স্টাফ রিপোর্টার :
কসবায় গৃহবধু মুন্নির অপমৃত্যু মামলাটি ময়না তদন্ত শেষে হত্যা মামলা হিসেবে থানায় রেকর্ড করা হয়েছে। পুলিশ এজাহারভুক্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করেছে। অভিযোগে প্রকাশ, পৌর এলাকার বগাবাড়ি গ্রামের সৌদি প্রবাসী রৌফ মিয়ার স্ত্রী ১ সন্তানের জননী আমেনা আক্তার মুন্নি (২৩) নামক গৃহবধুকে যৌতুকের দাবীতে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরুদ্ধের মাধ্যমে হত্যার অভিযোগে ব্রাহ্মণবাড়িয়া নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে দায়ের করা হয়েছে। এ ব্যাপারে মুন্নি আক্তারের মা আখাউড়া উপজেলার বাউতলা গ্রামের মো. রেনু মিয়ার স্ত্রী নুরজাহান বেগম বাদী হয়ে ৭ জনকে আসামী করে হত্যা মামলাটি দায়ের করে। পুলিশ মঙ্গলবার সকালে মামলার এজাহারভুক্ত আসামী নিহতের জা মানিক মিয়ার স্ত্রী রিয়া বেগম (৩৫)কে গ্রেফতার করেছে।
জানা যায়, গত ২৫ আগস্ট সকালে বগাবাড়ি গ্রামের ওই গৃহবধু গলায় ফাঁস লাগিয়ে আত্ম হত্যা করেছে বলে শ্বশুর বাড়ির লোকজন তাকে কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরী বিভাগে নিয়ে এলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এ সময় মুন্নির স্বামীর বাড়ির লোকজন তার লাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে দ্রুত ছটকে পড়ে। এ ঘটনায় জনমনে সন্দেহের সৃষ্টি হয় যে মুন্নিকে পরিকল্পিত ভাবে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করেছে। চিকিৎসক ময়না তদন্তের জন্য ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে তার লাশ পাঠালে সেখানে ৫ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড তার ময়না তদন্ত করেন। ময়না তদন্ত রির্পোটে গৃহবধুকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা করা হয়েছে বলে রির্পোট প্রদান করে। ময়না তদন্তের রির্পোটের ভিত্তিতে কসবা থানা পুলিশ মঙ্গলবার পূর্বে দায়েরকৃত অপমৃত্যুর মামলাটি হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ড করেছে।
নিহতের মা নুরজাহান বেগম জানান, তার মেয়ে মুন্নি আক্তারকে যৌতুকের জন্য পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। আমি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু বিচার প্রার্থনা করছি। তিনি এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী এডভোকেট আনিসুল হক মহোদয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।
কসবা থানা অফিসার ইনচার্জ মো. মহিউদ্দিন সাংবাদিকদের জানান, গৃহবধু মুন্নির অপমৃত্যুর মামলাটি ময়না তদন্ত শেষে রির্পোটের ভিত্তিতে হত্যা মামলা হিসেবে রেকর্ডভুক্ত করণসহ মামলার এজাহারভুক্ত এক আসামীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। অপর আসামীদের গ্রেফতারের জোর প্রচেষ্টা চলছে।