নিজস্ব প্রতিনিধি : ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিদ্যুৎ বিভাগে গ্রাহক হয়রানী চরমে। তাদের যেন দূর্ভোগের শেষ নেই। ফ্রি স্টাইলে চলছে এ বিভাগের কার্যক্রম। গত সোমবার সকালে কাউতলীস্থ বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের অফিসে গিয়ে দেখা যায় এমন দৃশ্য। রমজানে সরকারি নির্দেশে অফিস আদালত সময় সূচী সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর সাড়ে ৩টা পর্যন্ত নির্ধারণ করা থাকলেও এই অফিসের কর্মকর্তারা মানছেন না কোনো নিয়ম কানুন যেন মন গড়া অফিস করছেন সকলেই। তবে অফিসের বড় কর্তা নির্বাহী প্রকৌশলী নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসলেও তার অধিনস্ত কর্মকর্তা কর্মচারীদের টেবিল সকাল ১০টা পর্যন্ত ফাঁকা, অনেক কর্মকর্তার কক্ষ তালা বদ্ধ অবস্থায় দেখা যায় এতে গ্রাহকদের রমজান মাসে চরম দূর্ভোগের শিকার হতে হয়। এই ঘটনা শুধু এই দিনের নয় প্রতিদিনই এমনি হচ্ছে বলে ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ। নাটাই গ্রামের রেজিনা নামের বিদ্যুৎ গ্রাহক জানান আমার মিটারের ১হাজার ইউনিট অতিরিক্ত বিল দেওয়া হয়েছে। প্রতি মাসেই এইভাবে অতিরিক্ত বিল দেওয়া হচ্ছে বারতি বিলের জন্য মাসে মাসে অফিসের সাহেবদের কাছে ধরনা দিতে হয়। রমজান মাসেও তাদের এই হয়রানি থেকে রেহায় পাচ্ছিনা। নির্ধারিত সময়ে এই এলাকার দায়িত্বে থাকা সহকারী প্রকৌশলী হেবজুল বারী তখনও অফিসে আসেননি। সকাল ১০টায় তার কক্ষের সামনে ঝুলছিল তালা। তাছাড়া এসময় উর্ধ্বতন কর্তাদের কক্ষেরও একই দৃশ্য। ছয়বাড়িয়া এলাকার মুরতুজালি বলেন একই সমস্যা নিয়ে প্রতি মাসেই আমাকে ধরনা দিতে হয়। তা ছাড়া মিটার না দেখে বিল প্রদান করায় প্রতি নিয়ত হয়রানির শিকার হচ্ছে বিদ্যুৎ গ্রাহকরা। অফিসে এসেও এর কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। দক্ষিণ পৈরতলা বাসস্ট্যান্ডের মসজিদের ৯শ ইউনিট অতিরিক্ত বিল প্রদান করা হয়েছে। তাছাড়া মাসে মাসে বিল পরিশোধ করার পরও অনেক গ্রাহকের বিলের সাথে এক ২মাসের বিল সংযুক্ত করে দেওয়া হচ্ছে। জানুয়ারি ২০১৭ পর্যন্ত অনেক গ্রাহকের বিলে কোনো বকেয়া নেই বলে বিলে রিপোর্ট প্রদান করা হলেও মার্চ মাসে অনেক গ্রাহককে ২০১৬ সালের বিভিন্ন মাসের বকেয়া আছে বলে সংযুক্ত করে দিয়ে হয়রানী করার অবিযোগ থাকলেও এখানে তার প্রতিকার পাচ্ছে না গ্রাহক। প্রতি মাসে মিটার রিডারদের বিরুদ্ধে রিডিং না দেখে বিল না করার অভিযোগ করেও কোন প্রতিকার পাচ্ছেন না ভোক্তভোগী গ্রাহকরা। এই অফিসের অনেক কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে যুগের পর যুগ একই অফিসে চাকুরী করে বিপুল বিত্তশালী হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। অনেকের বিরুদ্ধে রয়েছে গ্রাহক হয়রানি, মোটা অংকের বিনিময়ে ট্রান্সফরমার বেচা কেনা, নতুন সংযোগ প্রদানের বাণিজ্যসহ নানান অনিয়ম দূনীর্তির অভিযোগ । সাধারণের প্রশ্ন: এ সকল দূনীর্তিবাজ কর্মকর্তা কর্মচারীর খুটির জোর কোথায়?
বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মচারী নাম না প্রকাশ করার শর্তে জানান কিছু অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীর কারণে বিদ্যুৎ বিভাগের সুনাম ও অর্জন ভুলুণ্ঠিত হচ্ছে। ভেঙ্গে পড়েছে বিদ্যুৎ বিভাগের সকল নিয়মকানুন ও শৃঙ্খলা। তিনি জানান তারা অবৈধ সংযোগ প্রদান, মিটার বাইপাস করে বিল চুরি ট্রান্সফরমার ও নতুন সংযোগ বাণিজ্যসহ নানান অনিয়ম অপরাধের সাথে জড়িত থাকলেও এ যেন দেখার কেউ নেই

ভ্রাম্যমান আদালতের নজরেও পড়েছে অনেক ঘটনা। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলেও রুই কাতলারা পার পেয়ে যাচ্ছেন। আর এর দায়ভার নিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহককে।
এ বিষয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ কামরুজ্জামান আমাদের কথা’কে জানান, আমি নির্ধারিত সময়ে অফিসে এসেছি অন্যান্যরা কেন নির্ধারিত সময়ে অফিসে আসে নাই তা খতিয়ে দেখা হবে।