ভ্যাট আইন প্রত্যাহার ও বাজেটে ব্যাংক আমানতের ওপর প্রস্তাবিত আবগারি শুল্ক পুনর্মূল্যায়নের জন্য অর্থমন্ত্রীকে পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এসব বিষয়ে সংশোধনী এনেই অর্থবিল বিল পাস করতে অর্থমন্ত্রীআবুল মাল আবদুল মুহিতের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। বুধবার প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর আলোচনাকালে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বাজেটের ওপর আলোচনাকালে আবগারি শুল্ক বিষয়ে বলেন, ‘ব্যাংকের আমানতের ওপর আবগারি শুল্ক নিয়ে মানুষ উল্টো বুঝেছেন। বিদ্যমান ব্যবস্থায় ২০ হাজার টাকার ওপর বেশি আমানত হলে আবগারি শুল্ক দিতে হয়, অর্থমন্ত্রী সেটাকে বাড়িয়ে এক লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত করেছেন। কিন্তু, এটা নিয়ে মানুষ ভুল বুঝেছে, অপপ্রচার হয়েছে। অর্থমন্ত্রী এটা পরিষ্কার করে দেবেন।’
তিনি বলেন, ‘আমি অর্থমন্ত্রীকে এ বিষয়ে পরামর্শ দিয়েছি। তিনি এক লাখ টাকা পর্যন্ত শুল্কমুক্ত রাখার যে প্রস্তাব রেখেছেন এটা ঠিক রাখবেন, এরপরের অংকগুলোতে আরও তিনটি স্তর করবেন।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় বলেন, ‘এক লাখ ১ টাকা থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫শ’ টাকার বদলে দেড়শ’ টাকা কাটা হবে, ৫ লাখ ১ টাকা থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ৮০০ টাকার স্থলে ৫০০ টাকা কাটা হবে এবং এর ওপরে যা হবে তিনি (অর্থমন্ত্রী) ঠিক করে দেবেন।’
ভ্যাট আইন সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘১৯৯১ সালে এই আইনটি হয়েছে। ২০০৮ সালে একটি খসড়া করা হয়। এই আইনটি খুবই ভালো, তবে এটা নিয়ে কথা উঠেছে। এ আইন নিয়ে ব্যবসায়ীরা সাড়া দিচ্ছেন না। এজন্য এ আইনটি আগের যে অবস্থায় ছিল সে অবস্থায় থাকবে, মানুষ যেভাবে ভ্যাট দিচ্ছে, সেভাবে দেবেন। এ আইনটি আগামী দুই বছর এ অবস্থায় থাকবে। তবে মানুষকে কর দেওয়ার প্রবণতা বাড়াতে হবে, কর ফাঁকি দিলে আপনারাই ফাঁকিতে পড়ে যাবেন।’
এদিকে, অর্থমন্ত্রী তার বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া পরামর্শগুলো আমলে নিয়ে জানান, আমানতের ওপরে আবগারি শুল্কের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী যেসব পরামর্শ দিয়েছেন তাই প্রস্তাব করা হচ্ছে। এছাড়াও ১০ লাখ ১ টাকা থেকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আমানতের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক আড়াই হাজার টাকা, ১ কোটি ১টাকা থেকে ৫ কোটি টাকা পর্যন্ত আবগারি শুল্ক ১২ হাজার টাকা এবং ৫ কোটি ১ টাকা থেকে তার ওপরের আমানতের ক্ষেত্রে আবগারি শুল্ক ২৫ হাজার টাকা আরোপ করার প্রস্তাব রাখেন তিনি।

বুধবার সংসদে অর্থমন্ত্রীর দেওয়া এসব সংশোধনী উত্থাপন শেষ হলে ২০১৭ সালের অর্থবিলটি পাস হবে।