‘দেশে স্বাধীনতার ইতিহাস বিকৃতি চলছে। আওয়ামী লীগ দলগতভাবে কোনো স্বাধীনতা ঘোষণা করেনি এবং স্বাধীনতার স্বপক্ষেও ছিল না।’

একই সঙ্গে তিনি বলেছেন, ‘এটা আমার নিজের মনগড়া কথা নয়। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের আগ পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ‘স্বাধীনতার’ ‘স্ব’ উচ্চারণ করেছেন এরকম কোনো বই কিংবা প্রমাণও কেউ দেখাতে পারবে না।’

শনিবার রাতে ফটিকছড়ির মাইজভান্ডার দরবার শরীফে জেয়ারত শেষে দলীয় নেতাকর্মী ও স্থানীয় সাংবাদিকদের সাথে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

আ স ম রব বলেন, ‘দেশে কোনো গণতন্ত্র নেই। ক্ষমতাসীন দলের স্বৈরাচারী শাসনে রাজনৈতিক দলগুলোর সভা-সমাবেশ বন্ধ। জনসভায় অঘোষিত বাঁধা এবং সাধারণ মানুষের রাজনৈতিক ও স্বাধীনতা হরণের মহোৎসব চলছে।’

স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্রখচিত প্রথম পতাকা উত্তোলক আব্দুর রব ক্ষিপ্ত কণ্ঠে বলেন, ‘এদেশের পতাকা এতিম। পতাকার তো কোন মা-বাপ নেই। স্বাধীনতার ৪৫ বছর পরেও রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রাথমিক কিংবা মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো বই-পুস্তকে পতাকা উত্তোলকদের নাম লেখা হয়নি।’

ছাত্রলীগের তৎকালীন সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে থাকা এ নেতা বলেন, ‘ছাত্রলীগের বর্তমান কর্মকাণ্ড জাতি দেখছে। তবে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারির পূর্ব পর্যন্ত ছাত্রলীগ, যুবক, শ্রমিক, কৃষকদের অসামান্য অবদানের কথা যদি না লেখা হয়, তবে স্বাধীনতার ইতিহাস অসম্পূর্ণ থেকে যাবে।’

ভবিষ্যতে নির্বাচনে যাবে কি না তার দল? এমন প্রশ্নের জবাবে রব বলেন, ‘জনগণের ভোট দেয়ার পরিস্থিতি থাকলে ‘জেএসডি’ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে এবং ৩শ’ আসনে প্রার্থী দেবে। তবে আসন্ন নির্বাচন নিয়ে দেশে নাটক চলছে। নাটকের মধ্যে সবসময় আসল জিনিস থাকে না। আরও দু’বছর সময় কাটানোর জন্য আওয়ামী লীগ এইসব নাটক সাজাচ্ছে।’

সাবেক এ ছাত্রনেতা আরও বলেন, ‘এই দেশে পীর-দরবেশ ও সুফিদের মাধ্যমে ইসলাম ধর্ম প্রচার হয়েছে। বিশেষ করে ইরাক-ইরান-তুরস্ক ও আরব দেশ থেকে জাহাজ যোগে চট্টগ্রামে তাদের আগমণ হতো। তাই বারআউলিয়ার পূণ্যভূমি চট্টগ্রাম। তার মধ্যে মাইজভাণ্ডারী সুফিবাদ সর্বক্ষেত্রে প্রসিদ্ধ। এখানে আগেও এসেছি, এখনও এসেছি দোয়ার জন্য।’

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জেএসডির কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি তানিয়া ফেরদৌসি, যুগ্ন সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহবুব স্বপন, সৈয়দ তারেকুল আনোয়ার, মো. এয়াকুব, আবু সৈয়দ শফিউল আলম খোকন, আবদুল মালেক, আবু তাহের, রেজাউল করিম, মোস্তফা সাহাব উদ্দিন, সাউফুল ইসলাম, ফেরদৌস মাহমুদ, মনিরুল ইসলাম, দিদার হোসেন ও শাহ এমরান সুমন প্রমুখ।