বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট গভীর নিম্নচাপটি ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নিয়েছে। ঘূর্ণিঝড়টির নামকরণ করা হয়েছে ‘মোরা’। এটি আরও ঘণীভূত এবং উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল মঙ্গলবার সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে।

এদিকে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৭ নম্বর পুনঃ ৭ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অপরদিকে মংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৪ নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ৫ নম্বর পুনঃ ৫ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। এছাড়াও উপকূলীয় বেশ কয়েকটি জেলাকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় রাখা হয়েছে।

এদিকে বিপদ সংকেতে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগর উত্তাল থাকায় এসব এলাকায় অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ আব্দুল মান্নান সোমবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ছাড়া আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

বিশেষ বুলেটিনে জানানো হয়, পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত ঘূর্ণিঝড় ‘মোরা’ উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে পূর্ব-মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ৫২৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ৪৪৫ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫৮০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৫১০ কি.মি. দক্ষিণ-দক্ষিণপূর্ব দিকে অবস্থান করছে।

এটি আরও ঘণীভূত ও উত্তর দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল (মঙ্গলবার) সকাল নাগাদ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার উপকূল অতিক্রম করতে পারে। এসময় এর গতিবেগ থাকবে ঘণ্টায় প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বা তারও বেশি। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ১৫০মিলি মিটার বা (৬ ইঞ্চি) পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। এরফলে উপকূল অঞ্চল প্লাবিত হবার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৬২ কিলোমিটার, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ৮৮ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাগর উত্তাল রয়েছে।