236f30ce8c3f9cbf46b76461e3fb8083-300 সিম পরিবর্তনের কথা বলে নতুন সিম বিক্রির নামে ১ হাজার ৫৬২ কোটি (১৫.৬২ বিলিয়ন) টাকার কর ফাঁকি দিয়েছে গ্রামীণফোন। যথাসময়ে পরিশোধ না করায় সুদসহ এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার কোটি টাকার কাছাকাছি চলে আসবে। সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) কারিগরি সহায়তায় কর ফাঁকির এমন ভয়াবহ তথ্য নিশ্চিত করে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করে এনবি আরের বিশেষ তদন্ত কমিটি। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, গ্রামীণফোন বিটিআরসিসহ মন্ত্রণালয়ের কতিপয় শীর্ষ কর্মকর্তাকে ম্যানেজ করে এ অর্থ না দেয়ার জন্য তদবির-লবিং শুরু করেছে। এখন খোদ এনবি আর ও অর্থ মন্ত্রণালয়কেও ম্যানেজ করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। জানা গেছে, এ ইস্যুটি নিয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গেও একাধিকবার বৈঠক করে মোবাইল ফোন কোম্পানিগুলোর সংগঠন অ্যামটব। কিন্তু কোনো বিষয়ই এখনও সুরাহা হয়নি। এ প্রসঙ্গে এনবি আর চেয়ারম্যান নজিবুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, সরকারি রাজস্বে কোনো ধরনের ছাড় দেয়ার সুযোগ নেই। শিগগিরই এ অর্থ আদায়ে উদ্যোগ নেয়া হবে। কারও ক্ষতি করতে চাই না। তবে আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অর্থ দিতে হবে। তবে তিনি বলেন, কেউ চাইলে এডিআরের (বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি/সালিশি পদ্ধতি) মাধ্যমে এর সমাধান করতে পারে। ইতিমধ্যে একটি কোম্পানি এ ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে গ্রামীণফোনের হেড অব এক্সটারনাল কমিউনিকেশনস সৈয়দ তালাত কামাল যুগান্তরকে জানান, বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন আছে। কাজেই আদালতের রায় গ্রামীণফোনের বিপক্ষে যাওয়ার আগে এগুলোকে ফাঁকি বলে চালিয়ে দিলে তা আদালতের ভূমিকা নিজ হাতে তুলে নেয়া এবং আদালত অবমাননা হিসেবে পরিগণিত হবে। তিনি বলেন, সিম পরিবর্তন সংক্রান্ত এনবি আরের দাবিটি দীর্ঘদিন ধরে অমীমাংসিত আছে এবং সব মোবাইল অপারেটর এনবি আরের পদ্ধতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। এমনকি বিটিআরসিও এনবি আরের এ দাবির সঙ্গে একমত হয়নি। সম্প্রতি এনবি আর তার দাবি ১ হাজার ২৩ কোটিতে নামিয়ে এনেছে। বিষয়টি নিয়ে গ্রামীণফোন ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আপিল করেছে। এনবি আর সূত্রও তাদের দাবিকে চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণফোনের ভ্যাট আপিলাত ট্রাইব্যুনালে আবেদন করার কথা স্বীকার করেছে। আর এ জন্য অপারেটরটিকে দাবিকৃত অর্থের ১০ শতাংশ পরিশোধ করতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, ২০১৩ সালের জুনে এনবি আর সেলফোন অপারেটরগুলোর সিম রিপ্লেসমেন্টের নামে নতুন সিম বিক্রি করে কর ফাঁকির বিষয় তদন্তের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করে। একজন কমিশনারকে (ভ্যাট) প্রধান করে গঠিত ওই তদন্ত কমিটিতে ছিলেন এনবি আরের প্রথম সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাসহ বিটিআরসি, অ্যাসোসিয়েশন অব মোবাইল টেলিকম অপারেটরস অব বাংলাদেশ (অ্যামটব) ও সংশ্লিষ্ট মোবাইল ফোন অপারেটরগুলোর প্রতিনিধি। তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূল দলিলাদি যাচাইয়ের মাধ্যমে সিম রিপ্লেসমেন্টের আগে ও পরে মালিকানা নিশ্চিত করা হয়েছে বলে তারা এ অর্থ পরিশোধ করতে বাধ্য। বিটিআরসি সূত্র জানায়, সাধারণত মোবাইল ফোনের সিম হারানো গেলে, ক্ষতিগ্রস্ত বা অকেজো হলে সংযোগ অপরিবর্তিত রেখে সিম পরিবর্তন করতে পারেন গ্রাহক। এটি সিম রিপ্লেসমেন্ট হিসেবে পরিচিত। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের আগ পর্যন্ত এ জন্য সরকারকে কোনো ধরনের ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হতো না। অর্থাৎ প্রথম যিনি সিম কিনবেন, তিনিই শুধু সুযোগটি পাবেন। অপরদিকে নতুন সিম বিক্রির ক্ষেত্রে সরকারকে প্রযোজ্য হারে ভ্যাট-ট্যাক্স দিতে হয়। তদন্ত সংস্থা সূত্রে জানা গেছে, ২০০৯ সাল থেকে ২০১২ সাল পর্যন্ত গ্রামীণফোন সিম রিপ্লেসমেন্টের যে হিসাব দেয় তাতে আপত্তি জানায় এনবি আরের ভ্যাট বিভাগের বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ-ভ্যাট)। তারা দাবি করে, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ সিমটি প্রথম গ্রাহকের নামে ইস্যু না করে পরিবর্তিত গ্রাহকের কাছে একই নম্বরের সিম বিক্রি করছে। এতে নতুন গ্রাহক তৈরি হলেও এ জন্য কোনো কর না দিয়ে পুরো অর্থ ফাঁকি দিয়ে আসছিল। সিম