‘গডফাদার’ চরিত্রের কাউকে আগামী একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলের নমিনেশন দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, আগামী নির্বাচনে বিএনপি অংশ নেবে। প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন হবে। এ নির্বাচনে এলাকার সর্বমহলে গ্রহণযোগ্য, ক্লিন ইমেজ সম্পন্ন ব্যক্তিকে দলের নমিনেশন দেওয়া হবে। ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী  লীগ এমন একটা পার্টি সেখানে কেউ গডফাদারসুলভ আচরণ করবে আর কন্টিনিউ করবে—তা হবে না। এই গডফাদার চরিত্র নিয়ে তিনি নমিনেশন পাবেন—এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন, এ আশা যারা করছেন, তারা বোকার স্বর্গে বাস করছেন। গতকাল দুপুরে সচিবালয়ে বাংলাদেশ প্রতিদিনের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হওয়ার ছয় মাস অতিবাহিত হতে চলেছে ওবায়দুল কাদেরের। তার এ সময়ের চ্যালেঞ্জ, আগামীতে করণীয়, সড়ক পরিবহন ও সেতু বিভাগের কর্মকাণ্ডের নানা ফিরিস্তি তুলে ধরেন সেতুমন্ত্রী।

একাদশ সংসদ নির্বাচনে কোন আসনে কাকে নমিনেশন দেওয়া হবে—তা এখন থেকেই চূড়ান্ত করা হচ্ছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচনের প্রায় দুই বছর বাকি। তবে আমাদের প্রস্তুতি চলছে। আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছয় মাস পর পর বিশেষ সংস্থা, বিভিন্ন পেশাজীবী ও নিজস্ব টিমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে সংসদীয় এলাকার খোঁজখবর রাখছেন। আমরাও নিজেরা তৃণমূলে বিভিন্ন মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছি। এতে অনেক তথ্য উঠে আসছে। কাজেই আগামীতে কোন আসনে কাকে নমিনেশন দেওয়া হবে তা এখন থেকেই চূড়ান্ত করছেন দলীয় সভানেত্রী। তিনি বলেন, আমাদের এমন কিছু এমপি আছেন  যাদের আরও উন্নতি করতে হবে। তাদের চারপাশে কিছু সমস্যা আছে। এদের নিজের চেয়ে ‘নিজস্ব’ দ্বারা সমস্যাগুলো তৈরি। এই এমপিরা যদি নিজেরা ইনপ্রুভ করতে না পারেন তাহলে আগামীতে তাদের জন্য খারাপ অপেক্ষা করছে। এখনো সময় আছে, জনমতে নিজেদের গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে। তাহলে মনোনয়ন পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। জনগণের কাছে অগ্রহণযোগ্য কাউকে আমরা মনোনয়ন দেব না। আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, গত নির্বাচনের আগে জনপ্রিয় ছিলেন। কিন্তু খারাপ আচরণের কারণে এখন হয়তো জনসমর্থন তার পক্ষে নেই, তাকে নমিনেশন দেওয়া হবে না। ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তৃণমূলে খুনোখুনি কোন্দল চরম আকার ধারণ করেছে। ’ কীভাবে সমাধান করবেন জানতে চাইলে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের সুবিধাটা হচ্ছে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বের প্রশ্নে পার্টিতে কোনো বিভাজন নেই। সবাই এক। দলের সভানেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তাহলে কেন আমরা তৃণমূলকে ঠিক করতে পারব না? পারবই। তৃণমূলের কোনো নেতা দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কোনো কিছু করতে পারবেন না। তাকে দলের সিদ্ধান্ত মেনেই চলতে হবে। তিনি বলেন, তৃণমূলে কোন্দল মেটাতে আমাদের দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং সাংগঠনিক সম্পাদকরা প্রথমে আলোচনা করে সমাধানের চেষ্টা করছেন। এরপর আমি। সবগুলো কাজেই আমরা সিনটোনাইজ হতে চাচ্ছি। আমি ফেল করলে আমাদের