প্রবাসের কথা ডেস্ক, সময়ের কণ্ঠস্বর-

ওমানের  মাসকট শহরে রোজা রাখা অবস্থায় তীব্র তাপদাহে দীর্ঘ সময় কাজ করতে গিয়ে অতিরিক্ত তাপমাত্রা সহ্য করতে না পেরে চার বাংলাদেশিসহ ছয় নির্মাণ শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। রমজানের প্রথম সপ্তাহে দেশটির রাজধানী মাসকটে হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে ওই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।ওমানের স্থানীয় গনমাধ্যম জানিয়েছে,  প্রায় ৫০ ডিগ্রি তাপমাত্রার প্রচন্ড গরমে হিট স্ট্রোকে মৃত ছয় শ্রমিকের মধ্যে চারজন বাংলাদেশি ও অপর দুইজন পাকিস্তানের নাগরিক।

ওমানের জাতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, রমজানে টানা ১৫ ঘণ্টা তাপদাহ সহ্য করে রোজা অবস্থায় কাজ করতে গিয়ে এমন দুর্ঘটনা ঘটছে। পবিত্র রমজান মাসের শুরুতেই ওমানের তাপমাত্রা ৫০ ডিগ্রিতে পৌঁছে।

মাসকাটে প্রচন্ডে গরমে দুই শ্রমিকের পানি খাওয়ার দৃশ্য – ছবি ওমান টাইমস

গত ৮ বছরের মধ্যে এবারই দেশটিতে সর্বোচ্চ গরম অনুভূত হচ্ছে। আর এই তীব্র গরমে রোজা থাকা অবস্থায় বাইরে কাজ করতে গিয়ে গরমে নাজেহাল হচ্ছেন বাংলাদেশি শ্রমিকরা।

ওমান প্রবাসী আব্দুর রশীদ টেলিফোনে সময়ের কণ্ঠস্বরকে  জানান, মাঝে এক ঘণ্টার বিরতি দিয়ে এসব শ্রমিকরা সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কাজ করতেন। সরকার রমজান মাসে দুই ঘণ্টা কর্মঘণ্টা কমিয়ে দিলেও কোম্পানির নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকরা সে সুবিধা পায় না।

তিনি আরও জানান, রোজা রেখে কাজ করা খুবই কষ্টকর। মাথা ঘুরাবে এবং খুব দুর্বল হয়ে পড়বেন। কিন্তু দেশে পরিবারকে টাকা পাঠানোর জন্য কাজ করতে হয়। এছাড়া অন্য কোনো উপায় নেই।

প্রসঙ্গত, এরআগে গত বছরের রমজানে অতিরিক্ত গরমে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়।

আজকের দিনে প্রবাসের আলোচিত আরও একটি সংবাদ 

সময়ের কণ্ঠস্বর, প্রবাসী ফিচার ডেস্ক-

লন্ডনে সন্দেহভাজন জঙ্গি হামলার পর তিন ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে সেখানকার বাংলাদেশিদের মধ্যে । একদিকে তারা লন্ডনবাসী হিসেবে অন্যান্য ব্রিটিশদের মতো করেই নিজেদের হামলার লক্ষ্যবস্তু মনে করছেন সেখানকার বাংলাদেশি কমিউনিটি । অন্যদিকে ‘হেইট ক্রাইমের’ শিকার হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছেন তারা। এসবের পরেই  রয়েছে অভিবাসন নীতি আরও কঠোর হওয়ার আশংকা ।

এবারের হামলার পর সেখানে সে মাপের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা গত বারো বছরে দেখেনি লন্ডনবাসী। কেউ কেউ একে ‘যুদ্ধাবস্থা’ বলেও উল্লেখ করছেন। এর আগে ২০০৫ সালে লন্ডনে জঙ্গি হামলার পর এমন কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দেখা গিয়েছিল।

এর আগে স্থানীয় সময় শনিবার রাত ১০টা ৮ মিনিটে আমরা খবর পাই, লন্ডন ব্রিজে একটি গাড়ি কয়েকজন পথচারীকে চাপা দেয় । গাড়িটি পরে বোরো মার্কেটে যায়। সন্দেহভাজন ব্যক্তিরা সেখানে বেশ কয়েকজন মানুষকে এলোপাথাড়ি ছুরিকাঘাত করে।

যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশংকা প্রকাশ করে  জানান, হামলার সময় তারাও হয়তো ওই স্থানে থাকতে পারতেন। আর এসব হামলায় লন্ডনে থাকা যে কোনও মানুষ আক্রান্ত হতে পারে যে কোন সময়েই।

লন্ডন প্রবাসী সাইফুল ইসলাম টেলিফোনে সময়ের কণ্ঠস্বরকে জানান,   দুই সপ্তাহ আগে সেখানে জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশিসহ এশীয় কমিউনিটির কেউ কেউ হেইট স্পিচ এবং শারীরিকভাবে হেনস্তার শিকারও হয়েছেন। সাম্প্রতিক ওই ঘটনার পর ঘৃণাজনিত হামলার পরিমাণ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশি কমিউনিটির  প্রায় সবাই।

এভাবে দুহাত তুলে পুলিশ কর্ডনের মাঝ দিয়ে হেঁটে ঘটনাস্থল ছাড়নে অনেক আতঙ্কিত মানুষ। রয়টার্স

বাংলাদেশি কমিউনিটির মধ্যে  আরেকটি আতঙ্কের কারণ হলো অভিবাসী আইন কঠোর করা। ক্রমাগত যুক্তরাজ্য এবং তার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে হামলার ফলে অভিবাসী আইন কঠোর করা হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বাংলাদেশিরা।

লন্ডন প্রবাসী কুমিল্লার মতিন আহমেদ জানান, অভিবাসী আইন কঠোর করলে তা যুক্তরাজ্যে স্থায়ীভাবে বসবাস, ব্যবসা এবং যাতায়াতে বিধিনিষেধ আরোপ হতে পারে বলে যুক্তরাজ্য প্রবাসী বাংলাদেশিরা আশঙ্কা প্রকাশ করছেন।

সম্পর্কিত সংবাদ