গাইবান্ধা : সম্প্রতি গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ধাপেরহাট ইউনিয়নের পালানপাড়া গ্রামে সংখ্যালঘু ১২টি জেলে পরিবারের ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটিয়াছে।

 

নিজেদের বাড়ি হইতে বিতাড়িত করিয়া দেওয়ায় বর্তমানে তাহারা খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করিতেছে। সন্ত্রাসীরা তাহাদের বাড়িঘরে ভাঙচুর চালাইয়া গৃহস্থালী আসবাবপত্র আগুন দিয়া পুড়াইয়া দেয়। সেখানে একটি মন্দিরও ভাঙচুর করে এবং পালানপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ঝুলাইয়া দেয় তালা।

 

এইসব অসহায় পরিবার গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সামনে মানবন্ধন করিয়া বাড়িঘর ফেরতসহ ক্ষতিপূরণের দাবি জানায়। তাহারা তাহাদের ওপর বর্বরোচিত হামলার লোমহর্ষক বিবরণ দেয়। এইসময় শিশু ও নারীরা কান্নায় ভাঙিয়া পড়ে এবং কেহ কেহ রাস্তায় শুইয়া পড়িয়াও প্রতিবাদ জানায়।

 

অবশ্য যেই জমি হইতে উপরিউক্ত জেলে সম্প্রদায়দের উচ্ছেদ করা হইয়াছে, সেই জমি নিয়া বিরোধ চলিয়া আসিতেছিল বহু দিন ধরিয়া। চলিতেছিল মামলা-মোকদ্দমাও। আমাদের গাইবান্ধা প্রতিনিধি জানাইয়াছেন, সমপ্রতি সুপ্রিম কোর্ট হইতে রায় নিয়া এই উচ্ছেদ অভিযানে নামে স্বয়ং রায়ে জয়লাভকারী পক্ষ। তিনি সরকার সমর্থক একটি দলের একটি অঙ্গ সংগঠনের তৃণমূলের নেতা।

 

রায় তাহার পক্ষে গিয়াছে বিধায় তিনি সেই জমির অধিকারী নিঃসন্দেহে। কিন্তু যেভাবে সন্ত্রাসী ও সাঙ্গ-পাঙ্গদের দ্বারা ওইসব গরিব-অসহায় লোকদের রাতারাতি উচ্ছেদ করা হইয়াছে, তাহা কোনো অর্থেই সমর্থনযোগ্য নহে। তাহারা এই ব্যাপারেও আইনিপন্থা অবলম্বন করিতে পারিতেন, কিন্তু তাহা না করিয়া নিজেরাই যেভাবে ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছেন, তাহা মানিয়া লওয়া যায় না কিছুতেই।

 

গাইবান্ধার ঘটনাটি একটি উদাহরণ মাত্র। আসলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর নানাভাবে নির্যাতন ও অত্যাচার এখনো বন্ধ হইতেছে না। কোনো কোনো ক্ষেত্রে ইহার চাইতেও ভয়াবহ ঘটনা ঘটিতেছে। ঘটিতেছে লুটপাট ও লোমহর্ষক খুন-খারাপিও। এইক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়া যে প্রশ্ন নাই তাহা হলফ করিয়া বলা যায় না। এই অবস্থা কি দেশবাসীর কাছে অজানা?

 

ইহা মনে করিবার কোনো কারণ নাই যে, বাংলাদেশ একটি সামপ্রদায়িক দেশ হইবে। তাই সংখ্যালঘুসহ অসহায় মানুষের ওপর হামলার ঘটনা যাহাতে আর কখনো ঘটিতে না পারে, সবকিছু যাহাতে আইনের পথে চলিতে পারে, সেইজন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সদাসতর্ক ও তৎপর থাকিতে হইবে।

সূত্র: ইত্তেফাক