স্টাফ রিপোর্টার ॥ বরিশাল জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোঃ মইদুল ইসলাম বলেছেন, ২০১৩ সালে বিএনপি- জামায়াত সারাদেশে জ¦ালাও-পোড়াও চালিয়েছিল। ওই বছরের ২ ডিসেম্বর রাতে ঢাকায় বিহঙ্গ পরিবহনে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা করা হয় ১১জনকে। প্রধানমন্ত্রীর ‘সিমপ্যাথি’ আদায় করে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য বিহঙ্গ পরিবহনের চেয়ারম্যান পঙ্কজের নির্দেশেই ১১জনকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে হত্যা করা হয়। এমপি পঙ্কজ ২০০১ থেকে ৬ সাল পর্যন্ত হাওয়া ভবনের এজেন্ট পিংকুর সাথে ব্যবসা করতেন। নৌকা প্রতীক দেখলেই এমপি পঙ্কজের মাথা খারাপ হয়ে যায়। তাই তিনি আ’লীগের বিরুদ্ধে মাঠে নেমেছেন। গতকাল মঙ্গলবার উপ নির্বাচনী জালিয়াতির বর্ণনা ও এমপি পঙ্কজের মিথ্যাচারের জবাব দিতে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মোঃ মইদুল ইসলাম এসব কথা বলেন। বরিশাল জেলা পরিষদ মিলনায়তনে দুপুরে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আরও বলেন, গতকাল মঙ্গলবার মেহেন্দিগঞ্জের চাঁনপুরা ইউনিয়নে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের আগ মুহূর্তে ১৮ ঘণ্টা আ’লীগ প্রার্থী মাহে আলম ঢালী কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক ও এমপি পঙ্কজের অনুসারীদের হাতে অবরুদ্ধ ছিলেন। দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের নির্দেশে সোমবার সন্ধ্যায় এমপি পঙ্কজ এলাকা ছাড়েন। এমপির অনুসারীরা নির্বাচনে ৩৬ নেতাকর্মীকে হামলায় আহত করেছেন। রাতে নৌকার এজেন্টদের বাড়ি বাড়ি হামলা চালানো হয়। নির্বাচনে নৌকার এজেন্টদের কেন্দ্র থেকে বের করে দেন আ’লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী বাহাউদ্দিন ঢালীর অনুসারীরা। তিনি বলেন, আ’লীগ প্রার্থী মাহে আলম ঢালী নির্বাচন বর্জন করে পুনঃনির্বাচনের দাবিতে রিটার্নিং অফিসারের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। বিএনপি প্রার্থীও নির্বাচনে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে নির্বাচন বর্জন করেছেন। নির্বাচনে অনিয়মের জন্য তিনি পুলিশকে দায়ী করেছেন। জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অভিযোগ করেন, এমপি পঙ্কজ মেহেন্দিগঞ্জে কমিউনিটি স্কুলে নিয়োগ দানের নামে লাখ লাখ টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তার ব্যক্তিগত সচিব সাইফুলকে ওই স্কুলে নিয়োগ দিয়েছেন। মেহেন্দিগঞ্জে ভুয়া খাস জমি বন্দোবস্তের নামে শত কোটি টাকা ঘুষ নেয়া হয়েছে। তিনি কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পে ২০ ভাগ ঘুষ নেন। সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে জেনেছেন যে, ২০১৩ সালে বিহঙ্গ পরিবহনে আগুন দিয়ে ১১জনকে হত্যা করা হয়েছে পঙ্কজ নাথের নির্দেশে। এ ব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক এমপি পঙ্কজ দেবনাথ বলেন, ‘জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সিনিয়র মানুষ। আমরা সকলের কাছে রাজনৈতিক শিষ্টাচার আচরণ কামনা করি। উনি মনোনয়ন বাণিজ্য করেছেন তাই তার প্রার্থী পরাজিত হওয়ায় বেসামাল হয়ে পড়েছেন।’ ২০১৩ সালে বিহঙ্গ পরিবহনে আগুনে মানুষ পোড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘উনি  (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মইদুল) কি জামায়াত না-কি বিএনপি নেতা। তা নাহলে এসব কথা কেন বলবেন।’