নাসিরনগর প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নাসিরনগর উপজেলার হাওরাঞ্চলে বয়ে যাওয়া অকালবন্যার কথা আমরা সবাই জানি। এতে হাওরাঞ্চলে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা দেশে প্রতিটি দৈনিক পত্রিকাও মিডিয়াতে এসেছে। হাওরের প্রতিটা মানুষ ই প্রাকৃতিক দুর্যোগের স্বীকার। কিন্তু আজ হাওরের কোন কৃষককে নিয়ে নয়, আজ লিখছি হাওরের হতভাগা এক মাঝির বাকহীন বুকের করুণ আর্তনাদ নিয়ে। মো. জালাল মিয়া, নাসিরনগর উপজেলাধীন গোয়ালনগর ইউনিয়নের লালুয়ারটুক গ্রামের এক গরিব মাঝি। স্ত্রী,পাচঁ পুত্র ও এক কন্যা নিয়ে তার কষ্টের সংসার। এই সংসারের ভরনপোষণ সন্তানদের পড়াশোনা,বস্ত্র, চিকিৎসাসহ সবকিছুর একমাত্র মাধ্যম হলো খেয়া পারাপার। তিনি লালুয়ারটুক ও তার বিপরীত পাশে বাজার অষ্টগ্রাম উপজেলার বাঙ্গালপাড়ার মধ্যদিয়ে প্রবাহিত দেশের বৃহত্তম নদী মেঘনায় ফেরি দিয়ে আশেপাশের দশ গ্রামের মানুষকে পারাপার করে থাকেন। তিনি বাৎসরিক চুক্তির ভিত্তিতে সারা বছর বিনা পয়সায় সেবা দেন। পরে বছর শেষে বৈশাখ মাসে চুক্তি অনুযায়ী ধান সংগ্রহ করেন। আর এভাবেই তার সুখে দুঃখে দিন চলে। কিন্তু ভাগ্যের কী নির্মম পরিহাস! হাওরে অকাল বন্যায় কৃষকের সকল ধানের জমি তলিয়ে যাওয়াতে কপাল পুড়লো জালাল মিয়ার। হাওরের ধান তলিয়ে যাওয়ার কারণে যেখানে অন্যান্য বছর তিন-চারশত মন ধান পেত সেখানে মাত্র আশি-নব্বই মন ধান সংগ্রহ হয়েছে। জালাল মিয়ার সাথে কথা বলে জানা যায় এবছর তার আনুমানিক দেড়-দুই লক্ষ টাকা লোকসান হয়েছে। সে সারা বছর বিনা পয়সায় খেয়া পার করে আসছে এ ধানের আশায়, কিন্তু তার সব স্বপ্ন নষ্ট করে দিল অকাল বন্যা। সকল আশা ভরসা শেষ হয়ে যাওয়ায় জালাল মিয়া আজ দিশেহারা। শুধু জালাল মিয়া নয় তার মতো হাওরে এমন অনেক মাঝি আছে যাদের শেষ ভরসা ছিল হাওরের এই ধান। যারা সব হারিয়ে আজ নিঃস্ব। জালাল মিয়ার মতো এমন অজানা মাঝিদের করুণ কাহিনী দেশের বিবেকবান মানুষের কানে পৌঁছায় না। সরকার থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকার এবং প্রশাসন কারো সুনজর তাদের উপর পড়ে না। তাদের দুঃখ কেউ খোঁজ নিল না। লালুয়ারটুক গ্রামের ব্রাহ্মণবাড়িয়া সরকারি কলেজের অনার্স পড়ুয়া ছাত্র মোহাইমিনুল ইসলাম তালুকদার জানান, মাঝি জালাল মিয়া খেয়া পারাপার করে বছরে যে পরিমাণ ধান পেত, এ বছর সে এক-তৃতীয়াংশ ও পায়নি। আজ সে দিশেহারা, সারা বছর তার পরিবারকে নিয়ে ভরণপোষণ করা খুব কষ্ট সাধ্য হবে।