আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে-বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার এই বক্তব্যের জবাব দিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য তোফায়েল আহমেদ। কাদের বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বর্তমান সরকারের অধীনেই নির্বাচন হবে আর সেই নির্বাচনে খালেদা জিয়া আসবেন। এমনকি ডায়েরিতে এই কথা লিখে রাখার কথাও বলেছেন তোফায়েল।

ঈদের ছুটি শেষে বুধবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ নেতা এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে বিএনপি এবং সমমনা দলগুলো ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির দশম সংসদ নির্বাচনের ভোট বর্জন করে। এখন বিএনপি আর সেই দাবি তুলে ধরছে না। তবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা দেয়া হবে-গত ১৮ নভেম্বর খালেদা জিয়ার এমন ঘোষণার পর থেকে নির্বাচনের সময় বিএনপি নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করতে সহায়ক সরকারের দাবি তুলে ধরছেন।

এই সরকারের রূপরেখা কী হবে, সেটা না জানালেও নানা আলোচনায় বিএনপি নির্বাচনের সময় দলীয় সরকারের বদলে ওই সরকারের হাতে ক্ষমতা দেয়ার দাবি জানিয়ে আসছে।

সোমবার ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়ের সময়ও খালেদা জিয়া একই কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘১০ বছরে আওয়ামী লীগ দেশকে ধ্বংস করেছে। মানুষ এই দলটির হাত থেকে মুক্তি পেতে চায়। আমরা অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন চাই। সেই নির্বাচন সহায়ক সরকারের অধীনেই হতে হবে।’

তবে আওয়ামী লীগ বলে আসছে, সংবিধানে যা আছে, সেভাবেই নির্বাচন হবে। দলের সাধারণ সম্পাদক বলছেন, বর্তমান সরকারই নির্বাচনকালীন সময়ে এই সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করবে। তিনি বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে শেখ হাসিনার সরকারই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার থাকবে। এই সরকার নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের ভূমিকায় নির্বাচন কমিশনকে সহায়তা করবে। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে এভাবেই নির্বাচন পরিচালিত হয়।’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন কমিশনের অধীনেই পরবর্তী নির্বাচন হবে। নির্বাচন কিন্তু সরকারের অধীনে হবে না। তখন রুটিন কাজ করবে যে সরকার, সে সরকারের কোনো মেজর পলিসি ডিসিশনের ক্ষমতা থাকবে না।’

‘নির্বাচনকালীন যে সরকার থাকবে তারা নির্বাচন কমিশনের পরামর্শ অনুযায়ী কাজ করবে। এছাড়া জনপ্রশাসন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনায় পরিচালিত হবে।’

এ সময় ঈদ যাত্রা নিয়েও কথা বলেন সড়ক পরিবহনমন্ত্রী। ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক হয়েছে উল্লেখ করে ফিরতি পথেও কোনো সমস্যা হবে না বলে জানান তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘দেশের মানুষ জানে এবারের ঈদযাত্রা ছিল সবচেয়ে স্বস্তিদায়ক। অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় এবার মানুষ স্বাচ্ছন্দে ঈদ করতে বাড়িতে যেতে পেরেছে।’

সড়কপরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘এবার রংপুরের একটি দুঃখজনক ঘটনা ছাড়া কোনো বড় দুর্ঘটনা ঘটেনি। সারাদেশে বিচ্ছিন্নভাবে কিছু ঘটনা ঘটছে। সেগুলো আমার কানেও আসবে। তবে সেগুলো উল্লেখ করার মতো না। আশা করছি ফিরতি পথেও কোনও সমস্যা হবে না।’

ঈদযাত্রায় পরিবহনে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের প্রসঙ্গে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘এ ব্যাপারে আমরা কিছু অভিযোগ পেয়েছি। এই সমস্যা রাতারাতি পরিবর্তন হবে না। এটা পরিবর্তনের জন্য কিছু সময় প্রয়োজন।

ডায়রিতে লিখে রাখুন, খালেদা নির্বাচনে আসবে

ওবায়দুল কাদেরের সুরেই কথা বলেন আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য এবং বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ। নির্বাচন বিএনপির সহায়ক সরকারের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কমিশনকে সাহায্য করাটাই তো সহায়ক। এই সরকারই সেই সহায়ক ভূমিকা পালন করবে। অন্য কোনো সরকারের এখানে এসে সহায়ক সরকারের ভূমিকা পালন করার কোনো সুযোগ নেই।’

তোফায়েল বলেন, ‘আপনারা ডায়েরিতে লিখে রাখুন, আমি নিশ্চিত করে বলছি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার অধীনেই খালেদা জিয়া নির্বাচনে অংশ নেবেন।’ তিনি আরও বলেন, ‘২০১৯ সালের ২৯ জানুয়ারির আগেই শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকারের অধীনে এবং নির্বাচন কমিশনের কর্তৃত্বে জাতীয় সংসদ নির্বাচন হবে। এখানে অন্য কোনো কিছু হওয়ার সুযোগ নেই। কেউ যদি নির্বাচনে না আসে, তাহলে তো জোর করে আনা যাবে না।’