স্পোর্টস ডেস্ক :
সেই ২০০৮ সালে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিষেক; এরপর সময়ের ডানায় চড়ে বছর পেরিয়েছে এগারোটি। এ যাত্রায় লিওনেল মেসি কেবল একের পর এক সাফল্যের সিঁড়ি ডিঙিয়েছেন; তরতরিয়ে উঠেছেন উঁচু থেকে আরও উঁচুতে। রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি আরেকটি মাইলফলক হাতছানি দিচ্ছে-চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শততম ম্যাচ খেলবেন টানা চারবারের বর্ষসেরা তারকা। ‘ই’ গ্রুপে বুধবার রোমার বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে এবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের যাত্রা শুরু করবে বার্সেলোনা। এই ম্যাচে খেলতে নামলে মেসি ছুঁয়ে ফেলবেন ইউরোপ সেরার আসরে ব্যক্তিগত শততম ম্যাচ খেলার মাইলফলক। যাত্রার শুরুটা কিন্তু ছিল বড্ড সাদামাটা। সেদিনও ছিল বুধবার; ৮ ডিসেম্বর, ২০০৪। গায়ে যৌবনের রোদ পুরোপুরি লাগার আগেই মাত্র ১৭ বছর বয়সে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে অভিষেক। সেই ম্যাচে বার্সেলোনাকে ২-০ গোলে হারিয়ে দিয়েছিল শাখতার দোনেৎস্ক। গোলহীন ছিলেন মেসি, গোলহীন বার্সেলোনাও। সাদামাটা অভিষেকের পর ইউরোপ সেরার আঙিনায় প্রথম গোলের আনন্দে ভাসতে কেঁটে গেল একটি বছর। ২০০৫ সালের নভেম্বরে প্যানাথিনাইকোসের বিপক্ষে বার্সেলোনার ৫-০ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে অধরা সেই প্রথমের স্বাদ পেলেন মেসি। তারপর ক্যারিয়ারে ‘পতন’ শব্দটাকে এক অর্থে ছেঁটেই ফেললেন; হাঁটতে শুরু করলেন ইতিহাসের পথে।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগে শুরুটা ৩০ নম্বর জার্সি গায়ে; এখন নম্বর ১০। বার্সেলোনাকে ভুরিভুরি গোল, শিরোপা উপহার দেওয়া, প্রতিপক্ষকে কখনও গতি দিয়ে, কখনো চকিত চমকে ছিঁড়েকুড়ে খাওয়ার অসামান্য সামর্থ্যের পুরস্কার এই ১০ নম্বর জার্সি।
অভিষেকের পর চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ১১ আসরেই খেলেছেন এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। মাত্র ১৯ বছর বয়সেই উঁচিয়ে ধরেন ইউরোপ শ্রেষ্ঠত্বের ট্রফি। বয়সটা ২৮ ছোঁয়ার পথে মোট চারবার এই মুকুট জয়ের স্বাদ নিয়েছেন তিনি।
বার্সেলোনার হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে মেসির শিরোপা জয়ের কীর্তি এত অল্পতে বোঝা যাচ্ছে না পুরোটা। ইউরোপিয়ান কাপ ‘চ্যাম্পিয়ন্স লিগ’ যুগে প্রবেশ করার পর বার্সেলোনা চারটি শিরোপাই জিতেছে মেসির জামানায়! তাদের আগের শিরোপাটি (ইউরোপিয়ান কাপ) ছিল ১৯৯২ সালে।
শততম ম্যাচের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা মেসি চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতাও। ১১ আসরে খেলা ৯৯ ম্যাচে ৭৭ গোল এই আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ডের। অবশ্য গোলের এই রেকের্ড তার সঙ্গে আছেন রিয়াল মাদ্রিদের ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো। রোমার জালে গোল পেলে এককভাবে এই পাতায় সেরা হওয়ার সুযোগটাও তাই থাকছে মেসির।
এগারো আসরের মধ্যে পাঁচটিতে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার কীর্তি দেখান মেসি। ২০০৮-০৯ মৌসুম থেকে ২০১১-১২ পর্যন্ত টানা চারবার এবং এরপর ২০১৪-১৫ মৌসুমে। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে টানা চার আসরে সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার রেকর্ডটিও ২৮ বছর বয়সী এই তারকার।
টানা চার মৌসুম সেরা গোলদাতা হওয়ার পথে ২০১১-১২ মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের এক মৌসুমে সর্বোচ্চ (১৪টি) গোলের রেকর্ডও গড়েন মেসি। পরের মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদকে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দশম শিরোপা এনে দেওয়ায় দারুণ অবদান রাখা রোনালদো (১৭ গোল) আর্জেন্টিনার এই ফরোয়ার্ডের রেকর্ডটি নিজের করে নেন।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ইতিহাসে এক ম্যাচে পাঁচ গোল করার কীর্তিও প্রথম মেসির গড়া। ২০১১-১২ মৌসুমে শেষ ষোলোর দ্বিতীয় লেগে জার্মানির দল বেয়ার লেভারকুজেনকে গোল বন্যায় ভাসিয়ে দেন তিনি। গত আসরের গ্র“প পর্বে বাতে বরিসভের জালে পাঁচ গোল করে রেকর্ডের এই পাতায় মেসির পাশে বসেন শাখতার দোনেৎস্কের লুইস আদ্রিয়ানো।
শিরোপা জেতা আর রেকর্ড ভাঙা-গড়ায় নিরন্তর মেতে থাকা মেসির জন্য রোমার বিপক্ষে ম্যাচটি তাই আরেকটি অনন্য কীর্তি গড়ার উপলক্ষ। এদিনই যে চাভি, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, রোনালদোদের মতো শততম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ম্যাচ খেলা ফুটবলারের বনেদী তালিকায় নাম উঠবে তার। বিডিনিউজ২৪.কম