স্টাফ রিপোর্টার :
প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব, বিশিষ্ট লেখক, মুক্তিযোদ্ধা, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কার্য নির্বাহী কমিটির সদস্য, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এম.পি বলেছেন, দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এটি কোন কল্পকাহিনী নয়, বাস্তব্য সত্য। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চ্যাম্পিয়ন অফ দি আর্থ পুরষ্কার গ্রহণ করেছেন। বিশ্বের সাথে আমরা তাল মিলিয়ে চলতে পারছি। তিনি সোমবার সকালে স্থানীয় শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ভাষা চত্বরে তিনদিন ব্যাপী উন্নয়ন মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহারের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মোকতাদির চৌধুরী এম.পি আরো বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো, সামাজিক নিরাপত্তাসহ সকল বিষয়ে আমাদের উন্নয়ন হয়েছে। বিদ্যালয়হীন গ্রামে দেড়হাজার প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর আসনের বিদ্যালয়হীন গ্রামে ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় স্থাপন করা হয়েছে। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে যখন আমাদের দেশের জনসংখ্যা সাড়ে ৭ কোটি ছিল তখন আমাদের দেশে খাদ্য ঘাটতি ছিল কিন্তু আজ আমাদের দেশের জনসংখ্যা ১৬ কোটি হলেও দেশে খাদ্য ঘাটতি নেই। দেশ এখন খাদ্যে সয়ম্ভরতা অর্জন করেছে। দেশে খাদ্য শস্য উদ্বৃত্ত আছে।
মোকতাদির চৌধুরী এম.পি আরো বলেন, বিদ্যুতায়ন হচ্ছে উন্নয়ন। বিদ্যুত যেখানে পৌছেছে সেখানেই উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি বলেন, আমরা ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌছে দিতে কাজ করছি। তিনি বলেন, আমাদের মাথাপিছু আয় এখন ১৩৩৪ মার্কিন ডলার। আমরা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত হব। সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। তিনি বলেন, আমাদের দেশে এখন কাঁত বা মঙ্গা নেই। বর্তমান সরকার যোগাযোগ ব্যবস্থাকে শক্ত ভিত্তির উপর দাঁড় করানোর চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, মৎস্য উৎপাদনে আমরা বিশ্বের চতুর্থস্থানে রয়েছি। এমডিজির অধিকাংশই ক্ষেত্রেই আমরা সাফল্য অর্জন করেছি। তিনি বলেন, দেশ এখন ডিজিটাইলেশন হয়েছে। দেশের নারীর ক্ষমতায়ন হয়েছে। এখন শতকরা ৬০ভাগ ছাত্রী পড়াশুনা করছে। তিনি উন্নয়নের ধারাবাহিতকতা বজায় রাখতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সকলকে একযোগে কাজ করার আহবান জানান।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন পুলিশ সুপার মোঃ মিজানুর রহমান পিপিএম. জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবদুল আলীম, পৌর মেয়র মোঃ হেলাল উদ্দিন ও জেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল বারী চৌধুরী মন্টু।
স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্থানীয় সরকার বিভাগ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আজাদ ছাল্লাল। বক্তব্য রাখেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার উপ-পরিচালক আবু নাছের, ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ এ.এস.এম শফিকউল্লাহ, সদর উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট তাসলিমা সুলতানা খানম নিশাত, জেলা শিক্ষা অফিসার কাজী সলিমউল্লাহ ও প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন জামি। জেলা প্রশাসন আয়োজিত মেলায় জেলার বিভিন্ন দপ্তরের ২৮টি স্টল বসে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছিল দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভীড়।