গরুর দু‌ধ যে শুধু সুস্বাদু তা-ই নয়, পাশাপাশি সেই দুধ স্বাস্থ্যকরও। বাঙালি গৃহস্থবাড়ির খাদ্যতালিকায় গরুর দুধ তাই প্রায় অপরিহার্য অঙ্গ। কিন্তু আসল গরুর দুধের বদলে যদি শরীরে যায় নকল দুধ? তা হলে শরীরের যে কোনও উপকার হবে না, বরং মারাত্মক বিপদের আশঙ্কাই থেকে যাবে, তা বলাই বাহুল্য। কিন্তু বাংলার বাসিন্দাদের একটা বড় অংশই খাঁটি গরুর দুধের বদলে খাচ্ছে নকল গরুর দুধ। এবেলা.ইন-এর তদন্তে সেই সত্যই উঠে এসেছে।

আরও পড়ুন
দুধ না খেলে কী হয়? জানেন কি?
অতিরিক্ত দুধ উৎপাদনে গরু-মোষকে ড্রাগ, হতে পারে পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া!

এবেলা.ইন-এর প্রতিনিধির তদন্তের মাধ্যমে উদ্ঘাটিত হয়েছে এক মারাত্মক তথ্য। জানা গিয়েছে, উত্তর চব্বিশ পরগণার হাবড়া স্টেশনে দিনের আলোয় জনসমক্ষে তৈরি হচ্ছে কৃত্রিম গরুর দুধ। কী ভাবে এই দুধ তৈরি করা হচ্ছে? এবেলা.ইন-এর গোপন ক্যামেরার সামনে সেই প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন নকল দুধের কারবারিরাই। প্রথমে এক ক্যান ভর্তি খাঁটি গরুর দুধ আনা হচ্ছে স্টেশনে। তার পর অন্য পাঁচটি দুধের খালি ক্যান প্রায় পুরোটাই ভর্তি করা হচ্ছে জল দিয়ে। তার পর প্রতি ক্যানে ৭০০ গ্রাম করে পাউডার মেশানো হচ্ছে। সঙ্গে ২৫ গ্রাম করে খাবার সোডাও ঢালা হচ্ছে প্রত্যেক ক্যানে। সেই সঙ্গে প্রতি ক্যানে মিশছে সোডিয়াম বাইকার্বনেট এবং ফর্মালিন। এই দুটো উপাদান নকল দুধেও নিয়ে আসে আসল দুধের মতো গন্ধ। পাশাপাশি দুধ তাজাও থাকে অনেক দিন। তার পর খাঁটি দুধ প্রত্যেক ক্যানে অল্প অল্প করে মিশিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আধঘন্টার মধ্যেই এক ক্যান দুধ থেকে তৈরি হয়ে যাচ্ছে পাঁচ ক্যান কৃত্রিম দুধ।

সকলের চোখের সামনেই এই ভাবে তৈরি করা হচ্ছে কৃত্রিম দুধ। কিন্তু সাধারণ মানুষ দূরস্থান, জিআরপি এবং আরপিএফ-র দিক থেকে কোনও প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কোনও লক্ষণ নেই। কিন্তু কেন এই ভাবে কৃত্রিম দুধ তৈরি করছেন ব্যবসায়ীরা? এক জন এমন দুধ নির্মাতাকে এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, গোপন ক্যামেরার সামনে তিনি বলেন, কলকাতা এবং শহরতলির অজস্র মিষ্টির দোকানের দুধের চাহিদা মেটানোর মতো খাঁটি দুধের জোগান নেই। বাধ্য হয়ে এমন অদ্ভুত উপায়ে কৃত্রিম দুধ তৈরি করা হচ্ছে। কিন্তু এই দুধ খেলে তো শরীরের ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে! ব্যবসায়ীর নির্বিকার উত্তর, ‘আমাদের বাচ্চারা তো আর এই দুধ খাবে না। খাবে কলকাতার বাচ্চারা। তারা অসুস্থ হলে আমাদের কী?’

সত্যিই কতটা ক্ষতি হতে পারে এই কৃত্রিম দুধ খেলে? হাবড়া স্টেট জেনারেল হাসপাতালের সুপার শঙ্করলাল ঘোষ এই প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘সোডিয়াম বাইকার্বনেট কিডনির অসুখের অন্যতম কারণ। আর ফর্মালিন শরীরে গেলে ক্যানসার হয়। কাজেই এই দুধ খেলে শরীরের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।’ তাতে অবশ্য কিছু যায়-আসে না অসাধু ব্যবসায়ীদের। প্রশাসনের উদাসীনতার সুযোগ নিয়ে তাঁরা বহাল তবিয়তে চালিয়ে যাচ্ছেন তাঁদের ব্যবসা। সাধারণ মানুষও অসহায়। দুধ অথবা দুগ্ধজাত দ্রব্যের আকারে এই কৃত্রিম দুধ খেয়ে নিজেদের শরীরের বারোটা বাজাচ্ছেন তাঁরা।