সদ্য বিদ্যুতায়িত হলো এলাকা। এরই মাঝে তোড়জোড় শুরু হলো বিদ্যুতের বহুমুখী ব্যবহারের। স্মরণাতীত কাল ধরে বিদ্যুৎহীন এলাকায় বিদ্যুৎ চালু হলো, এখন অতি দ্রুত আকাশ সংস্কৃতির উপকরণ না পৌঁছালে কি চলে? আর এমনি কর্মের তাড়াহুড়োয় বিদ্যুৎস্পর্শে ডিসকর্মী মো. সোহেল মিয়ার (২২) ঘটলো প্রাণপাত।

ডিস লাইনের কেবল ফিটিং করছিলো সোহেল। আর এই কেবল সংযোগ লাগাতেই তাকে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে করতে হলো আরোহণ। কাজ করার এক পর্যায়ে সে অসাবধানতায় স্পর্শিত হয় বিদ্যুতের তারে। ঝুলে থাকে খুঁটির উপরেই। অবশেষে বিদ্যুতের লোকজন ঘটনাস্থলে গিয়ে সোহেলের ঝুলন্ত নিথর দেহটি নিচে নামায়।

আজ মঙ্গলবার (২৩.০৫.১৭) মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটলো ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা এলাকায়। দুপুরের দিকে উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী সুতারমুড়া গ্রামে বিদ্যুৎস্পর্শে নিহত সোহেল পার্শ্ববর্তী রাজনগর গ্রামের মন্নান মিয়ার পুত্র। সে ডিস লাইনের কর্মী।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী এলাকাবাসী জানান, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ডিস লাইনের কাজ করতে সুতারমুড়া গ্রামে যায় সোহেল। ঐ গ্রামের মন মিয়ার বাড়ি সংলগ্ন বৈদ্যুতিক খুঁটিত ওঠে ডিস কেবল সংযোজন করছিলো। এসময় বেখেয়াল কিংবা অসাবধানতায় বিদ্যুতের তারে আচমকা স্পর্শিত হয় সোহেল। আর এতে খুঁটির উপরে ঝুলন্ত অবস্থাতেই তার মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনার খবর পেয়ে উপজেলার খাড়েরাস্থ পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ডিসকর্মী সোহেলের ঝুলন্ত মরদেহ নিচে নামায়।

উল্লেখ্য, গত ১৯ মে শুক্রবার সংশ্লিষ্ট এলাকাটিতে বিদ্যুৎ সংযোগ চালু করা হয়। তাই হয়তো বিদ্যুতের বহুমাত্রিক সুফল পেতে সকলেই যেন মুখিয়ে ওঠে। কিছুতেই যেন তর সইছিলো না। পাশাপাশি ডিস সংযোগ পেতে-দিতে সংশ্লিষ্টদের তোড়জোড় যেন বহুগুণে বেড়ে যায়। আর এই তাড়াহুড়োতে কাজ করতে গিয়েই বিদ্যুতায়িতের মাত্র চারদিনের মাথাতেই বিদ্যুৎস্পর্শে ঘটলো প্রাণপাতের ঘটনা!