বাবা-মেয়ের দারুণ ভাব। এক দণ্ডও কেউ কাউকে চোখ-ছাড়া করতে চায় না। অন্ধ ষাটোর্ধ সুকেতু শাহ মেয়েকে নিয়ে রীতিমতো গর্বিত। কিন্তু একটা বিষয় বহুদিন ধরেই খচখচ করছে তার ভেতর।

মেয়ের মায়ের ব্যবহার কেমন যেন সন্দেহজনক। আমার মেয়ে বলে আদর করলে মেয়ের মা যেন সিঁটিয়ে যান। ব্যাপারটা কী! প্রতিদিনের এই খচখচানি দূর করতে একপর্যায়ে মেয়ের ডিএনএ টেস্টের জন্য সুকেতু মামলা করেন পারিবারিক আদালতে। ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন যখন এলো তখন বোকা বনে যান সুকেতু। মেয়েটি সত্যিই সুকেতু শাহের নয়।

এই একটি টেস্টই বদলে দিল শাহ পরিবারের যাবতীয় বাঁধন ও বিশ্বাস। এখন সুকেতু, তার স্ত্রী ও মেয়ে আলাদা থাকেন। ভেঙে গেছে পরিবারটি। পরকীয়ার শহরখ্যাত ভারতের গুজরাটে এটা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়।

গান্ধীনগরের ডিরেক্টরেট অব ফরেন্সিক সায়েন্সের (ডিএফএস) ডিএনএ পরীক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, বছরে প্রায় ২৫০টি এ ধরনের মামলা আসে। এর মধ্যে ৯৮ শতাংশ অর্থাৎ ২৪৫টি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, ডিএনএ রিপোর্ট নেগেটিভ। সোজা কথায় বললে, পিতৃত্ব নিয়ে সন্দেহের জন্য যারা পরীক্ষা করায় দেখা যায় তাদের সন্দেহই ঠিক। সন্তান তাদের ঔরসজাত নয়।

বিবাহ-বহির্ভূত সম্পর্ক গুজরাটেই বেশি বলে জানিয়েছেন ডিএফএস কর্মকর্তারা। সংস্থায় কর্মরত শোভা রাও বলেন, অনেক সময়ই বিয়ের আগেই শারীরিক সম্পর্ক তৈরি হয়। সে সময় মেয়েটি গর্ভবতী হয়। অনেক সময় সেই ব্যক্তির সঙ্গে বিয়ে হয় না। অথবা সেই ব্যক্তি মেয়েটির সঙ্গে প্রতারণা করে। ফলে গর্ভাবস্থা লুকিয়ে মেয়েকে পাত্রস্থ করা হয় অন্যত্র। ফলে এই জটিলতা তৈরি হয়।
বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সংখ্যাটাও ফেলে দেয়ার মতো নয়। অন্য এক ফরেনসিক কর্মকর্তা জানান, চোখের সামনে একাধিকবার দেখেছি, একটা প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কিভাবে ভেঙে যাচ্ছে একটা সাজানো পরিবার।