রিপ্লেসমেন্ট তদন্ত সংক্রান্ত বিশেষ কমিটি বিটিআরসির কারিগরি সহায়তায় প্রায় পাঁচ হাজার সিম নতুনভাবে যাচাই-বাছাই করে দেখে। এর মধ্যে গ্রামীণের ২ হাজার ২০০টি সিম ছিল। দৈবচয়নের ভিত্তিতে এ পরীক্ষায় গ্রামীণের প্রায় ৯৫ শতাংশ সিমের ক্ষেত্রে রাজস্ব ফাঁকির প্রমাণ পাওয়া যায়। তদন্ত সংস্থা যে বিষয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে সেগুলো হল গ্রামীণফোনের প্রদর্শিত ডাটাগুলো অবিকৃত নাকি মডিফাইড, সিম নম্বরের আলোকে ডাটাবেজের মালিকের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া, সিম রিপ্লেসমেন্টের আগে ও পরের মালিক অভিন্ন কিনা। এ ধরনের যাচাই-বাছাই শেষে ৭৮ পৃষ্ঠার একটি তদন্ত প্রতিবেদন এনবি আরের কাছে জমা দেয় বিটিআরসি। এনবি আর কর্মকর্তারা বলছেন, গ্রামীণফোন সিম বদলের আড়ালে নতুন কার্ড ইস্যুর বিপরীতে বিদ্যমান ট্যারিফ মূল্য অনুযায়ী সম্পূরক শুল্ক ও মূসক ফাঁকি দিচ্ছে। কারণ বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণ আদেশ নং-৬/মূসক/২০০৬-এর মাধ্যমে সেবার কোড এস-০১২.২০ অর্থাৎ সিম কার্ড সরবরাহকারীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ট্যারিফ মূল্যের ওপর ৩৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক ও ১৫ শতাংশ ভ্যাট আদায়যোগ্য। গ্রামীণের সিম রিপ্লেসমেন্ট প্রতারণা বাড়ছে : মোবাইলের সিম রিপ্লেসসেন্ট ও রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে বিটিআরসির কঠোর পদক্ষেপ নিলেও দেশজুড়ে এক শ্রেণীর প্রতারক বন্ধ সিম উত্তোলন করে নতুন মোড়কে বাজারে বিক্রি শুরু করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ক্ষেত্রে বেশি অভিযোগ পাওয়া গেছে গ্রামীণফোনের বিরুদ্ধে। কিছুদিন বন্ধ থাকা একটি সিম সম্প্রতি চালু করতে গিয়ে নেটওয়ার্ক না পেয়ে একজন গ্রাহক সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ারে যোগাযোগ করে দেখেন তার সিমটি চালু (০১৭১৫- সিরিয়ালের) রয়েছে। তিনি ওই নম্বরে ফোন দিলে নতুন ব্যবহারকারী ১০ বছরের অধিক সময় ধরে সিমটি ব্যবহার করছেন বলে দাবি করেন। কিন্তু গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ পরে তদন্ত করে দেখে এফএনএফ নম্বর দিয়ে কেউ একজন এ সিমটি উত্তোলন করেছিল এক মাস আগে। এরপর প্রকৃত মালিকের ডকুমেন্টের ভিত্তিতে সিমটি বন্ধ করে দেয়া হয়। অভিযোগ উঠেছে, গ্রামীণফোন কর্তৃপক্ষ এভাবে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিমগুলো আবার বিক্রি করছে। নম্বর থাকছে আগেরটাই। ফলে আগের ব্যবহারকারী মোবাইলে টাকা রিচার্জ করলে তার নম্বরটিও (প্রকৃত পক্ষে একই নম্বর) সচল হয়ে যাচ্ছে। পরবর্তীকালে সিমের মূল দাবিদার প্রয়োজনীয় কাগজ ও তথ্য জমা দিলেই ঘটছে বিপত্তি। এ ক্ষেত্রে অসম্পূর্ণ তথ্য ও আন্ডারটেকেন দিয়ে সিম নেয়া ব্যক্তির সিম বন্ধ করে দেয়ার নিয়ম থাকলেও অনেক ক্ষেত্রেই তা মানা হচ্ছে না। বিশেষ করে বিদেশগামীরা দেশে প্রত্যাবর্তনের পর এ ধরনের ভোগান্তিতে পড়ছেন। বিটিআরসি সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা সিম নতুন মোড়কে বাজারে বিক্রি ঘোরতর অন্যায়। একজন গ্রাহক একটি সিম কিনে আজীবনের জন্য সিমের মালিক হয়ে যান। কারণ সিমট্যাক্স দিয়েই ক্রেতাকে সিমটি কিনতে হয়। বন্ধ থাকা সিম বিক্রি বা মালিক সেজে অন্য কেউ রিপ্লেস সিম তোলার বিরুদ্ধে বিটিআরসি ব্যবস্থা গ্রহণের উদ্যোগ নিচ্ছে।"/>
Fatal error: Uncaught Error: Call to undefined function get_youtube_thumb() in /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/functions.php:41 Stack trace: #0 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/class-wp-hook.php(287): og_meta_tags('') #1 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/class-wp-hook.php(311): WP_Hook->apply_filters(NULL, Array) #2 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/plugin.php(478): WP_Hook->do_action(Array) #3 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/general-template.php(3009): do_action('wp_head') #4 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/header.php(7): wp_head() #5 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/template.php(730): require_once('/home/designgh/...') #6 /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-includes/template.php(676): load_template('/home/designgh/...', true, Array) #7 /home/designgh/domains/a in /home/designgh/domains/amaderkatha.com/public_html/wp-content/themes/amaderkatha/functions.php on line 41