নেত্রী আছে। তিনি বলেন, দলে কেউ এতটা পাওয়ারফুল না যে, তারা কোন্দল করবে আর তাদের কন্ট্রোল করা যাব না। যা খুশি তাই করবে—এটা মেনে নেওয়া হবে না। ‘আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক হিসেবে প্রায় ছয় মাস অতিবাহিত হতে চলেছে’, এ সময়ে আপনার সামনে কী চ্যালেঞ্জ ছিল? ওবায়দুল কাদের বলেন, আমার চ্যালেঞ্জটা হচ্ছে— কোন্দলমুক্ত, সুসংগঠিত স্মার্ট দল হিসেবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ। এজন্য দলে আরও শৃঙ্খলা দরকার। ক্ষমতাসীন দলে কিছু সমস্যা থাকে। বিশেষ করে তৃণমূলে। আমাদের পার্টির একটা বিশেষ সুবিধা আছে। তা হলো—সেন্ট্রালি সুসংগঠিত। সেখানে নেতায় নেতায় কোনো দ্বন্দ্ব নেই। সেখানে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ। স্ট্রং টিম ওয়ার্ক আমরা গড়ে তুলছি। যেহেতু কেন্দ্রে সমস্যা নেই, তাই তৃণমূলের কারও দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে সমস্যা জিইয়ে রাখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, তৃণমূলে যে সমস্যা—সেটা দীর্ঘ দিনের। এটা নিরসনে আমরা কাজ করছি। জেলায় জেলায় প্রতিনিধি সম্মেলন করছি। বিভিন্ন জেলার নেতা ও সংসদ সদস্যদের ডাকছি।  পর্যায়ক্রমে জেলার নেতা ও সংসদ সদস্যদের ডাকা হবে। তাদের কিছু পরামর্শ দিচ্ছি। তাদের সমস্যাগুলো শুনছি। বিভিন্ন জায়গায় একাধিক প্রার্থী আছে, তাদেরও ডাকব। তবে ডাকার অর্থ এই না যে, উপস্থিতরাই মনোনয়ন পাবেন। ‘বিএনপি মহাসচিব বলেছেন, তাদের নির্বাচনে নিয়ে আসার দায়িত্ব সরকারের’ এ প্রসঙ্গে মন্তব্য চাইলে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ কি আমার অধিকার, নাকি সুযোগ? আমি বলব রাজনৈতিক দল হিসেবে এটা বিএনপির অধিকার। সরকার কেন করুণা বিতরণ করবে? তাদের (বিএনপির) তো বাধা নেই নির্বাচনে অংশ নিতে। সরকার কেন টেনে আনবে? নিজেদের গরজেই তারা নির্বাচনে আসবে। তিনি বলেন, তারা বড় দল। দেশে তাদেরও জনসমর্থন কম নয়। তারা শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী—এতে কোনো সন্দেহ নেই। তারা পার্লামেন্টে নেই। এটা যে তাদের কত বড় সমস্যায় ফেলেছে, যারা ভুক্তভোগী তাদের চেয়ে বেশি কেউ জানে না। তা ছাড়া এখনো রাজনৈতিক দলের নিবন্ধনের বিষয় আছে। সেকেন্ড টাইম ইলেকশন না করলে নিবন্ধন হারাবে বিএনপি। এই ঝুঁকিটা তারা কেন নেবে? তিনি বলেন, আমাদের সামনা-সামনি হয়তো আলাপ-আলোচনা নেই, কিন্তু বিভিন্ন জায়গায় দেখা-সাক্ষাৎ তো হয়। কথাবার্তা বলি। আমরা কি তাদের অ্যাটিচিউড বুঝি না? বড় বড় মেগা প্রকল্পের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতুর কাজ ৪২ ভাগ হয়েছে। যথা সময়েই পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হবে। তিনি বলেন, যতগুলো ফোর লেনের কাজ শুরু করেছি সব দ্রুত এগিয়ে চলেছে। বর্ষা মৌসুমে ও আগামী ঈদে মহাসড়কে কোনো ভোগান্তি হবে না বলে আশ্বাস দিয়ে সেতুমন্ত্রী বলেন, বর্ষা মৌসুমে মহাসড়কে কোনো সমস্যা হবে না। তবে জেলা সড়কগুলো সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, জেলা সড়কগুলোতে বরাদ্দ খুবই কম। আগামী বাজেটে জেলা সড়কগুলোর বরাদ্দ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করেন সেতুমন্ত্রী। ঢাকার মেট্রোরেল প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমাদের কাজ এগিয়ে চলছে। তবে কয়েকজন বিদেশি কনসালট্যান্ট নিহতের ঘটনায় আমরা ছয় মাস পিছিয়ে গেছি। এখন কাজ স্বাভাবিক গতিতে এগিয়ে চলেছে।