ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) অধ্যক্ষ নিয়োগের অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের  যে বিভাগ তাকে নিয়োগ দিয়েছে, তাদের এই নিয়োগ দেয়ার এখতিয়ারই নেই বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। এনিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুইবিভাগের মধ্যে টানাপড়েন চলছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১২ জুন অধ্যাপক খান আবুল কালাম আজাদকে অধ্যক্ষ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের আরও একটি বিভাগ রয়েছে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিভাগ নামে। গাত ১৯ মার্চ স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে দুইভাগ করে গেজেট জারি করে। একটি হচ্ছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। আরেকটি হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ।

গেজেট অনুযায়ী বিসিএস ক্যাডার কোনো চিকিৎসকের পদায়ন বা বদলি করবে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ। কিন্তু সেই নিয়ম না মেনে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ ঢাকা মেডিকেলের অধ্যক্ষ নিয়োগে গেজেট জারি করে।

স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এক বিভাগের কাজ অন্য বিভাগের করা অন্যায়। এটা হতে পারে না। এনিয়ে দুই বিভাগের মধ্যে অসন্তোষ বিরাজ করছে।’

জানতে চাইলে স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব সিরাজুল হক খান ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘গেজেট অনুযায়ী বি্সিএস চিকিৎসক পদায়ন ও বদলির কাজ স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের। মেডিকেল কলেজগুলোতে চিকিৎসক পদায়নের পর শিক্ষা কার্যক্রমটা স্বাস্থ্য শিক্ষা বিভাগ দেখবে। অ্যালোকেশন অব বিজনেস অনুযায়ী এটাই হওয়া উচিত।’

এক প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, ‘আসলে নিয়োগের কাজটি মন্ত্রী মহোদয়ের নির্দেশেই হয়। তিনি হয়ত স্বাস্থ্য শিক্ষার সচিব মহোদয়কে কাছে পেয়েছেন, এ জন্য তাকে বলেছেন। এটা পরে মন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়েছে। আশা করছি সামনে আর এমন হবে না। নতুন দুই বিভাগ হওয়ায় প্রথম প্রথম একটু ভুল হচ্ছে।’

তবে এ বিষয়ে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগের সচিব সিরাজুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘এখানে অনিয়মের কিছু নেই। কারণ আমি শিক্ষাটা দেখব। সেক্ষেত্রে শিক্ষক থেকে শুরু করে পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাপনাই স্বাস্থ্যশিক্ষা বিভাগের। আমি যদি মেডিকেলের অধ্যক্ষ নিয়োগ দিতে না পারি তাহলে আমি কী শুধু হাসপাতালের আয়া-বুয়া আর অবকাঠামো দেখবো?’।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ খান আবুল কালাম আজাদ ঢাকাটাইমসকে বলেন, ‘আমা্র নিয়োগে অনিয়োম হয়েছে কিনা সেটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। সেটা অন্য কারো নয়।’

জানতে চাইলে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মোহাম্মদ শফিউল আলম ঢাকাটাইমসকে জানান, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। এমন হয়ে থাকলে সেটি ভুল হয়েছে। তবে বিষয়টি খতিয়ে না দেখে কিছু বলা যাচ্ছে না।’

চলতি বছরের গত ১৯ মার্চ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের পুনর্গঠন করে ‘স্বাস্থ্য সেবা’ এবং ‘স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ’ নামে দুটি বিভাগ করেছে সরকার।

‘রুলস অব বিজনেস’ অনুযায়ী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এই আদেশ দিয়েছেন বলে গত ১৬ মার্চ এক প্রজ্ঞাপনে জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। আলাদা এক আদেশে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ‘অ্যালোকেশন অব বিজনেস’ সংশোধন করে নবগঠিত দুই বিভাগের অধীনে মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমও বিন্যস্ত করা হয়েছে।