নারায়নগঞ্জের পানামা নগরীর সম্পত্তী পেতে ঢাকায় সংবাদ সম্মেলন করেন বিশ্বনাথ চক্রবর্তী ।

19 November, 2018 : 10:11 am ১২৮

 

নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার ঐতিহাসিক পানাম নগরীর বাসিন্দা বিশ্বনাথ চক্রবর্তী তার পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরৎ অথবা ক্ষতিপুরন পাওয়ার দাবীতে অদ্য ঢাকা ক্রাইম রিপোটার্স মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলন করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন নারায়নগঞ্জ জেলার সোনারগাঁ থানার ঐতিহাসিক পানাম নগরীর সি.এস খতিয়ান নং ৪৪ এস.এ খতিয়ান নং ৪২ সি.এস ও এস এ দাগ নং ১৫০ আর.এস খতিয়ান নং ৫৪ দাগ নং ১৬৭ জমির পরিমান ২৩র শতাংশ জমি দ্বিতল বাড়ী সহ মালিক ছিলেন তার পিতা প্রাণ গোবিন্দ চক্রবর্তী। ১৯৬৪ সালের দাঙ্গায় পানাম নগরীর অধিকাংশ মানুষ নিহত হয়। তার পিতা পুজা পার্বন এর জন্য ঢাকায় অবস্থান করায় মুত্যুর হাত থেকে বেঁচে যান। স্বাধীনতা লাভের পর আবেদনকারীর পিতা উক্ত সম্পত্তিতে বসবাস করতে থাকেন; নিয়মিত সরকারী খাজনাদি দিয়ে আসতে থাকেন। অতপর সরকার তার সম্পত্তি সহ পানাম নগরীর সকল সম্পত্তি অর্পিত ও অনাবাসী ঘোষনা করলে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী নারায়নগঞ্জ জেলার যুগ্ম জেলা জজ ২য় আদালতে দেওয়ানী ১৪৫/২০০৩ দায়ের করেন। মোকদ্দমাটি দোতরফা সূত্রে ১০/০৫/২০০৫ ইং তারিখে বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি হয়। উক্ত রায় ও ডিক্রির বিরুদ্ধে সরকার জেলা জজ আদালতে দেওয়ানী আপীল ২৪৬/২০০৬ দায়ের করেন। উক্ত আপীলটি দোতরফা সূত্রে শুনানী অন্তে ৬/৯/২০০৭ ইং তারিখে খারিজ হয়। জেলা জজ আদালতে নি¤œ আদালতের রায় ও ডিক্রি বহাল রাখেন। অতপর সরকার উক্ত সম্পত্তি অর্পিত সম্পত্তির “খ” তফশিলভূক্ত করিয়া গেজেট প্রকাশ করিলে বিশ্বনাথ চক্রবর্তী অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন ট্রাইবুনালে ৯/২০১২ নং মামলা দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত সাক্ষ্য প্রমান গ্রহণ অন্তে দোতরফা সূত্রে ১০/০৪/২০১৪ ইং তারিখে উক্ত সম্পত্তি বিশ্বনাথ চক্রবর্তীর পক্ষে রায় ও ডিক্রি প্রদান ও অবমুক্তির আদেশ দেন। সরকার উক্ত আদেশের বিরুদ্ধে অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যার্পন আপীল ট্রাইবুনালে আপীল মোকদ্দমা নং ১৫/২০১৪ দায়ের করেন। বিজ্ঞ আদালত উভয় পক্ষেন শুনানী অন্তে সরকারের আপীল খারিজ করে দেয়। অতপর সরকার মহামান্য হাইকোর্টে রীট দায়েরের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। কিন্তু সলিসিটর রীট দায়েরে ফললাভ হবে না মর্মে মতামত জানালে সরকার কোন রীট দায়ের করেন নাই। অতপর বিশ্বনাথ চক্রবর্তী তার সম্পত্তি ফেরত দিতে ডিসি বরাবর আবেদন করলে সরকার সম্পত্তি ফেরত দেন নাই উপরন্তু উক্ত সম্পত্তি সহ পানাম নগরীর সকল বাড়ী সরকার ৭/৪/২০০৩ ইং তারিখে প্রতœ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে সংস্কৃতি মন্ত্রনালয়ে ন্যাস্ত করেছে।
এমতাবস্থায় বিশ্বনাথ চক্রবর্তী সংস্কৃতি মন্ত্রনালয় সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে ক্ষতিপুরন পাওয়ার জন্য আবেদন করেন। কিন্তু কোন ক্ষতিপুরন পান নাই। সম্পত্তিও ফেরৎ পান নাই। একাধিকবার সরাসরি সংস্কৃতি মন্ত্রীর সাথে দেখা করেও লাভ হয় নাই।
বিশ্বনাথ চক্রবর্তী একদিকে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায় তার সকল পরিজন হারিয়েছেন, পৈত্রিক সম্পত্তি ফেরৎ পাওয়ার জন্য দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যায় করেছেন। ১৫টি বছর আদালতের বারান্দায় আর বিভিন্ন সরকারী দপ্তরে দপ্তরে ঘুরেও কোন প্রতিকার না পেয়ে এখন তিনি নিঃস্ব ও সহায় সম্বলহীন। একটি ধনাঢ্য পরিবার থেকে আজ হত দরিদ্র হয়ে দিন যাপন করছেন। এমতাবস্থায় মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুদৃষ্টি পাবার আশায় সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তিনি সম্পত্তি ফেরনৎ বা ক্ষতিপুরন দাবী করেছেন।

[gs-fb-comments]