নিউজ ডেস্ক: নিউইয়র্কে এক দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন বাংলাদেশী চিকিৎসক ডা.ওয়াজেদা বানু ওরফে রূপালী (৪৮)। এই দূর্ঘটনায় আরো তিনজন গুরুতর আহত হয়েছেন। গত ২৯ মে সোমবার সকালে দু’টি গাড়ীর সংঘর্ষে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন নিহতের স্বামী ডা. খায়রুল আবেদীন (৫১) ও জনপ্রিয় সঙ্গীত শিল্পী রথীন্দ্রনাথ রায়ের স্ত্রী সন্ধ্যা রায় (৫৯)। তারা একই গাড়িতে করে তাদের কর্মস্থল ফ্লাশিং-এর একটি হাসপাতালে যাচ্ছিলেন। এই দূর্ঘটনায় অপর গাড়ীর চালক (৩৬) আহত হন। নিহত ডা. ওয়াজেদা বানুর দেশেরবাড়ী বগুড়া শহরের সূত্রাপুরে।

জানা গেছে, জ্যামাইকার একই এলাকার অধিবাসী ডা. ওয়াজেদা বানু ও সন্ধ্যা রায় ফ্লাশিং হাসপাতালে কাজ করতেন। ঘটনার দিন ভোর ৪টা ৪৮ মিনিটে কুইন্স হাসপালের কাছে ১৬৪ স্ট্রীট ধরে গ্রান্ড সেন্ট্রাল পার্কওয়ে ক্রসিং-এই মর্মান্তিক দূর্ঘটনা ঘটে। ডা. বানুর স্বামী ডা. খায়রুল আবেদীন স্ত্রী ও সন্ধ্যা রায়কে তার নিশান সেন্ট্রা গাড়িতে করে ফ্লাশিং-এ পৌঁছাতে যাচ্ছিলেন। ১৬৪ স্ট্রীট ধরে গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল পার্কওয়ে ক্রসিং-এ আসতেই গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল ধরে আসা অপর একটি টয়োটা নিশান এসইউভি প্রাইভেট কার তাদের গাড়িকে মুখোমুখি ধাক্কা দেয়। এতে তাদের গাড়িটির সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং গাড়িটি পাশের ফুটপাথের ওপর ছিটকে পড়ে। এতে উভয় গাড়ীর চারজন গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার সাথে সাথেই ডা. ওয়াজেদা বানুকে নিকটবর্তী কুইন্স হাপতালে নেয়া হলে ডাক্তাররা তাকে মৃত ঘোষণা করেন এবং তার স্বামী গাড়ির চালক ডা. খায়রুল ও পেছনের আসনে বসা সন্ধ্যা রায়কে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ডা. খায়রুল বুকে প্রচন্ড ব্যাথা পান এবং সন্ধ্যা রায়ের পাঁজরের তিনটি হাড় ভেঙে গেছে। র্দর্ঘটনার পর ডা. খায়রুল আবেদীন তিন ঘন্টা সংজ্ঞাহীন ছিলেন।

সর্বশেষ খবরে জানা গেছে, আহত ডা. খায়রুল আবেদীন ও সন্ধ্যা রায়কে হাসপাতাল থেকে বাসায় পাঠিয়ে পূর্ণ বিশ্রাম সহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিতে বলা হয়েছে। দুর্ঘটনা কবলিত অপর গাড়িটিরও চালক ছিলেন একজন মহিলা। তার গাড়ীর সম্মুখভাগ দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং তিনিও গুরুতর আহত হন। তাকে নর্থ শোর ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানা যায়।
নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দুই পুত্র সন্তানের জননী ডা.ওয়াজেদা বানু ২০০৯ সালের মাঝামাঝি ইমিগ্রান্ট হয়ে স্বামী ও দুই শিশু পুত্র নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র আসেন। তারা উভয়ই রংপুর মেডিকেল কলেজে কর্মরত ছিলেন। নিউইয়র্কে আসার পর ডা. খায়রুল ডাক্তারি লাইসেন্স পরীক্ষার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। ডা. ওয়াজেদা বানু ফ্লাশিং হাসপাতালে মেডিকেল এ্যাসিস্ট্যান্ট হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তারা জ্যামাইকার ১৬৮ ষ্ট্রীট ও ৮৯ এভিনিউ এলাকায় বসবাস করতেন। মাত্র ১১ দিন আগে নিহত ডা. ওয়াজেদার পিতা ইন্তেকাল করেন। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হওয়ার পর চিকিৎসক দম্পতি মাত্র একবার বাংলাদেশে বেড়াতে যান। দুর্ঘটনার ব্যাপারে পুলিশী তদন্ত চলছে।

এদিকে গত ৩১ মে বুধবার বাদ এশা জ্যামাইকা মুসলিম সেন্টারে ডা. ওয়াজেদার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত এবং পরদিন লং আইল্যান্ডস্থ ওয়াশিংটন মেমোরিয়াল কবরস্থানে তার মহরদেহ দাফন করা হয়। জানাজায় বিপুল সংখ্যক মুসল্লী অংশ নেন।