ভাল ও মন্দ- ছোট ছোট দুটি শব্দ, কিন্তু এর পরিধি ব্যাপক। প্রত্যেক মানুষের জীবনে ভাল ও মন্দ- এ দুইটি সত্তা কম-বেশি বিরাজ করছে। করও ক্ষেত্রে বেশি কারও ক্ষেত্রে কম। যে ব্যক্তি যত বেশি বাস্তবতার মুখোমুখি, সে তত বেশি সমস্যার সমাধান দিতে পারে। কারণ বাস্তবতার আলোকে বিবেক পরিচালিত হয়। প্রতিদিনের বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে প্রশ্ন আসে আমরা মানুষ হিসেবে বেহায়া, নাকি জাতি হিসেবে?
ঘটনা ১: ফার্মগেট থেকে ৮ নাম্বার বাসে বাসায় ফিরছিলাম। বাসের কন্ট্রাক্টর ছোট একটি ছেলে, বয়স ১০-১২ বছর। আমি সিটে বসে ছিলাম, আমার ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে ছিল একটি ছেলে, দেখে বোঝা যায় ভার্সিটিতে পড়ে। কন্ট্রাক্টর (ছোট একটি ছেলে, বয়স ১০-১২ বছর) ছেলেটির কাছে ভাড়া চাইলে ছেলেটি প্রথমে চুপ করে রইল। ছোট ছেলেটি আবার ভাড়া চাওয়ার সাথে সাথেই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ছেলেটি ঠাস করে ছোট কন্ট্রাক্টরকে থাপ্পড় মারলো । অশ্লীল ভাষায় গালি দিয়ে বললো, কয়বার ভাড়া দিমু তোরে!!!” .
ঘটনা ২: আর একদিন কাশ শেষে বাসে দাঁড়িয়ে বাসায় ফিরছি। বাসের পিছনে অনবরত এম্বুলেন্সের হর্ন, বাসের পিছন দিয়ে তাকিয়ে দেখলাম এম্বুলেন্সের চালককে খুবই অস্থির লাগছে। এদিকে বাসের ড্রাইভার যেন বিষয়টিকে একটি জল্পনা হিসেবেই নিয়েছিল। যেমন করেই হোক তাকে (বাসকে) আগে নিয়ে যেতেই হবে। অন্যদিকে রাস্তার বাকি লেন পূর্ণ থাকায় এম্বুলেন্স অন্য লেন দিয়েও যেতে পারছিল না । অবশেষে বাস টি স্ট্যান্ড এ দাঁড়ালে এম্বুলেন্স চলে গেল, বাস থেকে রোগীর অবস্থা আশংকাজনক মনে হয়েছিল ।
ঘটনা ৩: এটি ঘটনা ২ নং ঘটনার বিপরীত। বাসের পিছনে অনবরত এম্বুলেন্সের হর্ন। বাস চালক কীভাবে এম্বুলেন্সকে যেতে দিবে সেটা নিয়ে অনেক চিন্তিত। অবশেষে যখন এম্বুলেন্স কে রাস্তা দেয়া হল যাওয়ার জন্য তাকিয়ে দেখি এম্বুলেন্সে কোনো রোগী নেই ।
ঘটনা ৪: রাস্তায় যখন জ্যামে বসে থাকি কোথাও যাওয়ার জন্য, তখন হঠাৎ চোখে পড়ে ভিন্ন লেন ব্যবহার করে কোনো গাড়ি সেই একই দিকে যাচ্ছে। অথছ সেই লেনটি যাওয়ার জন্য নয়, বরং আসার জন্য ব্যবহার করা হয়। সেই গাড়িটি গিয়ে সামনে যখন আরো বড় জ্যাম বাঁধায়, তখন আমি ভাবি আমরা মানুষ হিসেবে বেহায়া, নাকি জাতি হিসেবে?
উল্লেখ্য: ঘটনা ৪ এর সৃষ্টিকারি হিসেবে, বিভিন্ন্ সরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস কেউ বেশি দেখা যায়, তারপরের তালিকায় আছে আমলাদের গাড়ি। অথছ এই অধিকার একমাত্র এম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ এবং বিভিন্ন জরুরি জনস্বার্থে কাজে নিয়োজিত রাই ভোগ করার অধিকার রাখে বোধ করি । ফেসবুক থেকে