সরাইল প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইলে গোসলের সময় এক স্কুলছাত্রীর (১৫) নগ্ন ছবি গোপনে তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করার অভিযোগে আসামী মনির হোসেনকে (৩২)এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত।
বৃহস্পতিবার সরাইল থানার  মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা  পুলিশ উপ-পরিদর্শক মো. ঈসমাইল হোসেন আসামীর  পাচঁ দিনের রিমান্ডের আবেদন করলে  ব্রাহ্মণবাড়িয়া আদালতের  অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শফিকুল ইসলাম তার একদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা আরও জানান, বাদীর এজাহারের দায়ের পরে একমাত্র আসামী মনিরকে গ্রেফতারের পর তদন্তের স্বার্থে ও কিছু গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ড সংগ্রহ করতে সময় লাগায়  তার রিমান্ড আবেদন করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে।
উল্লেখ যে, মনির পাঁচ-ছয় মাস ধরে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে স্কুলে আসা-যাওয়ার পথে উত্ত্যক্ত করে আসছিলেন। তাঁর প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় ওই ছাত্রীকে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন মনির। তাঁর অত্যাচারে গত ফেব্রুয়ারি মাস থেকে ওই ছাত্রীর স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে যায়। মেয়েটির পরিবার তাকে তার নানাবাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। রাতের বেলায় একাধিকবার মনির মেয়েটির নানাবাড়িতে ঢুকে পড়েন। এ নিয়ে গ্রামে একাধিকবার সালিস বৈঠকও হয়েছে।
কিছুদিন পর ওই ছাত্রী তার বাড়িতে ফিরে আসে। এরপর মনির ওই ছাত্রীর প্রতিবেশী এক নারীর সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন। পরে নারীর সহায়তায় তিনি গোপনে ওই ছাত্রীর গোসলের স্থির ও ভিডিও চিত্র ধারণ করেন। কয়েক দিন আগে এসব নগ্ন ছবি প্রিন্ট করে ওই ছাত্রীর বাড়িতে এবং প্রতিবেশীদের বাড়িতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে ফেলে রাখেন মনির। একই সঙ্গে ফেসবুকে এসব ছবি ও ভিডিও চিত্র ছেড়ে দেন তিনি।
বাধ্য হয়ে ওই ছাত্রীর বড় ভাই ১৫ মে বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে ইসরাত এর কাছে লিখিতভাবে অভিযোগ জানান। ইউএনও ১৬ মে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দেন। এরপর সরাইল থানার পুলিশ মনিরকে গ্রেপ্তার করেন।