আখাউড়া প্রতিনিধিঃ বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমকে আগামী ১০ দিনের মধ্যে দেশ ও জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন ছাত্রলীগের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া শাখার সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম। বাংলাদেশে চাকরি পেতে হলে প্রত্যেক চাকরিপ্রার্থীকেই ঘুষ দিতে হয়— সিপিবি সভাপতির এমন বক্তব্যের কারণেই মঙ্গলবার (২৬ এপ্রিল) বিকালে তাকে এই নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সিপিবি সভাপতির এই বক্তব্যে ক্ষোভ জানিয়েছেন স্থানীয়রাও। তার বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছেন কসবা ও আখাউড়ার দুই পৌর মেয়র।
জানা গেছে, গত ২০ এপ্রিল ঢাকায় অনুষ্ঠিত এক যুব সমাবেশে সিপিবির সভাপতি মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে চাকরির জন্য প্রত্যেককেই ঘুষ দিতে হয়। ঘুষ ছাড়া চাকরি নিয়েছেন এমন কাউকে পাওয়া গেলে তাকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে।’
ওই সমাবেশে সিপিবি সভাপতি আরও বলেন, ‘ঘুষ ছাড়া চাকরি পেয়েছেন— এমন কারও খোঁজ পেলে আমার কাছে নিয়ে আসবেন। আমি প্রেসক্লাবের সামনে তার ছবি টানিয়ে রাখব।’


সিপিবি সভাপতির এই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করেছেন কসবা-আখাউড়ার স্থানীয়রা। ঘুষ ছাড়াই আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সংসদীয় আসন কসবা-আখাউড়ার এখন পর্যন্ত প্রায় ছয় শতাধিক যুবকের চাকরি হয়েছে বলে দাবি তাদের। তাই সিপিবি সভাপতি তার বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছেন অনেকেই।
মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের ওই বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করে ২২ এপ্রিল আখাউড়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শরীফুল ইসলাম ফেসবুকে লিখেন, ‘আখাউড়া-কসবার সংসদ সদস্য ও আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হকের এলাকার মানুষের চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়নি।’ ঘুষ ছাড়া কসবা-আখাউড়ায় অনেকের চাকরি হয়েছে— এমন দাবি করে সিপিবি সভাপতিকে তার বক্তব্য অনুযায়ী সংবর্ধনা আয়োজন করতে বলেন ছাত্রলীগের এই নেতা।
পরে মঙ্গলবার পাঠানো উকিল নোটিশে তিনি বলেন, ‘সিপিবি সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশের শিক্ষিত তরুণ-তরুণী এবং মেধাবী শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার প্রতি উৎসাহ হারিয়ে ফেলবে। তাই তাকে জাতির কাছে ক্ষমা চাইতে হবে।’
এদিকে, কসবা পৌর মেয়র মো. এমরান উদ্দিন জুয়েল বলেন, ‘মুজাহিদুল ইসলাম সেলিমের বক্তব্যকে আমি চ্যালেঞ্জ করলাম। আইনমন্ত্রী আমাদের এলাকার অনেকের চাকরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে কোনও ধরনের ঘুষ লেনদেন হয়নি। ঘুষ লেনদেনের কোনও প্রমাণ পাওয়া গেলে আমার বিচার করবেন। যেকোনও রায় আমি মাথা পেতে নেবো।’
আখাউড়া পৌর মেয়র মো. তাকজিল খলিফা কাজল বলেন, ‘আমি নির্দ্বিধায় বলতে পারি, এই এলাকার মানুষের চাকরিতে ঘুষ লাগেনি। সিপিবি সভাপতিকে আমি চ্যালেঞ্জ করে বলছি, চাকরি পাওয়া এসব তরুণের মধ্যে আপনি এমন একজনকে খুঁজে বের করুন যাকে চাকরি পাওয়ার জন্য ঘুষ দিতে হয়েছে।’ সিপিবি সভাপতির এ বক্তব্য প্রত্যাহারের জন্য দুয়েকদিনের মধ্যেই উকিল নোটিশ পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।