রাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল জানিয়েছেন, গত ৫ বছরে সীমান্ত এলাকায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএস ও ভারতীয় নাগরিকদের হাতে ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যার শিকার হয়েছেন।
সোমবার বিকেলে জাতীয় সংসদে প্রশ্ন-উত্তর পর্বে আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য মাহমুদ উস সামাদ চৌধুরীর প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিজিবি সীমান্ত রক্ষার পাশাপাশি সীমান্তে বসবাসকারী জনসাধারণের সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালনে বদ্ধপরিকর। এরপরও বিভিন্ন কারণে সীমান্তে বিচ্ছিন্নভাবে হত্যাকাণ্ড ঘটেই চলেছে। ২০১২ সাল থেকে চলতি বছর পর্যন্ত সীমান্তে ১৪৬ জন বাংলাদেশি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।

এর মধ্যে ২০১২ সালে ৩৪ জন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন। ২৪ জনকে বিএসএফ এবং ১০ জনকে ভারতীয় নাগরিকরা হত্যা করেছে।
২০১৩ সালে হত্যাকাণ্ডের শিকার ২৮ জনের মধ্যে ১৮ জন বিএসএফের হাতে এবং ১০ জন ভারতীয় নাগরিকদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন।
২০১৪ সালে বিএসএফর হাতে ২৪ জন এবং ভারতীয় নাগরিকদের হাতে ১৬ জন মিলিয়ে মোট ৪০ জন হত্যার শিকার হন।
এরপর ২০১৫ সালে ৩৯ জন হত্যার শিকার হন; যার মধ্যে ৩৮ জন বিএসএফের হাতে এবং একজন ভারতীয় নাগরিকদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন।

আর চলতি বছরের ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত ৫ জন বিএসএফের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন।
মন্ত্রী জানান, সীমান্ত হত্যা বন্ধের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ইতোমধ্যে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী প্রাণঘাতী মারণাস্ত্রের পরিবর্তে নন-লেথাল অস্ত্র অর্থাৎ সাউন্ড গ্রেনেড, রাবার বুলেট ইত্যাদির মতো অস্ত্র ব্যবহার করছে। এছাড়া বিজিবি-বিএসএফ মহাপরিচালক পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে বিএসএফ মহাপরিচালক বাংলাদেশি নাগরিক হত্যা শুন্যের ঘরে নামিয়ে আনতে একমত হন।

মন্ত্রী আরও জানান, অবৈধ পারাপারসহ বিভিন্ন অপরাধের কারণে গত আড়াই বছরে বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশের (বিজিবি) হাতে আটক ৪২৩ জন ভারতীয় নাগরিককে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে ২০৯ জন, ২০১৫ সালে ১৭৪ জন এবং চলতি বছরের এ পর্যন্ত ৪০ জন ভারতীয়কে হস্তান্তর করা হয়।