আখাউড়া প্রতিনিধি ঃ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাইয়ের পর টাকা না দেওয়ায় কিছু প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাকে বাদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে সংশ্লিষ্ট কমিটির বিরুদ্ধে। এই বাছাইয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. কাজী হাম্মাদুল ওয়াদুদসহ ১৫ জনকে বাদ দেয়া হয়েছে।

সরকারি গেজেট ও ভাতাপ্রাপ্ত বাদপড়া একাধিক মুক্তিযোদ্ধা অভিযোগ করেন, আখাউড়ায় যাচাই-বাছাইকালে তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চাওয়া হয়েছিল। টাকা না দেওয়ায় তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। গত সোমবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অফিসের সামনের দেয়ালে এ সংক্রান্ত একটি তালিকা টাঙানো হয়েছে। সঠিক দলিলাদি ও প্রমাণ দেখাতে না পারায় তাদের বাদ হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্রে জানা যায়, এবার আবেদন করে মুক্তিযোদ্ধা হতে পারেনি ৫৬ জন। তবে নতুন করে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ২২ জন। আগে থেকে মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত আছে এমন ২২ জনের বিষয়ে সুপারিশ করেছে সংশ্লিষ্ট যাচাই-বাছাই কমিটি। এছাড়াও সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগ নেতা নূরুল হক ভূইয়াসহ ১৪ জনের বিষয়ে যাচাই-বাছাই কমিটি দ্বিধা-বিভক্ত আছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

আখাউড়ার মনিয়ন্দ গ্রামের সরকারি গেজেট ও ভাতা প্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা হাজী মো. শাহ নেওয়াজ চৌধুরী অভিযোগ করেন, আখাউড়ায় মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কালে কমিটির এক সদস্য তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা চায়। সে সময় টাকা না দেওয়ায় এখন তাদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, ‘নতুন করে যাদের মুক্তিযোদ্ধা বানানো হয়েছে আমার জানা মতে তারা মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেন নাই। যাচাই-বাছাই কমিটিকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তারা মুক্তিযোদ্ধা হয়েছেন।’

আখাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা যাচাই-বাছাই কমিটির সদস্য সচিব মোহাম্মদ শামছুজ্জামান ফলাফলের তালিকা প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ‘যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শেষে সংশ্লিষ্ট কমিটির মাধ্যমে এ তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে টাকা চাওয়ার বিষয়ে আমি কিছু জানি না। অন্য কোন সদস্য চেয়ে থাকলে সেটা আমার জানা নেই।’