সাংবাদিক জামাল খাশোগি হত্যার ঘটনায় বৈশ্বিক চাপের মুখে থাকা সৌদি আরবের বাদশাহ সালমান বিন আব্দুল আজিজ আল সৌদ দেশটির সর্বোচ্চ নীতি-নির্ধারণী পরিষদ ‘শুরা কাউন্সিলে’ বার্ষিক ভাষণ দিতে যাচ্ছেন। খাশোগি হত্যার পেছনে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের হাত রয়েছে বলে অভিযোগ উঠলেও তাকে নিয়েই দেশজুড়ে সফর শেষে শুরা পরিষদে বাদশাহ ভাষণ দেবেন বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সৌদি প্রেস অ্যাজেন্সি বলছে, সোমবার সৌদির নীতি-নির্ধারণী পরিষদে বাদশাহ আব্দুল আজিজ দেশটির অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতিমালার ব্যাপারে কথা বলবেন। একই সঙ্গে শুরা কাউন্সিলের কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন তিনি।

সাংবাদিক জামাল খাশোগিকে হত্যার নির্দেশ সৌদি যুবরাজ দিয়েছিলেন বলে মার্কিন কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএর এক প্রতিবেদনে উঠে আসার পর মার্কিন কংগ্রেসের সদস্যরা সৌদি আরবের নিন্দা জানান। মার্কিন কংগ্রেসের নতুন করে এই নিন্দা জ্ঞাপনের পরই সৌদির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারণী ফোরামে ভাষণ দিতে যাচ্ছেন বাদশাহ সালমান।

আরও পড়ুন : খাশোগির লাশ টুকরো করার ছবি ফাঁস

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর সমালোচক ও ক্যালিফোর্নিয়ার ডেমোক্রেট দলীয় প্রতিনিধি অ্যাডাম শিফ বলেছেন, ‘এটা এমন একটা অবস্থানকে পরীক্ষার মধ্যে ফেলেছে যে, আমাদের শত্রুর শত্রুই হচ্ছে আমাদের বন্ধু। আমাদের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায় যা বলতে চায়, তা প্রেসিডেন্টকে শুনতে হবে।’

ট্রাম্পের মিত্র সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম বলেন, ‘সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের মাঝে যুবরাজ একটি ধ্বংসাত্মক বলে পরিণত হয়েছে।’

সাউথ ক্যারোলিনার রিপাবলিকান দলীয় এই সিনেটর এনবিসি নিউজের মিট দ্য প্রেস অনুষ্ঠানে বলেন, ‘এটা বলতে ঘৃণা হচ্ছে যে, সৌদির সংস্কারক হিসেবে তাকে নিয়ে আমার প্রচুর আশা ছিল। কিন্তু সমাজ সংস্কারের এই জাহাজ এখন উদ্বেগের কারণ হয়েছে।’

আরও পড়ুন : খাশোগি হত্যার অডিও শুনবেন না ট্রাম্প

গ্রাহাম বলেন, তার সঙ্গে কাজ করার আর কোনো আগ্রহ আমার নেই। মার্কিন সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটির পরবর্তী চেয়ারম্যান হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে রয়েছেন ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লিন্ডসে গ্রাহাম।