অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, বিড়ির সময় শেষ। এটা অনেক ক্ষতিকর। এটা রাখা যাবে না। তবে আপনাদের যা বিনিয়োগ রয়েছে, সেটা শেষ হবার জন্য তিন বছর সময় দেয়া যাবে। এ সময় অল্প ট্যারিফ বাড়ানো হবে। নতুন করে আর বিনিয়োগ করবেন না।

এ সময় অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বিড়িশ্রমিক নেতাদের তুমুল বাকবিতণ্ডা হয়। বিড়িশ্রমিকদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিড়িশ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি বিজয় কৃষ্ণ দে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ মহীউদ্দিন।

বিড়িশ্রমিক নেতাদের উদ্দেশে অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা মানুষকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিচ্ছেন। এটা করার অধিকার আপনাদের নেই।’

অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বিড়ি শিল্প মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, দেশীয় বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করে সিগারেটকে সুযোগ দেয়ার সিদ্ধান্ত আপনি নিতে পারেন না। এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিলে বিড়ি শিল্পই ধ্বংস হয়ে যাবে। এখাতের প্রতি ব্যবসায়ীর হাজার কোটি টাকার মেটেরিয়াল রয়েছে। এগুলোর কি হবে? সিদ্ধান্ত নিলে সবার জন্য নেয়া উচিত।

ডা. শেখ মহিউদ্দিন বলেন, ‘আসন্ন বাজেটে বেনসন সিগারেটের দাম বাড়ছে না। অথচ সাত টাকার বিড়ির দাম ১৭ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে। বিড়ির উপর ২০০ শতাংশ কর আরোপ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এই অসম প্রতিযোগিতা সৃষ্টির মাধ্যমে বিড়ি শিল্পকে ধ্বংস করা হচ্ছে। বিড়ি শিল্প বন্ধ করা হলে সিগারেটও বন্ধ করতে হবে।’

এ সময় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘সিগারেটে সুগার কন্টেইন কম হওয়ায় সিগারেটের চেয়ে বিড়ি অনেক বেশি ক্ষতিকারক। স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক তামাক ও এ জাতীয় নেশা দেশ থেকে একেবারে বিতারিত করা হবে। এ জন্য যা যা প্রয়োজন সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শুধু বিড়ি নয় দেশ থেকে পর্যায়ক্রমে সিগারেটও দূর করা হবে।’

এ পর্যায়ে ডা. শেখ মহীইদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে এক হাজার কোটি টাকার কাঁচা তামাক পড়ে আছে কাঁচামাল হিসেবে। আমরা এগুলো এখন কী করব? আপনি তো আমাদের অভিভাবক।’

অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘ঠিক আছে, আপনাদের দুই বছর না তিন বছর সময় দেওয়া হলো। এর মধ্যে সব শেষ করে ফেলেন। আমরা সিগারেটের পক্ষেও না। সেটা নিয়েও কাজ চলছে।’

সবশেষে মহীউদ্দিন বলেন, ‘আপনার কোমল হাত দিয়ে বিড়ির ওপর ২০০ পারসেন্ট ট্যাক্স বৃদ্ধি করতে পারেন না। আপনাকে কেউ ভুল বুঝিয়েছে। এটা আমরা বিশ্বাস করি না।’

জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘না না না। এটা আমি নিজেই করেছি। আমি বুঝেশুনেই করেছি। বরং প্রধানমন্ত্রী এটাতে রাজি ছিলেন না। আমিই প্রধানমন্ত্রীকে বুঝিয়ে এটা করেছি।’