নিজস্ব প্রতিবেদক ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিউবো) অফিস যেন দূর্ণীতির বেড়াজালে এক মূমূর্ষ রোগী। এখানে লাইনম্যান, মিটার রিডার থেকে শুরু করে অফিসের  বড় কর্তারা বেশিরভাগই কম-বেশি দূর্ণীতির সাথে জড়িত। আর এসব দূর্ণীতির প্রধান কারণ হচ্ছে কর্তাদের একস্হানে দীর্ঘ দিন চাকুরী  করা। তাদের আবার প্রত্যেকেরই রয়েছে মাঠ পর্যায়ে আন্ডার গ্রাইন্ড (পিয়েস)আর তাদের মাধ্যমে সকল অপকর্ম নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে খোজ আর বিভিন্ন সূএে বেরিয়ে আসে কর্তাদের অপকর্মের বিভিন্ন কাহিনী। জেলা শহরসহ আশে-পাশে শহরতলীর বিভিন্ন এলাকায় রয়েছে অটোরিক্সা গ্যারেজ। আর এসব গ্যারেজ অবৈধ সংযোগের কাজে সহযোগিতায় রয়েছে মাঠ পর্যায়ের পিয়েসরা তারা রাত দশটা থেকে ভোর ছয়টা অভিনব কায়দায় অবৈধ সংযোগ কাজে সহযোগিতা করে আসছে। অটো গ্যারেজের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি হচ্ছে ভাদুঘর, উলচাপাড়া, বিজেশ্বর, গোর্কণঘাট, হিলের বাজার,গাছতলা  বিরামপুর, কালিসীমাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায়। পল্লী বিদুৎতের আওতা মুক্ত এসব এলাকায় হচ্ছে তাদের অবৈধ চুরির সংযোগের মূল কারিগরি। প্রতিটি গ্যারেজ থেকে মাসে মোটা অংকের  টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন । ব্যাপারটা অনেকটা ওপেন কিন্তু কাজে বেলায় সিগ্রেট।

এছাড়া পৌর শহরের পুনিয়াউট, দাতিয়ারা, ভাদুঘর, পৈরতলা, শেরপুর, মেড্ডা এলাকার ময়লা ভিটাসহ কয়েকটি মহল্লায় রয়েছে অবৈধ সংযোগ ব্যবহারের হিড়িক। এসব সংযোগ বেশির ভাগই প্রভাবশালীদের বিভিন্ন বস্তি বাড়ি, দোকানঘরে ব্যবহৃত হচ্ছে। পৌরসভার সংযোগ থেকে পুনিয়াউট, দাতিয়ারা এলাকায় নামী-দামী পরিবারের লোকজন নিজের প্রশান্তির জন্য এসি থেকে শুরু করে নিজেদের রাতের বেলার বাসা-বাড়ির সমস্ত বিদুৎ ব্যবহার করছে পৌরসভার লাইন থেকে।অনেকের বাড়িতে বিদুৎ অফিসের সংযোগের সাথে পৌর সভার বিদুৎতের সংযোগ থেকে দুভাবে লাইন টানা রয়েছে। সময় আর সুযোগ বুঝে দুভাবেই ব্যবহার করা হচ্ছে। একথায় একদিকে সাধারণ গ্রাহকরা মিটারের দ্বিগুন গড় বিল বহন করতে হচ্ছে অন্যদিকে অবৈধ সংযোগরা সরকারের লক্ষ লক্ষ বিল ফাকিঁ দিয়ে অবৈধ সংযোগ ব্যবহার করছে। নাম প্রকাশ না করা শর্তে গোর্কণ ঘাট এলাকার একজন অটোগ্যারেজের মালিক জানান, আমার গ্যারেজে প্রতিদিন ২৫/২৮ অটেরিক্সা চার্জ দেয়। তাতে প্রতিমাসে ৩০/৩৫ হাজার বিল আসে আর আমার এলাকার সহ আশেপাশের এলাকার অনেক অটোগ্যারেজ রয়েছে ৬০/৭০টা অটো চার্জ করে বিল আসে প্রতি মাসে ১২/১৫ হাজার টাকা। তিনি আরও বলেন আমি নির্ভয় যোগ্য সূএে জানতে পেরেছি তারা নাকি বড় কর্তাদের সংঙ্গে ঔন্য ব্যবস্হা করা আছে। গড়ে প্রতিমাসে মোটা অংকের অর্থ দিয়ে থাকেন। অনেকটা আবেগপ্রবণ ভাবে গ্যারেজ মালিক বলেন রক্ষণ যদি বক্ষণ হয় ব্যবস্হা নিবে কে?
এছাড়া কয়েকদিন যাবৎত ঘন ঘন লোডশেডিং নিয়ে জনগণের ভোগান্তি আরো বেড়েছে। প্রতি ঘন্টার মর্ধ্যে বাতি তিন থেকে চারবার জ্বলছে আর নিভছে। সব মিলিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিউবো অফিস অনেকটাই মূমূর্ষ অবস্হায় আক্রান্ত হয়ে রয়েছে। অফিসের একজন চাকুরজীবি বলেন, বিদুৎ অফিসের লোকজন আছে সারাক্ষণ টাকা রোজগারের দান্দায়। গ্রাহকদের সুখ-দু:খ নিয়ে কর্তাদের বেশি মাথা ব্যথা নেই।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিদুৎ উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো: কামরুজ্জামান বলেন, আমি গত এক সপ্তাহে বিভিন্ন অবৈধ সংযোগের অপরাধে বিশটির মত মামলা দিয়েছি। বাসাবাড়িতে অবৈধ সংযোগ সহ সবকিছু এসব মামলায় রয়েছে। আর কর্মচারীরা দীর্ঘদিন একজায়গায় এই বিষয়ে বদলীর ব্যাপারটি  কুমিল্লা বোর্ডের ক্ষমতা ব্যাপার এটি আমার ক্ষমতার বাহিরে। অটোগ্যারেজে অবৈধ সংযোগের বিষয়ে তিনটি মামলা দেওয়া হয়েছে। আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।