গাজীপুরের শ্রীপুরে বাবা ও মেয়ের আত্মহত্যায় প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি ফারুক (৩০) শিশুটিকে যৌন নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব-১।

শনিবার বিকেলে কারওয়ান বাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে র‌্যাব-১-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সারোয়ার বিন কাসেম এ কথা জানান।

সারোয়ার বিন কাসেম বলেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে র‌্যাব-১-এর একটি আভিযানিক দল সাভারের ইসলাম নগর এলাকা থেকে আসামি মো ফারুককে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে জানিয়েছে, বাবা-মেয়ের আত্মহত্যার ঘটনার দুই মাস আগে মেয়েটিকে চকলেট খাওনোর প্রলোভন দেখিয়ে যৌন নির্যাতন করেছে।

এর আগে শুক্রবার রাতে সাভার এলাকা থেকে র‌্যাব-১ এর একটি দল ফারুককে গ্রেফতার করে। শনিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানানো হয়। গ্রেফতার ফারুক শিশুকে যৌন নির্যাতন ও আত্মহত্যা প্ররোচনা মামলার প্রধান আসামি।

মেয়ের নির্যাতনকারীর বিচার চেয়ে না পেয়ে গত ২৯ এপ্রিল শ্রীপুর রেল স্টেশনের কাছে মেয়ে আয়েশাকে নিয়ে চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন হযরত আলী (৫৫)। ওই ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনায় হযরত আলীর স্ত্রী হালিমা বেগম ফারুককে প্রধান আসামি করে সাতজনের বিরুদ্ধে আত্মহত্যা প্ররোচনার মামলা করেন।

র‌্যাব-১ এর গাজীপুর ক্যাম্পের কমান্ডার ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো.মহিউল ইসলাম বলেন, ‘চলন্ত ট্রেনের নিচে ঝাপিয়ে পড়ে বাবা-মেয়ের মৃত্যুর পর ফারুক হোসেন কাপাসিয়ায় পালিয়ে যায়। গোপন খবর পেয়ে সেখানে র্যা ব সদস্যরা অভিযান চালানোর আগেই ফারুক ফরিদপুরে এক পীরের মাজারে পালিয়ে যায়। সেখানে মহসিন নামে এক ভক্তের সঙ্গে মাজারে কয়েকদিন থাকে। পরে তার সঙ্গে পরিচয় ও সখ্যতা হলে ওই ভক্তের সঙ্গেই সাভারের ইসলামনগর এলাকায় চলে আসে সে। ওই এলাকায় ফারুক সাড়ে তিন শ টাকা হাজিরায় রড মিস্ত্রির সহযোগী হিসেবে কাজ করতে থাকে।’

তিনি আরও বলেন, ‘গোপনে খবর পেয়ে শুক্রবার রাত ৮টার দিকে অভিযান চালিয়ে ইসলামনগর এলাকা থেকে ফারুককে গ্রেফতার করা হয়।’

এর আগে ফারুকের অন্যতম সহযোগী বোরহান উদ্দিনকে শুক্রবার ভোরে নেত্রকোণার দূর্গাপুর উপজেলার সীমান্তবর্তী ঝাঝর এলাকা থেকে গ্রেফতার করে শ্রীপুর থানা পুলিশ। বোরহান আত্মহত্যার প্ররোচনা মামলার পলাতক ৩ নম্বর আসামি।

শ্রীপুর থানার এসআই শহিদুল ইসলাম মোল্লা জানান, তদন্তে নিশ্চিত হয়ে দুর্গাপুরের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে বোরহানকে গ্রেফতার করা হয়। ঘটনার পরপরই স্থানীয় ইউপি সদস্য আবুল হোসেন বেপারীকে আটক করা হয়েছিল। প্ররোচনা মামলার সাত নম্বর আসামি আবুল হোসেন।

ঘটনার পর পুলিশ এবং র‌্যাব বিষয়টির ছায়াতদন্ত শুরু করে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেফতারে বিভিন্ন জায়গায় অভিযান পরিচালিত করা হয়। এরই ধারবাহিকতায় শনিবার র‌্যাব ও পুলিশের পৃথক অভিযান পরিচালিত হয়। পরে র‌্যাবের হাতে প্রধান আসামি ফারুক ধরা পরে।

এর আগে গতকাল শুক্রবার সকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোণার দূর্গাপুর থানার ঝানঝাইল এলাকায় অভিযান চালিয়ে এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে বোরহান (৩০) নামে মামলার তিন নাম্বার আসামিকে গ্রেফতার করেছিলো পুলিশ।

মামলায় গ্রেফতারের বাকি অপর আসামিরা হলেন- আ. খালেক (৬০), ফাইজুদ্দিন (৫০), আব্দুল হামিদ (৪৫) ও শাহিদ (৪০)। এরা সবাই আত্মগোপনে রয়েছেন।

উল্লেখ্য, নানা নির্যাতনের বিচার না পেয়ে মেয়েকে নিয়ে শ্রীপুর উপজেলার কর্ণপুর ভিটিপাড়া গ্রামের হালিমার স্বামী হযরত আলী (৪৫) ও তার শিশু কন্যা আয়েশাকে (৮) নয়ে গত ২৯ এপ্রিল সকালে শ্রীপুর রেলওয়ে স্টেশনের পশু হাসপাতাল সংলগ্ন এলাকায় আউটার সিগন্যালের পাশে ট্রেনের নিচে ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যা করেন।

পরে ঘটনার পরদিন আত্মহত্যা প্ররোচনার অভিযোগে ঢাকার কমলাপুর জিআরপি থানায় তার স্ত্রী হালিমা বেগম বাদী হয়ে সাতজনের নামে মামলা করেন।