বিশেষ প্রতিনিধি : “আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙ্গানো একুশে ফেব্রুয়ারি আমিকি ভুলিতে পারি”যখনি বছরের ফেব্রুয়ারি মাস আসে তখন মনের ভিতর গুন-গুন প্রহর গুনতে থাকে ২১ফেব্রুয়ারি দিনটির জন্য সেদিন এদেশের ভাষা শহীদের সৃতিতে ফুলের শুভেচ্ছা জানানোর জন্য।পৃথিবীর অনেক দেশে এই দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা হিসাবে স্বীকৃতি দেওয়া হলেও ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি ভাষা আন্দোলনের অগ্রনায়ক অলি আহাদের জম্মভূমি  ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্টানে । প্রতিটি শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে বাধ্যতামূলক  ভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করার কথা থাকলেও  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সাথে জড়িত লোকেরা   শহীদ মিনার স্থাপন করছে না। ফলে শিক্ষার্থী, মুক্তিযোদ্ধা ও অভিভাকদের মাঝে চরম হ্মোভ দেখা দিয়েছে ।তখন তারা দিবসটির গুরুত্ব বোঝাতে পারছেনা অনেক উঠতি বয়সের  নতুন প্রজন্মের ছেলে -মেয়েদের কাছে।
খোজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলায় ১টি পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট , ৩টি কলেজ,২টি স্কুল এন্ড কলেজ,২২টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়,২টি জুনিয়র স্কুল,৭টি মাদ্রাসা, ৯৯ টি সরকারি  প্রাথমিক বিদ্যালয়,১টি রেজি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ৮০ টি কিন্ডারগার্টেন সহ মোট ২১৭টি  শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ,চম্পকনগর স্কুল এন্ড কলেজ , মিরাশানি পলিটেকনিক,দাউদপুর উচ্চ বিদ্যালয় ,সাতবর্গ হাইস্কুল,নিদারাবাদ ইউনিয়ন  উচ্চ বিদ্যালয় ,মুকুন্দপুর উচ্চ বিদ্যালয়,গ্রীনভ্যালী আইডিয়েল স্কুল , আলীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়,পাহারপুর উচ্চ বিদ্যালয় সহ হাতে গোনা ১০/১৫ টি শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকলেও বিভিন্ন কলেজ সহ অনেক  শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আদৌ পযর্ন্ত শহীদ মিনার নেই । ফলে  প্রতি বছর ২১শে ফেব্রুয়ারিতে বাঙালী চেতনায় বিশ্বাসী শিক্ষার্থীরা বাশঁ, বেত ও কলাগাছ দিয়ে তৈরি করা শহীদ মিনারে  পুস্পস্তপক অর্পণ করে । কথা হয় অনেক শিক্ষার্থী সাথে তারা  বলেন ,ভাষা আন্দোলন আমাদের মহান স্বাধীনতার সুতীকাগার । শহীদ মিনার  ভাষা আন্দোলনের বার্তা বহন করে । ভাষা আন্দোলন সম্পর্কে না জানলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হবে আমাদের নতুন প্রজন্ম । তাই  দ্রুত বিজয়নগরের প্রতিটি স্কুল কলেজে  এবং ভাষা সৈনিক অলি আহাদের জন্ম ভূমি ইসলামপুরে শহীদ মিনার নির্মান করা দরকার। উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আল মামুন জানান , উপজেলার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মানের জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে এবং তাদেরকে  শীঘ্রই শহীদ মিনার নির্মাণ করতে হবে। উপজেলা নির্বাহী  কর্মকর্তা আক্তার উন নেছা  শিউলি জানান, মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও কলেজে শহীদ মিনার নির্মান করা বাধ্যতামূলক । আমরা সব শিক্ষা  প্রতিষ্ঠানকে শহীদ মিনার  নির্মান করতে  চিঠি পাঠিয়েছি  এবং যারা নির্মান করেনি তাদেরকে দ্রুত শহীদ মিনার নির্মাণ করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা  গ্রহন করতে বলা হয়েছে।