ঢাকা, ২৮ জুন- শাড়ির দাম ছয় হাজার টাকা, তাও মেয়ের বন্ধুদের উপহারের; সেই তাঁতের শাড়ি পরেই জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিজের সাদাসিধে জীবন-যাপনের কথা তুলতে নিজেই উদাহরণ টেনেছেন পরনের শাড়ির।

বুধবার জাতীয় সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে শেখ হাসিনা বলেন, আমার মেয়ের কয়েকজন বিদেশি বন্ধু সোনারগাঁও গিয়েছিল। সেখান থেকে তাঁতের শাড়িটা তারা কিনেছেন ছয় হাজার টাকা দিয়ে। এই শাড়ির দাম চেয়েছিল সাড়ে ছয় হাজার টাকা।

ভোগ-বিলাস থেকে নিজেকে বিরত রাখার বিষয়ে তিনি বলেন, আজকে প্রধানমন্ত্রী আছি, কালকে না থাকলে চলে যাব। গাড়িতেও চড়তে পারি, ভ্যানেও চড়তে পারি, রিকশায়ও চড়তে পারি, পায়েও হাঁটতে পারি। সবই আমরা পারি।

এর আগেও, ভ্যানে ও রিকশায় চড়ে আলোচনায় এসেছিলেন শেখ হাসিনা। ক্ষমতায় না থাকলে সাধারণ বিমানেও চড়বেন জানিয়ে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিমানের ফার্স্টক্লাসে যাই। আবার যখন থাকব না ইকনোমি ক্লাসে চড়ব। আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত।

ক্ষমতায় থেকেও বিলাসিতা না করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ক্ষমতাকে কখনো ভোগ-বিলাসের বস্তুতে পরিণত করিনি। ক্ষমতায় এসে কোনো ব্র্যান্ড পরব, কোন ব্র্যান্ড নিয়ে চলব, কোন গাড়িতে চড়ব, কোন দেশ থেকে ফার্নিচার আনব, কত বড় স্যান্ডেলিয়া (ঝাড়বাতি) লাগাব—ওই সব চিন্তা করি না। বসা চেয়ারখানাকে কতটা ডেকোরেট করব, ওই চিন্তা করি না। বরং স্যান্ডেলিয়া সরিয়ে দিয়েছি। গণভবনে বোধ হয় একটা-দুটো আছে। বাকি সব সরিয়ে দিয়েছি। চেয়ারও বদলে দিয়েছি।

এ জন্যই দেশের উন্নয়ন হচ্ছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, এটা কোনো ম্যাজিক নয়। আমার রাজনীতি ব্যক্তিগত ভোগ-বিলাস, উচ্চাভিলাষের জন্য নয়। আমার রাজনীতি বাংলার জনগণের জন্য; যে শিক্ষা আমি পেয়েছি আমার পিতার কাছ থেকে।