স্টাফ রিপোর্টার : ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া’। ফেসবুক ভিত্তিক এ সংগঠনটিতে কাজ করছে এক ঝাঁক স্বপ্নবাজ তরুণ-তরুণী। এদের চোখে সারাক্ষণ খেলা করে আধুনিক ও পরিচ্ছন্ন ব্রাহ্মণবাড়িয়া গড়ার স্বপ্ন। এ স্বপ্নকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রাণপন চেষ্টাও করে যাচ্ছেন তারা। শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে গত বছর গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পয়েন্টে ডাস্টবিন বসানো হয়েছিল সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

আগামী ৮ ডিসেম্বর ব্রাহ্মণবাড়িয়া মুক্ত দিবস। মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে ভিন্ন আঙ্গিকে দিবসটি পালনের জন্য প্রতি বছরের মতো এবারও জেলা শহরের একটি বিদ্যালয়ের দেয়াল (সীমানা প্রাচীর) বিজ্ঞাপন মুক্ত করে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সংগঠনটি।

‘রঙিন হবে আমাদের স্কুল’ কর্মসূচির আওতায় শহরের প্রাচীন বিদ্যাপিঠ অন্নদা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় ও গভ. মডেল গার্লস হাই স্কুলের দেয়াল (সীমানা প্রাচীর) বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপন মুক্ত করে এবার সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালে আঁকা হচ্ছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগাঁথা।

সোমবার বিকেলে শহরের গোকর্ণ সড়কে গিয়ে দেখা যায়, সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের দেয়ালের ব্লকে মুক্তিযুদ্ধের নানা স্মৃতি ও পাক হানাদারদের সঙ্গে মুক্তিকামী জনতার সম্মুখযুদ্ধের ছবি আঁকার কর্মযজ্ঞ চলছে। সারাবছর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিজ্ঞাপনে সয়লাব থাকা দেয়ালের ব্লকগুলো রঙ-তুলির আঁচড়ে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে।

এবার প্রায় ৫০টি ব্লকে ছবি আঁকা হচ্ছে। বেশিরভাগ ব্লকেই আঁকার কাজ শেষ হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের পাশাপাশি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ৭ই মার্চের ভাষণ ও ৫২’র ভাষা আন্দোলন, বদ্ধভূমি, ৭১’র চিঠি ও গণহত্যার ছবিও আঁকা হয়েছে।

প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত চলা চিত্রশিল্পীদের এ কর্মযজ্ঞ তদারকি করছেন ‘রঙিন হবে আমাদের স্কুল’ কর্মসূচির সমন্বয়ক কাজল সাহা ও সহ-সমন্বয়ক জেবিন ইসলাম। অঙ্কন সহযোগিতায় রয়েছে ‘শিশু নাট্যম’ নামে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আরেকটি সংগঠন।

আগামী ৮ ডিসেম্বর সকাল ৮টা ৮মিনিটে ‘রঙিন হবে আমাদের স্কুল’ কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন বাংলাদেশের প্রথম নারী এভারেস্ট জয়ী নিশাত মজুমদার, সাবেরা সোবহান সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নুরুজ্জামান চৌধুরী, মুক্তিযোদ্ধা সায়েরা বেগম, একাত্তর টেলিভিশনের বার্তা প্রধান সৈয়দ ইশতিয়াক রেজা, সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট সোলায়মান সুখন, ইউনিভার্সেল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. আশিষ কুমার চক্রবর্তী, জলের গান ব্যান্ড সদস্য রানা সারোয়ার, বাংলাদেশ জাতীয় দলের সাবেক ফুটবলার মনির ও ক্ষুদে গানরাজ বিজয়ী নুসরাত জুহুরি প্রান্তি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে আমরাই ব্রাহ্মণবাড়িয়া সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা বিবর্ধন রায় ইমন বলেন, আমরা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় আমাদের মুক্ত দিবস উদযাপন করতে চাই। আমরা মনে করি ‘রঙিন হবে আমাদের স্কুল’ কার্যক্রমের মাধ্যমে শুধুমাত্র একটি বিদ্যালয়ের দেয়াল কিংবা ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহর নয় বরং সমগ্র বাংলাদেশ রঙিন হয়ে উঠবে এবং বিজয়ের আনন্দে মেতে উঠবে।

বিদ্যালয়ের দেয়ালে দেয়ালে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিগাঁথা ছড়িয়ে দেয়ার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার হারুন অর রশীদ বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে আমি সংগঠটিকে সাধুবাদ জানাই। আমি অনেক শিশুকে দেখেছি রাস্তায় দাঁড়িয়ে বিদ্যালয়ের দেয়ালে আঁকা মুক্তিযুদ্ধের ছবিগুলো দেখছে। এই দৃশ্য একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে আমাকে আপ্লুত করেছে। এসব ছবি দেখেও নতুন প্রজন্ম মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জানতে পারছে।