নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ থানা পু্লিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে মুঠোফোনে এসএমএস দিয়ে এক প্রবাসীর কাছ থেকে চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এসআই সাইফুল আলমের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন সাদ্দাম নামের ওই সৌদি আরব প্রবাসী। লিখিত অভিযোগের সঙ্গে এসআই সাইফুল আলমের পাঠানো এসএমএসের একটি প্রিন্ট কপিও সংযুক্ত করে দেয়া হয়েছে।

লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জেলার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর ইউনিয়নের লালপুর গ্রামের মৃত আবদুর রউফের ছেলে সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে সৌদি আরবে চাকরি করছেন। এ সুবাদে সাদ্দাম বৈধ চাকরি-ভিসার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে লোক নিয়ে থাকেন। গত দেড় মাস আগে সাদ্দাম বাংলাদেশে আসার পর এসআই সাইফুল আলমের সঙ্গে পরিচয় হয়। এ পরিচয়ের সূত্র ধরে এসআই সাইফুল প্রায়ই সাদ্দামের কাছ থেকে টাকা ধার নিতেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়, সর্বশেষ গত ৭ মে সাদ্দামের মুঠোফেনে এসএমএস পাঠিয়ে সোনালী ব্যাংকের কুষ্টিয়া জেলার হরিনারায়ণপুর শাখার একটি হিসাব নম্বর দিয়ে ৫০ হাজার টাকা চান এসআই সাইফুল।

সাদ্দাম ৩০ হাজার টাকা যোগাড় করে আশুগঞ্জ গোল চত্বরে নিয়ে গেলে এসআই সাইফুল ক্ষিপ্ত হয়ে ৫০ হাজার টাকা না দেয়ায় তাকে মারধর করে ও হাতকড়া পরিয়ে থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় সাদ্দামের চিৎকার শুনে স্থানীয়রা ঘটনাস্থলে ছুটে আসলে তাকে ছেড়ে দেন এসআই সাইফুল। এ ঘটনার পর এসআই সাইফুলের কাছে সাদ্দাম যদি তার পূর্বের পাওনা টাকা ফেরত চান তাহলে তাকে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি ও জেল খাটানো হবে বলে হুমকি দেয়া হচ্ছে।

এ অবস্থায় এসআই সাইফুলের দুর্নীতি ও অবৈধ কার্যকলাপের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বৃহস্পতিবার পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাদ্দাম।

অভিযেগের ব্যাপারে জানতে চাইলে এসআই সাইফুল আলম আমাদের কথা’কে বলেন, আশুগঞ্জের সাদ্দামকে আমি চিনি। তবে তার মোবাইলে আমার এসএমএসটি ভুলক্রমে গেছে। ওই এসএমএমটি সাইপ্রাসে থাকা আমার ছোট ভাই সাদ্দাম আমাকে দিয়েছিল। দুজনের নাম সাদ্দাম হওয়ায় এই সমস্যা হয়েছে।

এ ব্যাপারে পুলিশ সুপার (এসপি) মো. মিজানুর রহমান আমাদের কথা’কে বলেন, তদন্ত করে এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।