বাজেট নিয়ে জন অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় সরকার প্রধানকে ‘বাঁচাতে’ অর্থমন্ত্রীকে ‘বলির পাঠা’ বানানো হচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপি নেতা রুহুল কবির রিজভী।
গত কয়েকদিন ধরে সংসদে বাজেট আলোচনায় অর্থমন্ত্রীকে নিয়ে সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যদের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এই মত জানান বিএনপি নেতা।

তার দাবি, বিএনপিবিহীন সংসদে বিরোধী দলের আসনে বসা জাতীয় পার্টিকে নিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করতে এটা সরকারের একটা কৌশল।
ভ্যাট এবং ব্যাংক আমানতে আবগারি শুল্ক নিয়ে সরকারি দলের সদস্যরা যেমন বাক আক্রমণে বিদ্ধ করছেন মুহিতকে; তেমনি তার পদত্যাগের দাবি তুলেছেন জাতীয় পার্টির সদস্যরা।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রিজভী বুধবার এক মানববন্ধনে বলেন, “পার্লামেন্টে সরকারি দল অর্থমন্ত্রীকে ধুইয়ে দিচ্ছে, তিনি নাকি অযোগ্য, মানসিক ভারসাম্যহীন, তিনি সরকারকে ডুবাচ্ছেন।
“আরে ভাই, বাজেট পাস হয় কেবিনেটে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে। সবই তো প্রধানমন্ত্রী ও সরকার জানে। অর্থাৎ প্রধানমন্ত্রী ও সরকারকে স্কেপ করার জন্যেই আজকে পার্লামেন্টে ক্ষমতাসীন দলের এমপি ও তাদের বি টিমকে দিয়ে এসমস্ত কথা বলানো হচ্ছে।”

“আমরা মনে করি, সব কিছু হচ্ছে একটা জায়গা থেকে। শুধু বিভ্রান্তি তৈরি কর, ব্যর্থতাকে আড়াল কর। এই আড়ালের জন্য একটার পর একটার ঘটনা,” বলেন রিজভী।
“উনারা একটার পর একটা অপকর্ম করবেন, অনাচার করবেন। আর জনগণ উটপাখির মতো বালির মধ্যে মাথা গুঁজে বসে থাকবে, এটা মনে করার কোনো কারণ নেই। প্রতিটা ঘটনার বিচার হবে।”
রাঙ্গুনিয়ায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের উপর হামলার প্রতিবাদে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের মানববন্ধনে বক্তব্য দেন রিজভী।
ওই হামলা নিয়ে পুলিশের বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ওসি বলেছেন, যে রুট দিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেটা পরিবর্তন করা হয়েছে। অদ্ভুত ব্যাপার! যে রুট দিয়ে গেছেন সেটা কী বেলুচিস্তান না রাজস্থান যে ওই রাস্তাটি পুলিশ প্রশাসনের বাইরে ছিল।”
আওয়ামী লীগের শীর্ষ পর্যায়ের নির্দেশে ওই এলাকার সংসদ সদস্য হাছান মাহমুদ এই হামলা করিয়েছেন বলে আবারও দাবি করেন রিজভী।
“হাছান মাহমুদ কী হরিদাস পাল যে উনি এই ঘটনাটি ঘটালেন? নিশ্চয় আরও বড় জায়গা থেকে ইঙ্গিত ছিল।”

এই ইঙ্গিতটা কেন- প্রশ্ন করে তার উত্তর বিএনপি নেতা দিয়েছেন এভাবে- “পাহাড় ধসে ১৬৮ মাটিচাপা হয়ে গেল, প্রধানমন্ত্রী আনন্দ ভ্রমণে গেলেন, লন্ডনে আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে দেখা করলেন। এই যে জনগণের মধ্যে এর বিরূপ প্রভাব, এটাকে আড়াল করা।”
এই প্রসঙ্গে হাছান মাহমুদের বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, “আমরা তো বলিনি ঠাকুর ঘরে কে? প্রশ্ন না করতেই আমি কলা খাইনি বলে দিলেন হাছান মাহমুদ। ‘দুইজন পথচারীকে আঘাত করেছে, তাই এই ঘটনা ঘটেছে’- এটা পুলিশ প্রশাসন বলেনি, কেউ বলেনি। হাছান মাহমুদ সাজিয়ে বলে দিলেন।”
“প্রধানমন্ত্রী না জানলে হাছান মাহমুদের মতো একটা লোক এই ঘটনা ঘটাতে পারে, তার এত সাহস হতে পারে, আমার মনে হয় না।”
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি মাহমুদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব এজেডএম জাহিদ হোসেনের পরিচালনায় মানববন্ধনে রিজভী ছাড়াও বক্তব্য রাখেন ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি রুহুল আমিন গাজী, বর্তমান মহাসচিব এম আবদুল্লাহ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আবদুল হাই শিকদার, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, আমার দেশের নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, জাতীয় প্রেস ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক ইলিয়াস খান, ড্যাব সহসভাপতি আবদুল কুদ্দুস, এ্যাব নেতা রিয়াজুল ইসলাম রিজু।