একই গ্রুপে তিন হেভিওয়েট। জার্মানি, ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডস। ফরাসিরা বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন। জার্মানরা চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং নেদারল্যান্ডস তিনবারের বিশ্বকাপ ফাইনালিস্ট। তিন হেভিওয়েটের মধ্যে একটি দলই উঠবে কেবল শেষ চারে।

ইউরোপিয়ান নেশন্স কাপের সেমিতে ওঠার লড়াইয়ে সোমবার রাতে জার্মানদের মুখোমুখি হয়েছিল নেদারল্যান্ডস। ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হওয়ার ফলে গ্রুপ থেকে শীর্ষস্থান নিয়ে শেষ চারে চলে গেলো ডাচরা। জার্মানরা আগেই বিদায় নিয়েছিল, সে সঙ্গে বিদায় নিল সদ্য বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হওয়া ফ্রান্স।

জার্মানি কোনো ম্যাচই জিততে পারেনি। অন্যদিকে চার ম্যাচের মধ্যে ২টি করে জিততে পেরেছে ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডস। কিন্তু শেষ ম্যাচে জার্মানদের সঙ্গে ড্র করে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করে নেয় ডাচরা। ড্র’য়ের ফলে ফ্রান্স এবং নেদারল্যান্ডসের পয়েন্ট হয়ে যায় সমান ৭ করে। কিন্তু গোল ব্যবধানে অনেক এগিয়েছিল ডাচরা। সুতরাং, বিদায় নিতে হলো এমবাপে-গ্রিজম্যানদের।

আগের ম্যাচেই বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হারিয়ে দিয়েছিল ডাচরা। যে কারণে পরের রাউন্ডে ওঠার বিষয়টা তাদের প্রায় নিশ্চিতই ছিল। কারণ, জার্মানির এখন যে অবস্থা, তাতে করে তাদেরকে হারানো খুব বেশি কঠিন কিছু ছিল না ডাচদের। তবুও ম্যাচটি তাদেরকে ড্র করতে হলো ২-২ গোলে।

অথচ ম্যাচের প্রথমার্ধে পরাজয়ের শঙ্কায় ভুগতে শুরু করেছিল ডাচরা। কারণ শুরুতেই দু’গোল দিয়ে এগিয়ে যায় জার্মানরা। ২০১৬ ইউরো, ২০১৮ ফুটবল বিশ্বকাপে যোগ্যতাঅর্জন করতে না পারা নেদারল্যান্ডস বদ্ধপরিকর ছিল উয়েফা নেশনস লিগে ভাল করা নিয়ে। সে কারণেই ম্যাচের শেষদিকে সেই দুই গোল শোধ করে পর্তুগাল, ইংল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ডের সঙ্গে নেদারল্যান্ডসও পৌঁছে গেল সেমিফাইনালে।

কেবল ড্রয়েই গ্রুপ শীর্ষ নিশ্চিত হলেও রোনাল্ড কোয়েম্যানের ছেলেরা জয়ের লক্ষ্যেই মাঠে নেমেছিল। যদিও ডাচদের সে আশায় প্রাথমিক ধাক্কা দেন টিমো ওয়ার্নার। ম্যাচের ৯ম মিনিটে সার্জ ন্যাবরির ফ্লিক ধরে বক্সের অনেকটা বাইরে থেকে দুরন্ত প্লেসিংয়ে ডাচ গোলকিপারকে পরাস্ত করেন ওয়ার্নার।

নেদারল্যান্ডসের চিন্তা বাড়িয়ে ১৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে বসেন লেরয় সেন। প্রথমার্ধে দু’গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয়ার্ধে ম্যাচে ফেরা রীতিমতো চ্যালেঞ্জ হয়ে দাড়ায় নেদারল্যান্ডসের সামনে। দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় জার্মানি। তবে প্রভাব বিস্তার করে খেললেও ৩য় গোলটি আরিআদায় করে নিতে পারেনি তারা।

গোলের খুব কাছে পৌঁছেও ডাচদের গোলমুখ খুলতে ব্যর্থ হন জার্মান ফুটবলাররা। এমন অবস্থায় যখন ২-০ তে ম্যাচ শেষ হওয়ার অবস্থা, তখনই ঘটে পট পরিবর্তন। প্রতিপক্ষের ব্যর্থতার সুযোগ নিয়ে দুর্দান্তভাবে ম্যাচে ফিরে আসে ডাচরা। ৮৫ এবং ৮৯ মিনিটে গোল করে দলকে ম্যাচে সমতায় ফিরিয়ে আনেন কুইন্সি প্রমেস এবং ভার্জিল ফন ডিক।

৮৫ মিনিটে মার্টেন ডি রুনের কাছ থেকে বল পেয়ে ডান পায়ের দারুণ এক শটে জার্মানির জালে প্রথম বল জড়ান প্রমেস। এক গোল শোধ করে আরও ক্ষেপাটে হয়ে ওঠে নেদারল্যান্ডস। যার ফলে তুমুল চাপ সৃষ্টি করে তারা জার্মান গোলমুখে এবং সাফল্যও পেয়ে যায়। ভার্জিল ফন ডিকের ডান পায়ের জোরালো শটে কেঁপে ওঠে জার্মানির জাল।

এই গোলেই সমতায় ফেরার পাশাপাশি সেমিফাইনাল নিশ্চিত হয় কোয়েম্যানের ছেলেদের। পর্তুগালে আগামী মাসে শেষ চারের লড়াইয়ে মুখোমুখি হবে তারা।