কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিসে এখন সইজেই সেবা নিতে পারছে মানুষ। মাত্র ১১৭০ টাকায় কোনো প্রকার ভোগান্তি ছাড়াই নাম জারি করে নিতে পারছে। মিসকেস বোর্ডে দেখে নিতে পারছে সর্বশেষ তথ্য। রেকর্ড রুম ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম (আরএমএস) সুবিধায় প্রয়োজনীয় তথ্য পাওয়া যাচ্ছে যখন তখন।

ব্যস্ততায় সেবা দিয়ে যাচ্ছে নতুন চালু হওয়া ভূমি হেল্প ডেস্ক, সততা পয়েন্ট। কাজ চলছে ভূমি হটলাইন ও পৃথক বিশ্রাম কক্ষের। যাতে পৃথকভাবে বসতে পারবেন মুক্তিযোদ্ধা ও নারীরা। স্বস্তি দিচ্ছে পরিচ্ছন্ন পাবলিক টয়লেটও। সবচেয়ে বড় কথা- ভূমি অফিসে বন্ধ হয়ে গেছে দালালদের দলাদলি আর উৎপাত।

ভোগান্তি ছাড়াই নিজের কাজ হয়ে যাওয়ায় বেজায় খুশি উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামের সাহাব উদ্দিন মজুমদার। নির্দ্বিধায় দিন বদলের সব কৃতিত্ব নতুন সহকারী কমিশনার (এসি-ল্যান্ড) রবিউল হাসানকে দিয়ে দিলেন। যিনি চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিসের দায়িত্ব নিয়েই স্টাফদের ডেকে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, এই অফিসে কোনো দালাল থাকবে না। কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীকে দালালদের সঙ্গে কথা বলতে দেখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আবেদনের পর সেবা দিতে হবে নির্ধারিত সময়েই। কোনো অফিসার বা কর্মচারী বিনা প্রয়োজনে অফিসের বাইরে যেতে পারবে না। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যেতে হলে নির্ধারিত ছকে লিখে দিতে হবে কারণসহ যাওয়ার ও ফেরার সময়।

তাই বদলে গেছে চৌদ্দগ্রাম ভূমি অফিস। ঝামেলাহীন সেবা পাওয়ায় আস্থা বেড়েছে সাধারণ মানুষের।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রবিউল হাসান যোগদানের আগে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিস ছিল মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য। রবিউল হাসান যোগদানের পরপরই সর্বপ্রথম চারদিকে লাইটিংয়ের ব্যবস্থা করেন।

চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানান, ভূমি অফিসে হেল্প ডেস্ক তৈরি, যাবতীয় কাগজ রক্ষণাবেক্ষণের আলমিরা, শোকেস ছিল না। এজন্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজসমূহ নষ্ট হয়ে যেতো। অফিসের স্টাফদের প্রত্যেককে সরকারি আইডি ব্যবহার বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন। অফিস চলাকালিন সময়ে কার্ডটি গলায় ঝুলিয়ে রাখতেও কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নিজস্ব অর্থায়নে ভূমি সংক্রান্ত আইন সম্বলিত বই বিতরণ করেছেন।