আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মায়ের দান করা মাদ্রাসার জায়গা

অবৈধভাবে দখল করছে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা।

এ নিয়ে তৃণমূল থেকে কেন্দ্র সর্বত্র বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ ও উত্তেজনা। অনেকেই বলছেন, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতাদের কাছে কি তিনি জিম্মি না হলে বিষয়টি নিয়ে তিনি কোনো কথা বলছেন না কেন? এছাড়াও হাজারো প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা কর্মীদের মধ্যে।

জানা গেছে, নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের মায়ের দান করা বসুরহাট ইসলামীয়া সিনিয়র ফাযিল মাদ্রাসার জায়গা জোরপূর্বক দখল করার অপচেষ্টা করছেন আওয়ামী লীগ নেতা জনৈক আবদুস সাত্তার। উপজেলা আওয়ামী লীগের এক প্রভাবশালী নেতার উপস্থিতিতে কিছু অপরিচিত তরুণ জায়গাটি ঘিরে রাখায় দখলের সময় কেউ বাধা দেয়ার সাহস পায়নি বলে জানিয়েছে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ।

জানা গেছে, ওই মাদ্রাসার প্রায় সম্পূর্ণ জায়গা দান করেছেন সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ও বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার নানা মরহুম খাঁন সাহেব আমিন উল্যাহ। তাঁর মৃত্যুর পর অবশিষ্ট সম্পত্তিও মাদ্রাসাকে দান করেন মন্ত্রীর মা এবং খালারা। আর এ সম্পত্তি রেজিষ্ট্রি করেন মন্ত্রীর ভগ্নিপতি সাবেক জেলা রেজিষ্টার আমানত উল্যাহ। সম্প্রতি সময়ে এ সম্পত্তির কথিত মালিক দাবি করে অতিমূ্ল্যবান এ জায়গা জনৈক আবদুস সাত্তার দখল করে নিলেও কেউ কিছু না বলায় এলাকায় বিরূপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় একটি সূত্র জানায়, সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের এখন ক্ষমতায়, তার ছোটভাই আবদুল কাদের মির্জা বসুরহাট পৌরসভার মেয়র। উনাদের মায়ের এতো বছরের দান করা মাদ্রাসার দখলীয় জায়গা দখল করছে তাদেরই ‘কাছের’ পরিচয়দানকারী ব্যক্তিরা। এতে শঙ্কিত ও ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এখনই কাগজপত্র অনুযায়ী সঠিক সুরাহা চায়।

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা ফয়েজ উল্যাহ জানান, এ ব্যক্তিরা জায়গাটি পূর্বে একবার দখল করতে চেয়ে না পেরে আমিসহ মাদ্রাসার শিক্ষক ও ছাত্রদের বিরুদ্ধে একটি ’মিথ্যা মামলা’ দিয়ে হয়রানি করে। যা এখনোও চলমান। এর মধ্যে লোকজন দিয়ে পূনরায় মাটি ফেলে ও দেয়াল দিয়ে জায়গাটি দখল করে নিচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন লোকজন এ ব্যাপারে কথা না বলার জন্য তাকে হুমকিও দিচ্ছে। তিনি বিষয়টি মেয়রসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে অবহিত করেছেন বলে জানান।

বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জা জানান, তিনি বেশ কয়েকদিন অসুস্থ্য থাকায় এ ব্যাপারে খোঁজ নিতে পারেননি।

অভিযুক্ত আবদুস সাত্তার জানান, তিনি জনৈক আবুল কালাম থেকে খরিদ করে জমির মালিকানা দাবি করছেন।

এদিকে এ সম্পত্তি সম্পর্কে অবহিত এক সার্ভেয়ার আমিন জানান, আবুল কালাম ওয়ারিশি ১৯ শতাংশ জায়গার মধ্যে ৫ শতাংশ জমির মালিক। কিন্তু তিনি ওই ৫ শতাংশ জায়গা এ পর্যন্ত তিন জনের কাছে তিনবার বিক্রি করেছেন। আবদুস সাত্তার তিন নম্বর খরিদদার। আগের ক্রেতারা জায়গা না পেলেও ক্ষমতার দাপটে আবদুস সাত্তার মাদ্রাসার জায়গা দখল করে নিচ্ছেন।