আমাদের কথা ডেস্ক :

ব্রাক্ষণবাড়িয়ার আশুগঞ্জে ৩ হাজার ২০ কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপন করবে সরকার। ৪০০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন গ্যাসভিত্তিক নতুন এই কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট স্থাপনে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি) সহায়তা করছে। আজ জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে। রাজধানীর আগারগাঁওয়ের এনইসি সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিতব্য এ সভায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সভাপতিত্ব করবেন।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানায়, আশুগঞ্জে চলতি বছর থেকে ২০২০ সাল মেয়াদে এ প্লান্ট স্থাপন করা হবে। অনুমোদন পেলে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড (এপিএসসিএল)। প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে এডিবি দেবে ২ হাজার ৪৮৪ কোটি, সরকার তহবিল থেকে ৪৬৬ কোটি ৯৫ লাখ ও সংস্থার নিজস্ব তহবিল থেকে ৬৮ কোটি ৪০ লাখ টাকা বরাদ্দ ধরা হয়েছে। প্রকল্পের আওতায় এপিএসসিএলের পুরনো এবং কম দক্ষতাসম্পন্ন ইউনিট পরিবর্তন করে নতুন ইউনিট স্থাপন করা হবে। এছাড়া উচ্চ জ্বালানি দক্ষতাসম্পন্ন গ্যাস টারবাইট, স্টিম টারবাইট, স্টেপ আপ ট্রান্সফরমার, গ্যাস ইন্সুলেটেড সুইস গ্যায়ার সিস্টেম ও কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট প্রতিস্থাপন করা হবে।
এপিএসসিএল সংশ্লিষ্টরা বলছে, ১৯৮৬ সালে আশুগঞ্জের ৩য় ইউনিট চালু করা হয়। এরপর ২০০৩ সালে তা পুনর্বাসন করা হয়। বর্তমানে আশুগঞ্জের গ্যাস টার্বাইন-১ ও ২-এর কর্মক্ষমতা কমে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে গ্যাসের অপচয় হচ্ছে, যা রোধ করা প্রয়োজন। এ প্রকল্পটি কমিশনিং করা পর্যন্ত এই ইউনিটটিকে প্রয়োজনীয় রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে।
জানা গেছে, আশুগঞ্জ বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি রাজধানী ঢাকা শহর থেকে ৯০ কিলোমিটার দূরে মেঘনা নদীর তীরে অবস্থিত। আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি পাঁচটি তাপ-বিদ্যুৎ ইউনিট, একটি কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট এবং একটি গ্যাস ইঞ্জিন প্লান্টের সমন্বয়ে গঠিত। এটি স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে সঞ্চালন লাইনের মাধ্যমে ঢাকা শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হবে।
সূত্র জানায়, ২০৩০ সাল নাগাদ দেশে বিদ্যুতের চাহিদা হবে প্রায় ৩৪ হাজার মেগাওয়াট। সে লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্যই প্রকল্প হাতে নেয়া হচ্ছে। এর পাশাপাশি আমদানিকৃত কয়লা দিয়ে বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা রয়েছে প্রায় ১০ হাজার মেগাওয়াট।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এ প্রকল্পের মাধ্যমে এপিএসসিএলের পুরনো ও কম ক্ষমতাসম্পন্ন ইউনিট-৩-কে অবসর প্রদান করে উচ্চ জ্বালানি ক্ষমতাসম্পন্ন এই কেন্দ্রটি স্থাপন করা হবে। এতে দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা ও এ খাতের স্থায়িত্ব ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়বে। এছাড়া প্রাকৃতিক গ্যাসের দক্ষ ও কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত হবে, যা দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও ত্বরান্বিত করবে।
পরিকল্পনা কমিশন বলছে, প্রকল্পটি সরকারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণের পরিকল্পিত লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে সহায়ক হবে। দেশের ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ চাহিদা ও কেন্দ্রটির গুরুত্বের কথা বিবেচনা করে একনেকে অনুমোদনের জন্য উপস্থাপন করা হচ্ছে।