রানা দাসগুপ্তের হুঁশিয়ারি

আমাদের কথা ডেস্ক :

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শান্তির উপর নির্ভর করছে উপমহাদেশের শান্তি। দেশ স্বাধীনের ৪০ বছর পরও বাংলাদেশের সংখ্যালঘুরা সুখে নেই, শান্তিতে নেই, স্বস্তিতে নেই। পাকিস্তান আমলে সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন করে তাদের দেশ ত্যাগে বাধ্য করা হয়। এখনও তা অব্যাহত রয়েছে। গত ১৯ সেপ্টেম্বর দুপুরে যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ হিন্দু- বৌদ্ধ- খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত এ কথা বলেন।
নিউইয়র্ক থেকে এনা জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক বিশিষ্ট আইনজীবী অশোক কুমার কর্মকারের সভাপতিত্বে এবং সদস্য সচিব স্বপন দাসের চমৎকার পরিচালনায় সম্মেলনে প্রধান অতিথি ছিলেন ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন ঐক্য পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির প্রেসিডিয়াম সদস্য কানুতোষ মজুমদার, বাংলাদেশ মহিলা ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদিকা প্রিয়াবালা সাহা, ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সাংস্কৃতিক  সম্পাদক নারায়ণ সাহা মনি, ডিস্ট্রিক্ট ১১- এর টেস্ট সিনেটর টনি অ্যাবেলা। অ্যাডভোকেট রানা দাসগুপ্ত তার বক্তব্যের শুরুতে নবনির্বাচিত কমিটিকে অভিনন্দন জানান এবং শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন প্রয়াত রতন বড়-য়াকে। তিনি বলেন, স্বাধীন বাংলাদেশে ৭১ সালের পরাজিত শক্তি রাষ্ট্রক্ষমতায় এসেছে। তারা ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে টানা হামলা চালাচ্ছে সংখ্যালঘুদের উপর। বর্তমানে সরকারে থাকা একটি পরগাছা গোষ্ঠী সংখ্যালঘুদের সম্পত্তি দখল করছে। আমার চোখ তুলে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে কিন্তু তারা প্রতিকারের পথ হারিয়ে ফেলেছে। তিনি ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন বন্ধ এবং প্রতিকারের জন্য ২০০১ সালে গঠন করা হয়েছিল সাহাবুদ্দিন কমিশন। ২০১২ সালে সাহাবুদ্দিন কমিশন তাদের রিপোর্ট সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুনকে দিয়েছিলেন। আমরা সাহাবুদ্দিন কমিশনকে ১৫ হাজার তথ্য, উপাত্ত দিই। ১৫ বছর হয়ে গেল আমরা সাহাবুদ্দিন কমিশনের রিপোর্টের বাস্তবায়ন দেখতে পাইনি। তিনি বলেন, বিএনপি মনে করে সংখ্যালঘু কমলে দেশ বাঁচবে, ধর্ম বাঁচবে। আওয়ামী লীগের অবস্থা হয়েছে থাকলে ভোট আমার, আর চলে গেলে ভূমি আমার। তিনি আওয়ামী লীগের কমিটি এবং বিএনপির কমিটিতে সংখ্যালঘুদের নামমাত্র সংখ্যার কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ভোটের বেলায় ১৬ আনা, আর দেবার বেলায় ১ আনা। আমাদের জš§ হয়েছে কী শুধু ভোট দেবার জন্য? তিনি বলেন, ইসলামি ফাউন্ডেশন চলে বাজেটের কয়েকশ’ কোটি টাকায়, আর হিন্দু ফাউন্ডেশন চলে সুদের টাকায়। তিনি বলেন, আমরা রক্ত দিয়ে এবং মা-বোনের ইজ্জতের বিনিময়ে দেশ স্বাধীন করেছিলাম এই বাংলাদেশের জন্য নয়। আমরা একটি স্বপ্নের বাংলাদেশ চেয়েছিলাম। আমাদের স্বপ্ন ছিল ১৯৭১ সালের ১০ এপ্রিল প্রবাসী সরকার যে রূপরেখা দিয়েছিলÑ সাম্য ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে দেশ চলবে। সাম্য এবং সমঅধিকারের ভিত্তিতেই ৭২ সালের সংবিধান রচনা করা হয়েছিল। কিন্তু দুঃখের বিষয় সাড়ে তিন বছর যেতে না যেতেই জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। বাংলাদেশি সংবিধানকে রক্তাক্ত করে পাকিস্তানের সংবিধানের আদলে আরেকটি সংবিধান করা হয়। পাকিস্তানি প্রেতাÍারা ভর করে বাংলাদেশের সংবিধান সংশোধনীতে। যোগ করা হয় বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্র ধর্ম করা হয় ইসলাম। বিসমিল্লাহ এবং রাষ্ট্রধর্ম ইসলামকে সংখ্যালঘুদের দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক করা হয়। যে কারণে ঐক্য পরিষদের জš§ হয়। । তিনি বলেন, হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শান্তির উপর নির্ভর করছে উপমহাদেশের শান্তি। তিনি বলেন, বাংলাদেশ থেকে সংখ্যালঘু বিতাড়িত করে সংখ্যালঘু শূন্য করা হয় তাহলে বাংলাদেশ, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়ায় পরিণত হবে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করেন কানুতোষ মজুমদার। উদ্বোধনীতে তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছে ১৯৭১ সালে এবং পাকিস্তান ও ভারত বিভক্ত হয় ১৯৪৭ সালে। মূলত সংখ্যালঘুদের উপর নির্যাতন শুরু হয় ১৯৪৭ সাল থেকে। প্রিয়া বালা মনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষ ভালো, সাম্প্রদায়িক নয়, সমস্যা হচ্ছে রাষ্ট্র। রাষ্ট্রই নির্যাতন করে সংখ্যালঘুদের দেশত্যাগে বাধ্য করছে। সংখ্যালঘুদের দেশ ত্যাগের জন্য রাজনৈতিকভাবে প্লট তৈরি করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন আমেরিকান হিন্দু ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধি জো ক্যান্সারা, রীনা সাহা, অলোক চৌধুরী, অমল বড়-য়া, বাপ্পি অধিকারী প্রমুখ। আহ্বায়ক অ্যাটর্নি অশোক কর্মকার সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়ে ঐক্য পরিষদের প্রস্তাবিক কমিটি ঘোষণা করেন।