আমাদের কথা ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় মহসিন আলীর জানাযা সম্পন্ন হয়েছে। জানাযায় উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ, ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বি ও মন্ত্রিপরিষদের সিনিয়র সদস্যরা। জানাযা শেষে পুলিশের একটি চৌকশ দল মুক্তিযোদ্ধা মহসিন আলীকে গার্ড অব অনার দেয়।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী মহসিন আলী সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০ টায় মারা যান। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬৭ বছর। এরপর তার লাশ সিঙ্গাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। জানাযার পর তার লাশ হেলিকপ্টার যোগে মৌলভীবাজারে নিয়ে যাওয়ার পর সেখানে জানাজা ও শেষ শ্রদ্ধা জানানোর পর দাফন করা হবে।
বুধবার সকালে সংসদ ভবনে মহসিন আলীর জানাযা শেষে গার্ড অব অনার প্রদানের পর স্পিকার শিরিন শারমিন চৌধুরী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মহসিন আলীর প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।এর আগে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্ব্বোস্তরের মানুষ তার মরদেহে শ্রদ্ধা নিবেদন করে।
নিউমোনিয়া, ডায়াবেটিস ও হৃদরোগের সমস্যা নিয়ে ৩ সেপ্টেম্বর ভোরে বারডেম হাসপাতালে ভর্তি হন মন্ত্রী। সেখানে তাকে লাইফ সাপোর্টে নিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য ৫ সেপ্টেম্বর তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার ভোরে মারা যান তিনি।
২০০৮ এবং ২০১৪ সালে সংসদ সদস্য হওয়ার আগে মৌলভীবাজার পৌরসভায় পরপর তিন বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান ছিলেন সৈয়দ মহসিন আলী।
তার শিক্ষা জীবন শুরু হয় কলকাতায়। কলকাতার সেন্টজেভিয়ার্স স্কুল থেকে জুনিয়র কেম্রিজ ও সিনিয়র কেম্রিজ পাস করেন। পরে বাংলাদেশে এসে বাংলা মাধ্যমে কিছুদিন অধ্যায়নের পর আবারও কলকাতা ফিরে যান ও ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা ডিগ্রি নেন।
১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। দেশমাতৃকার প্রতি তার মমত্ববোধের তাড়ণায় ঝাঁপিয়ে পড়েন মহান মুক্তিযুদ্ধে। সম্মুখসমরে যুদ্ধচলাকালে গুলিবিদ্ধ হয়েছিলেন সৈয়দ মহসিন আলী।  তিনি সিলেট বিভাগে সিএনসি স্পেশাল ব্যাচের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
যুদ্ধোত্তর বাংলাদেশ গঠনেও সৈয়দ মহসিন আলীর ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। তিনি সামাজিক ও রাজনৈতিক বিভিন্ন কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করেন।
মৌলভীবাজার মুহকুমার রেডক্রিসেন্ট সোসাইটিতে তিনি ১৯৭৬ থেকে ১৯৮৪ সাল পর্যন্ত সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। মৌলভীবাজার জেলা আওয়ামী লীগ যুবলীগের সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীকালে জেলা আওয়ামী লীগেরও সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন সৈয়দ মহসিন আলী।
স্বাধীনতাত্তোরকালে তিনিই একমাত্র জননেতা যিনি পৌরসভায় পর পর তিন বার বিপুল ভোটে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় তাকে শ্রেষ্ঠ পৌরসভা চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করে।
সৈয়দ মহসিন আলীর বাবা সৈয়দ আশরাফ আলী ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। তার মায়ের নাম আছকিরুনন্নেছা খানম। মৌলভীবাজার থেকে ব্যবসায়ীক প্রয়োজনে কলকাতা যান আশরাফ আলী। কলকাতার আলীপুরে ছিলো তার বিশাল বাড়ি। সেই বাড়িতে ১৯৪৮ সালের ১২ ডিসেম্বর জন্মগ্রহণ করেন সৈয়দ মহসিন আলী।