরো পরিবার ঈদ করছে।
ঈদের পরে খালেদা জিয়ার দেশে ফেরার কথা রয়েছে, তবে তারিখ এখনো চুড়ান্ত করা হয়নি। লন্ডন সফরে খালেদা জিয়ার দুই সপ্তাহ  থাকার কথা রয়েছে। তিনি চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে সময় কাটাবেন। খালেদা জিয়ার জীবনে এটাই হবে প্রথম দেশের বাইরে ঈদ উদযাপন।
তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া ১/২ দিন লন্ডনে বিশ্রাম নেয়ার পর চিকিৎসা শুরু হবে। চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করার পর তিনি অন্যান্য কাজ শুরু করবেন। লন্ডনে বিএনপির নেতারা চাইছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন সব সময় দেশে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এবার যেহেতু তিনি লন্ডনে ঈদ করছেন সেজন্য সেখানে তার সম্মানে লন্ডন প্রবাসী নেতা কর্মী ও অন্যান্যদের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করার একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করতে। খালেদা জিয়ার কাছে এই ব্যাপারে সম্মতিও চাওয়া হয়েছে। এখন খালেদা জিয়া সম্মতি দিলেই তারা এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে।
এদিকে খালেদা জিয়া লন্ডন পৌঁছানোর পর বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান তাকে অভ্যর্থনা জানাতে বিমাবন্দরের ভেতরে যান। ওই সময়ে একে অপরকে দেখে আবেগ ধরে রাখতে পারলেন না। তারেক রহমান মাকে জড়িয়ে ধরে কেঁদে ফেলেন। অনেকক্ষণ এইভাবে সময় কাটে। দুই জনের এই কান্নার সময় সেখানে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালেক, সাধারণ সম্পাদক কয়সর এম আহমেদ উপস্থিত ছিলেন। এরপর খালেদা জিয়া বিমাবন্দরের বাইরে বের হলে তারেক রহমান নিজেই গাড়ি ড্রাইভ করে মাকে হোটেলে নিয়ে যান।
লন্ডন থেকে তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র জানায়, হোটেলে আগে থেকেই মালয়েশিয়া থেকে আসা আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী ও দুই কন্যা ও তারেক রহমানের স্ত্রী জোবায়দা রহমান এবং নাতনী জাইমা রহমানও  অবস্থান করছিলেন। তারাও খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে জড়িয়ে ধরে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন।
আট বছর পর পুরো পরিবার এক সাথে মিলিত হলেও সবাই আছে কেবল নেই কোকো। প্রত্যক্ষদর্শী একজন জানান, পুরো পরিবারের সদস্যরা যখন এক সঙ্গে মিলিত হন তখন কোকোর অনপুস্থিতি চোখে পড়ার মতো ছিল।
বেগম খালেদা জিয়া সেন্ট্রাল লন্ডনের ওয়েস্টএন্ডের ক্যানারি ওয়াফের হোটেল র‌্যাডিসনেই উঠেছেন। নাতনি জাইমা রহমান, পুত্রবধু ডা. জোবাইদা রহমান ও ছেলে তারেক রহমান এবং কোকোর পরিবারের সদস্যরা একই হোটেলেই থাকবেন। তারেক রহমানের ঘনিষ্ট সূত্র আরো জানায়, দু’একদিন বিশ্রাম নেয়ার পর হিথ্রো বিমানবন্দরের সোফিটেল হোটেলে সাময়িক বিরতিতে তিনি নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাক্ষাত করেন।
ওই সূত্র জানায়, খালেদা জিয়া পবিত্র ওমরাহ হজ পালন করতে সৌদি আরবে যান গত বছর। ওই সময়ে তারেক রহমান পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দুবাইতে এসে খালেদার সঙ্গে দেখা করেন। পরে তারা একই সঙ্গে সৌদি আরবে যান। সেটা ২০১৪ সালের জুলাই মাসে। তারা সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করেন। খালেদা জিয়া দেশে ফিরে আসেন। এরপর তারেক রহমান পরিবার নিয়ে চলে যান লন্ডনে।
সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার এবারের লন্ডন সফরে দলের বিভিন্ন বিষয়ে ও আগামী দিনের করণীয় নিয়ে সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে সব চুড়ান্ত করবেন। খালেদা জিয়াকে কাছে পেয়ে বিএনপির নেতা কর্মীরা খুশি। কয়েকশ নেতা কর্মী তাকে বিমাবন্দরে শুভেচ্ছা জানান। বিমানবন্দরের গেইটের দুই পাশে দাড়িয়ে নেতা কর্মী ও সমর্থকরা তাকে ফুল ছিটিয়ে, শ্লোগান দিয়ে স্বাগত জানান।
এদিকে খালেদার লন্ডন সফরকে কেন্দ্র করে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের একটি অংশের নেতারা বিক্ষোভ করতে চাইছেও অপর আরেকটি অংশ তার করতে চাচ্ছে না। কারণ তারা মনে করছেন এখন খালেদা জিয়ার লন্ডন সফরের প্রতিবাদে সমাবেশ ও বিক্ষোভ করা হলে সমস্যা হবে। তিনি এখন রাজনৈতিকভাবে বিএনপি চেয়ারপারসন ছাড়া আর কেউ নন। তাকে গুরুত্ব দিতে চাইছেন না তারা। অন্য দিকে আর একটি অংশ মনে করছে তারা প্রতিবাদ সমাবেশ করবে। বিক্ষোভও করবে।